অপূর্ণতা (১)

বিজ্ঞাপন

আজ সে আসবে। দীর্ঘ অপেক্ষার প্রহর শেষে ১যুগ পর তার সাথে সামনাসামনি কথোপকথনের সুযোগ হবে। তাঁর চেয়ে বড় অদ্ভুত ব্যাপার সে নিজে থেকেই দেখা করতে চেয়েছে যা রোজার সময় প্রিয় পণ্যের উপর ডিসকাউন্টের সাথে তুলনা করলে ঠিক মন্দ হয় না।

আধুনিক দুনিয়ার বদৌলতে আজকালকার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম মানুষের সাথে যোগাযোগের সুযোগখানা ভালই তৈরি করে দিয়েছে।যা স্নিগ্ধর ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রম হয়নি । তা যায় হোক গত রাতে তাঁর এক বার্তার পরিপ্রেক্ষিতে
স্নিগ্ধ বলেছিল ঠিক আছে, বেলা ১২ ঘটিকায় দেখা করবো।

এখন দেখা করার মানুষ যদি বিশেষ কেউ হয় ছেলে হিসেবে অন্য সবার মতো নিজের সেরা পরিপাটি লুক টা নিয়ে যাওয়ার যে পরিকল্পনা আগের দিন হয়ে থাকে স্নিগ্ধর ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রম হয় নি।

আচ্ছা সে কি ফরমাল পছন্দ করে?নাকি এমনেই যাবো?নাকি দাঁড়িটা টিম করিয়ে নিবো?নাকি সে দাঁড়ি,বড় চুল পছন্দ করে?
এরকম হাজার টা অদ্ভুত প্রশ্নের বুলি নিজের হিয়ার সাথে নিজের কথোপকথন চলছিল তাঁর, যা একজন ছেলে হিসেবে যে কারো হওয়া টা অস্বাভাবিক না যা আগেই বলেছি। আসলে ব্যাপার টা সোজা কথায় ব্যক্ত করতে গেলে, এতদিন পর পছন্দের মানুষের সাথে দেখা হলে কে ই বা না চাই একটু ভাল ভাবে নিজের সেরা পরিপাটি দিয়ে দেখা করে অপর ব্যক্তির মস্তিষ্কের কোনও স্থানে নিজের নামের ছবিটা আঁকাতে?যায় হোক এসব ভাবতে ভাবতে হঠান নিদ্রা-দেবী স্নিগ্ধর ক্লান্ত চোখে পিচ-ঢালা মধ্য রাতের শহরের মতো স্থবিরতা নিয়ে এলো যা সূর্যের মনমোহিত রশ্মি তার চোখের উপর প্রকাশ পরার পর স্নিগ্ধ আবিষ্কার করলো
বহুল প্রত্যাশিত সেই সকাল চলে এলো। সুন্দর করে স্নান সেরে আলমারি থেকে পছন্দের কালো শার্ট টি আর নীল জিন্স।আয়নার মাধ্যমে নিজেকে নিজের সাধ্যমতো সেরা টুকু দিয়ে পরিপাটি করে নিলো

নির্দিষ্ট গন্তব্যে সময়ের আগেই পৌঁছে গেলো।গ্রীষ্মের কাঠফাটা রোদ তার উপর কালো শার্ট ব্যাপার টা পুরাই “ঘেঁটে ঘ “থেকে কোনও অংশে কম না।
তারপরেও পরিধান করার পিছনের কারণ ক্যাম্পাসের বন্ধুমহল থেকে শোনা কথার উপর বিশ্বাস রেখেই।এইতো সেদিন রাজু বলছিল তাঁকে শার্ট টা দুইদিনের জন্য দিতে এটাতে নাকি আমাকে ভাল মানিয়েছে তাঁকেও মানাবে এই ভেবে।

এদিকে বেলা গড়িয়ে চলছে। সে আসে না।
আচ্ছা কল দিবো?আহ সমস্যা হবে না তো আবার?আচ্ছা দিয়েই দি।মস্তিষ্কের সাথে হ্রদয়ের দ্বন্দ্বে হ্রদয় জয়লাভ করায় হ্রদয়ের কথা না শুনা ছাড়া কিছুই করার ছিল না স্নিগ্ধর।

ব্যস্ততার কথা বলে ২০ মিনিটের জায়গায় ৪০ মিনিট দাঁড়িয়ে থাকার শেষে মুঠোফোনের বেজে উঠলো চিরচায়িত সেই রিং টোন যা এতদিন সময়ের সাথে সাথে একঘুয়েমিতায় ভরপুর থাকলে সে সময়ে তাঁর কাছে সবচেয়ে সেরা সুর এটাই লেগেছিল।

(চলবে…)

বিজ্ঞাপন

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

আরও পড়ুন
Loading...
DMCA.com Protection Status