‘আমারা যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলার ক্ষমতা রাখি’

বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষ অত্যন্ত সাহসী এবং তারা যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করার মতো ক্ষমতা রাখে । আমরা করোনার সাথে সাথে ঝড়, বন্যা সবই মোকাবিলা করে যাচ্ছি। কাজেই এভাবেই আমাদের বাঁচতে হবে প্রকৃতির সাথে। কিন্তু আমাদের খাদ্য নিরাপত্তা যেন নিশ্চিত থাকে, প্রতিটি মানুষের ঘরে যেন খাবার পৌঁছায়। একটি মানুষও না খেয়ে থাকবে না, একটি মানুষও গৃহহীন থাকবে না। প্রত্যেকটা মানুষ চিকিৎসা সেবা পাবে, তাদের দৌড়গোড়ায় চিকিৎসা সেবা পাবে, তাদের দোরগোড়ায় চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দিচ্ছি এবং কোনো মানুষ পুষ্টিহীনতায় ভুগবে না সেটাই আমাদের লক্ষ্য।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দুপুরে বিশ্ব খাদ্য দিবস-২০২০ উপলক্ষ্যে আয়োজিত আন্তর্জাতিক সেমিনার উদ্বোধনের পূর্বে প্রধানমন্ত্রী একথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সেমিনারের উদ্বোধন করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, দরিদ্র মানুষদের বিনা পয়সায় খাবার দিয়ে যাচ্ছি। এটা অব্যাহত রাখব সব সময়। একটি মানুষও না খেয়ে থাকবে না। মানুষ যেন সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হয় সেটাই আমাদের লক্ষ্য। জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধামুক্ত বাংলাদেশ যেন গড়তে পারি সেটাই আমাদের লক্ষ্য।

তিনি বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে সমগ্র বিশ্ব স্থবির, এই সময় দুর্ভিক্ষের সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশে যেন এর প্রভাব না পড়ে, দেশের মানুষ যেন কষ্ট না করে সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমরা বিভিন্ন প্রণোদনা দিয়ে যাচ্ছি। সেজন্য আমরা যে প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা দিয়েছি তাতে আমাদের কৃষকরাই সব থেকে বেশি সুবিধা পাচ্ছে। যাতে করে তারা তাদের কাজগুলো ভালো করে চালাতে পারে। আমরা ইতিমধ্যে সাধারণ মানুষ, গরিব, নিম্নবিত্ত মানুষ যারা কোনো কাজ করতে পারে নাই তাদের জন্য প্রায় ২ হাজার ৫০৩ কোটি টাকার বরাদ্দ দিয়ে বিনামূল্যে খাদ্য বিতরণ করে যাচ্ছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনায় অনেকে হাত পেতে নেবে না তাই তাদের জন্য ১০টা কেজি দরে চাল বিক্রি করছি। এজন্য ২৫১ কোটি টাকা খরচ করছি। ৮৬০ কোটি টাকা কৃষকদের সহায়তায় দিচ্ছি। যাতে করে তাদের উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করতে পারেন। কৃষিকে যান্ত্রিকীকরণ করার জন্য বিশেষ বরাদ্দ দিয়ে যাচ্ছি। এক্ষেত্রে ৩ হাজার ২২০ কোটি বরাদ্দ রেখেছি। কৃষকদের খুব অল্পমূল্যে যেন কৃষি যন্ত্রপাতি ক্রয় করতে পারে। কৃষি সহায়তার জন্য ৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বিশেষ অর্থ বরাদ্দ দিয়েছি কৃষি সহায়তা হিসেবে। যাতে কৃষক উৎপাদনে উৎসাহ না হারায়।

সরকারের গৃহিত পদক্ষেপ তুলে ধরে তিনি বলেন, করোনা দুর্যোগের সময় আমরা প্রণোদনা দিয়েছি। আমাদের জিডিপির প্রায় ৪ শতাংশ প্রণোদনা দিচ্ছি। কৃষকদের ৫ হাজার কোটি টাকা কৃষি প্রণোদনা শুধু করোনাকালীন সময়ে দিয়েছি। আমরা ১ লাখ ১২ হাজার ৬৩৩ কোটি টাকা প্রণোদনা দিয়েছি দেশের অর্থনীতির চাকা যেন সচল থাকে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভূখণ্ডের দিক থেকে বাংলাদেশ আসলে খুবই ছোট মাত্র ১৪৭ বর্গ কিলোমিটার ভূমি, মানুষের সংখ্যা ১৭ কোটির কাছাকাছি। এই মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা দেওয়াটা সব থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সেদিকে লক্ষ্যে রেখেই জাতির পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করেই আমরা বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছি এবং তা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি যেন আমাদের খাদ্য উৎপাদন সব সময় বৃদ্ধি পায়।

শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৯৬ সালে আমরা যখন সরকার গঠন করি ২৪ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য ঘাটতির দেশ বাংলাদেশ। আর সেই দেশে খাদ্য উৎপাদন করে ২০০১ সালে যখন আমাদের ৫ বছর পূর্ণ করি তখন ২৬ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য উদ্বৃত্ত রেখে যাই, অর্থাৎ ৪০ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য ঘাটতি পূরণ করেও অতিরিক্ত ২৬ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য রেখে গিয়েছিলাম। বাংলাদেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছিলাম। জাতির পিতার নেতৃত্বে বাংলাদেশ ১৯৭৩ সালে ‘এফএও’ সদস্য পদ লাভ করে। আর আমরা ৯৬ সালে অর্থাৎ ৭৫ জাতির পিতার হত্যার পর বাংলাদেশ আর এগুতে পারেনি। কারণ ’৭৫ সালে যারা সরকার গঠন করেছিল, সামরিক শাসকরা, তাদের একটা লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশ পরনির্ভরশীল হয়ে থাক; সেটাই তারা চেয়েছিল।

তিনি বলেন, মোবাইল ফোন আগে মানুষের হাতে ছিল না। আমরা এটাকে উন্মুক্ত করে দিয়েছি। আজকে সকলের হাতে মোবাইল ফোন, কৃষকের হাতেও মোবাইল ফোন। কৃষকদের সহায়তা করার জন্য প্রায় ২ কোটি ১০ লাখ কৃষক উপকরণ কার্ড পাচ্ছে। উপকরণ সহায়তা ব্যাংকের মাধ্যমে তাদের অ্যাকাউন্টে চলে যায়। প্রায় ১ কোটি ৭০ হাজার ১৪৩ জন কৃষকের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট রয়েছে। তাদের আর কারো কাছে ধন্না দিতে হয় না, এই অর্থের জন্য।

তিনি বলেন, আমরা জাতীয় কৃষি সম্প্রসারণ নীতি ২০২০ প্রণয়ন করেছি, নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৩, সামুদ্রিক মৎস্য আইন ২০২০, সমুদ্রসীমায় অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছি।সুনীল অর্থনীতি এই সম্পদটা আমাদের দেশের কাজে লাগাতে পারি সেই ব্যবস্থা নিয়েছি। খাদ্য নিরাপত্তার পাশাপাশি পুষ্টি নিরাপত্তার দিকে বিশেষ দৃষ্টি দিয়েছি। সে কারণে মৎস্য উৎপাদন, মাংস, ডিম, তরি-তরকারি সবজি সবকিছুর যেন উৎপাদন বৃদ্ধি পায় তার জন্য গবেষণা করে করে আমরা উৎপাদন বৃদ্ধি করেছি, যেন মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে থাকে সে ব্যাপারে নিশ্চয়তা দিচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, ১৯৯৬ সাল থেকে আমরা কৃষি গবেষণার ওপর গুরুত্ব দেই, সেই গবেষণার মাধ্যমে আজকে লবণাক্ত সহিষ্ণু পরিবেশবান্ধব খাদ্য যাতে উৎপাদন অর্থাৎ খড়া সহিষ্ণু, এবং জলমগ্নতা সহিষ্ণু ধান উৎপাদনে কৃষি বিজ্ঞানীরা যথেষ্ট সাফল্য অর্জন করে যাচ্ছে। তাদের গবেষণার ফলে ৬৫৫টি উন্নত ফলনশীল এবং বৈরী পরিবেশ সহনশীল ফসল উদ্ভাবন করেছেন তারা। এছাড়া ৫৫১টি প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা হয়েছে। ডিজিটাল পদ্ধতির মাধ্যমে কৃষকরা সব রকম সুবিধা পাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

আরও পড়ুন
Loading...
DMCA.com Protection Status