করোনায় ধর্মের মানবতার দৃষ্টান্ত

বিজ্ঞাপন

করোনাকালে ভারতে চরম অক্সিজেন সংকট চলছে। হাসপাতালের এক একটি বেড হয়ে উঠছে অতি আকাঙ্ক্ষিত বস্তু। মহামারীর এই থাবা সামলাতে যখন হিমশিম খাচ্ছে পুরো পৃথিবী, ঠিক এই সময়ে জাতি-বর্ণ ভুলে, মানবতার সেবায় এগিয়ে আসছেন নানান ধর্মের মানুষ। ধর্মীয় উপাসনালয় গুলোতে স্থাপিত হচ্ছে অস্থায়ী চিকিৎসা কেন্দ্র। সেসকল অস্থায়ী হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন সকল ধর্মের মানুষ।

উদ্যোক্তারা বলছেন, মহামারির এ সময়েই ধর্মের মানবতাকে ফুটিয়ে তোলা সম্ভব। এতে মানবতার এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন হচ্ছে।

জাহাঙ্গীরনগর মসজিদের ভেতর বাইরে দৃশ্য

গুজরাটের ভাদদারা জাহাঙ্গীরনগর মসজিদ রূপ নিয়েছে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট করোনা হাসপাতালে। সেখানের মসজিদ কমিটির লোকেরা বলেন অক্সিজেন ও বেডের সংকট থাকার কারণে মসজিদেই গড়ে তোলা হয়েছে করোনার হাসপাতাল। এছাড়াও তারা আরও বলেন রমজান মাসে এর চেয়ে বড় পুণ্যের কাজ আর কী হতে পারে।

এছাড়াও সংকটের সময়ে রোগীদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে গাজিয়াবাদ শহরের শিখদের মন্দির গুরুদুয়ারা। শিখ এইড গ্রুপ ‘খালসা হেল্প ইন্টারন্যাশনাল’এর কর্মকর্তারা জানান, অল্প অল্প অক্সিজেন কিনে যাদের জরুরি ভিত্তিতে অক্সিজেনের প্রয়োজন তাদের দেওয়া হচ্ছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে জানা যায় দিল্লির কাছে গাজিয়াবাদ শহরের গুরুদুয়ারার সামনে রাস্তার দৃশ্য দেখলে শিউরে উঠতে হয়।

গাজিয়াবাদে গুরুদুয়ারায় অক্সিজেন সেবা দিচ্ছেন শিখরা। ছবি: রয়টার্স

গত শনিবার মন্দিরের বাইরে রাস্তায় গাড়ি, ভ্যান ও রিকশায় থাকা কোভিড -১৯ রোগী ও পরিবারের সদস্যদের ভিড় দেখা যায়। কালো অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে স্বেচ্ছাসেবীরা ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা রোগীদের সাহায্যের জন্য ছুটে চলেছেন।

হাসপাতালে সিট না পাওয়া এক রোগীর ছেলে বলেন ‘আমি অন্য কোথাও সাহায্য না পেয়ে এখানে এসেছি। আমি গুরুদুয়ারায় ফোন করেছিলাম। তারা দ্রুত মাকে নিয়ে এখানে চলে আসতে বলেছে।’

গুরুদুয়ারার বাইরের রাস্তাটি যেন হাসপাতালের কোনো জরুরি ওয়ার্ড। হাসপাতালের শয্যার জায়গায় এখানে আছে সারি সারি গাড়ি। হাসপাতালে উপচে পড়া ভিড় ও অক্সিজেন সংকটের মধ্যে রোগীরা শ্বাস নিতে এখানে ছুটে আসছেন।

গুরুদুয়ারার সভাপতি ও খালসা হেল্প ইন্টারন্যাশনালের প্রতিষ্ঠাতা রুমি জানান, নয়াদিল্লিতে সংক্রমণ বাড়তে থাকায় তিন দিন আগে তিনি এই সেবা কার্যক্রম শুরু করেন। তিনি বলেন, ‘মানুষ রাস্তায় মারা যাচ্ছে। সে কারণেই আমরা এটা শুরু করেছি।’

রুমির অনুমান অনুযায়ী, শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ৩৬ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে খালসা হেল্প ইন্টারন্যাশনাল গ্রুপ প্রায় ৭০০ রোগীকে অক্সিজেন দিয়ে বাঁচিয়েছে। কিন্তু অনেককেই বাঁচানো যায়নি।

বিএপিএস শ্রী স্বামী নারায়ণ মন্দিরে চিকিৎসা কার্যক্রম। ছবি: ইন্টারনেট

গুজরাটের ভাদদারায় বিএপিএস শ্রী স্বামী নারায়ণ মন্দির পরিণত হয়েছে ৩০০ বেডের করোনা হাসপাতালে। সেখানে আশ্রয় দেয়া হচ্ছে সেসকল রোগীদের যারা হসপিটাল গুলোতে যায়গা পাননি। অক্সিজেন থেকে শুরু করে ভ্যান্টিলেটরসহ সকল ধরনের ব্যবস্থা করা হয়েছে সেখানে। এছাড়াও আলাদা ঘর তৈরি করা হয়েছে সমস্ত মেডিক্যাল কর্মীদের জন্য। সেখানে যতজন আছেন তাদের জন্য তৈরি করা হচ্ছে খাবার এবং তাদের সুস্থতার দিকে নজর রাখা হচ্ছে এবং সমস্ত খরচ বহন করছে মন্দির কমিটি।

মন্দির কমিটি জানিয়েছেন এখনো পর্যন্ত ৩০০ বেডের ব্যবস্থা করা হলেও প্রয়োজনে তা ৫০০ বেড পর্যন্ত বর্ধিত করা হবে। সেখানে একটি ঔষধের দোকানও খোলা হয়েছে, রাখা হয়েছে সকল ধরণের সুযোগ সুবিধা যাতে কোভিড আক্রান্ত রোগীদের কোনো ধরণের সমস্যার সম্মুখীন না হতে হয়।

এছাড়াও ভারতের বিভিন্ন স্থানীয় ধর্মীয় উপাসনালয়কে চিকিৎসা সেবা কেন্দ্রে পরিণত করেছেন বিভিন্ন ধর্মের মানুষেররা। জাতপাতালে বিবেদ ভুলে সবাই একসাথে লড়াই করছেন মহামারি করোনার বিরুদ্ধে। করোনাকালে বিশ্বব্যাপী যে সংকট সৃষ্টি হয়েছে তাতে জাত-ধর্ম নির্বিশেষে মানুষ পরিচয়কে মুখ্য করে তোলা আমাদের আশান্বিত করে ভবিষ্যত পৃথিবীর ব্যাপারে।

সংকলন: রিজওয়ানা আক্তার মারিয়াম

তথ্যসূত্র: রয়টার্স, টাইমস অব ইন্ডিয়া, গুজরাট সমাচার

বিজ্ঞাপন

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

আরও পড়ুন
Loading...
DMCA.com Protection Status