আসছে জনসন উদ্ভাবিত এক ডোজের টিকা

বিজ্ঞাপন

ফাইজার ও মডার্নার চেয়ে জনসন উদ্ভাবিত টিকা দামে কম, সংরক্ষণপ্রক্রিয়াও সহজ। আগের টিকা দুটি সংরক্ষণে উচ্চমাত্রার ফ্রিজার প্রয়োজন হলেও সাধারণ রেফ্রিজারেটরেই রাখা যাবে জনসনের টিকা।

জনসন অ্যান্ড জনসন উদ্ভাবিত করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকায় অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন দপ্তর (এফডিএ)। করোনা থেকে সুরক্ষা পেতে অন্যান্য টিকা দুই ডোজ নেয়া বাধ্যতামূলক হলেও এই টিকা এক ডোজ নিলেই চলবে বলে জানিয়েছেন উদ্ভাবকেরা।

করোনা প্রতিরোধী এটা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানের তৃতীয় টিকা। এর আগে আরও দুটি টিকা আনে দেশটির দুই প্রতিষ্ঠান ফাইজার ও মডার্না।

বিবিসি লিখেছে, ফাইজার ও মডার্নার চেয়ে জনসনের টিকা দামে কম, সংরক্ষণ প্রক্রিয়াও সহজ। আগের টিকা দুটি সংরক্ষণে উচ্চ মাত্রার ফ্রিজার প্রয়োজন হলেও সাধারণ রেফ্রিজারেটরেই রাখা যাবে জনসনের টিকা।

জনসনের টিকার ট্রায়ালে দেখা গেছে, এটি করোনাজনিত জটিল অসুস্থতা রোধ করতে পারে। তবে সার্বিকভাবে টিকাটির কার্যকরতা ৬৬ শতাংশ।

টিকাটি মূলত উদ্ভাবন করেছে বেলজিয়ান ফার্মাসিউটিক্যালস জ্যানসেন, যার মালিকানায় রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান জনসন অ্যান্ড জনসন।

প্রতিষ্ঠানটির টিকা পেতে এরই মধ্যে অনেক দেশ আগ্রহ প্রকাশ করেছে। চলতি বছরের জুনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারকে ১০ কোটি ডোজ টিকা দিতে সম্মত হয়েছে জনসন অ্যান্ড জনসন। আগামী সপ্তাহ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে এর প্রয়োগ শুরু হতে পারে।

জনসনের টিকার অর্ডার দিয়েছে যুক্তরাজ্য, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ও কানাডা। জরুরি অবস্থায় এই টিকা ব্যবহারে অনুমোদন দিয়েছে বাহরাইন। এর বাইরে দরিদ্র দেশগুলোর জন্য কোভ্যাক্স প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ৫০ কোটি ডোজ টিকা দেবে প্রতিষ্ঠানটি।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধী আরও একটি টিকার খবরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। বলেছেন, এটা সব আমেরিকানের জন্য উজ্জীবিত হওয়ার খবর। তবে করোনা যুদ্ধ শেষ হতে এখনও অনেক পথ বাকি।

বাইডেন বলেন, ‘যদিও আজকের সুসংবাদটা আমরা উদযাপন করছি, তবু সব আমেরিকানের প্রতি আমার আহ্বান, আপনারা হাত ধুবেন, সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলবেন এবং সব সময় মাস্ক পরবেন।

‘আমি অনেকবার বলেছি, পরিস্থিতি আবার খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কেননা, করোনার নতুন ধরন ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে বর্তমান অগ্রগতি খারাপের দিকে মোড় নিতে পারে।’

দক্ষিণ আফ্রিকা অনুমোদনের আগেই চলতি মাসের শুরু থেকেই জনসনের টিকা প্রয়োগ শুরু করেছে। দেশটি প্রথমে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা উদ্ভাবিত কোভিশিল্ড টিকা প্রয়োগ করতে যাচ্ছিল। কিন্তু পরে জানায়, করোনার নতুন ধরনে কোভিশিল্ড কাজ করে ‘সামান্যই’। আর দক্ষিণ আফ্রিকার করোনায় আক্রান্তদের মধ্যে বেশির ভাগই নতুন ধরনে সংক্রমিত।

জনসনের টিকার ট্রায়াল হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ব্রাজিলে। এতে দেখা গেছে, টিকাটি করোনাজনিত জটিল অসুস্থতা দমনে ৮৫ শতাংশ কার্যকর। আর মাঝারি মাত্রার অসুস্থতা দমনে কার্যকর ৬৬ শতাংশ।

ট্রায়ালে যারা টিকা নিয়েছেন, তাদের কারও মৃত্যু হয়নি। এমনটি টিকা নেয়ার ২৮ দিন পরও কাউকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়নি।

বিজ্ঞাপন

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

আরও পড়ুন
Loading...
DMCA.com Protection Status