করোনায় বাংলাদেশে বেড়েছে নারী নির্যাতন: বাড়তে পারে হত্যাকাণ্ড ও আত্মহত্যা

বিজ্ঞাপন

করোনাভাইরাস সংকটে বাংলাদেশে ব্যাপকহারে নারী নির্যাতন বেড়ে গেছে। অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাবে সারাবিশ্বে ঘরোয়া সহিংসতা আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাওয়া আত্মহত্যা কিংবা হত্যাকাণ্ড বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। যার ফলে কোভিড-১৯ মোকাবিলা পরিকল্পনায় নারী সহিংসতা প্রতিরোধের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করা জরুরী বলে মনে করছেন নারী অধিকার কর্মীরা।

নারীর প্রতি সহিংসতার বড় উদাহরণটি সাম্প্রতিক ফেসবুক লাইভে এসে স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা। গুরুত্বর অভিযোগ না হলে এই সংকটাপন্ন পরিস্থিতিতে আইনের আশ্রয় নিতে পারছেন না বেশিরভাগ নারী। শারীরিক নির্যাতনের পাশাপাশি নির্যাতনকারী স্বামী কিংবা পরিবারের অন্যান্য পুরুষ সদস্য লাগাতার ঘরে অবস্থানে মানসিক নির্যাতনও বেড়ে গেছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এর তথ্যে স্বাভাবিক সময়ে দেশে নারী নির্যাতনের হার ৭২ দশমিক ৬ শতাংশ। বিবাহিত নারীদের ৮২ শতাংশই স্বামীর হাতে কোনো না কোনো ধরনের নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। নির্যাতনের এই হার করোনা পরিস্থিতিতে কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

করোনাভাইরাসের উদ্ভব পরিস্থিতিতে নির্যাতনের এই হার দ্বিগুণ হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের দাবি নারী পুরুষ ২৪ ঘণ্টা ঘরে অবস্থান করায় পুরুষতান্ত্রিকতার ভয়াবহ রূপ নারীর উপর প্রভাব তৈরির সুযোগ পাচ্ছে। বিবাহিত নারীরা বেশি বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। লকডাউন থাকায় নারী নির্যাতনের ঘটনা প্রকাশ পাচ্ছে না। অনেক বড় ঘটনায়ও আইনের আশ্রয় নেয়য়ার সুযোগ হচ্ছে না নারীরা।

ব্র্যাকের হিসেবে মার্চের ১৬ তারিখ থেকে এপ্রিল ১৫ তারিখ পর্যন্ত তাদের কাছে গুরুতর নারী নির্যাতনে ২ শতাধিক কেস এসেছে। তাদের বেশিরভাগের বিবরণ শুনে করোনার প্রভাব অনুধাবন করা গেছে।

ব্র্যাকের হিউম্যান রাইট এন্ড লিগ্যাল এইড সার্ভিসের পরিচালক এসকে জেনিফা কে জব্বার বলেন- ‘ নারী পুরুষের সার্বক্ষণিক ঘরে অবস্থান করার কারণে এই নির্যাতন বেড়েছে। আমাদের কাছে প্রায়ই ফোন কল আসে। এসব নির্যাতনের ঘটনায় আইনি সহায়তা নেয়া সম্ভব হচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে এফআইআর করতে গেলেও নারীরা সহায়তা পাচ্ছে না।

এই ব্যাপারে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার কৃষ্ণপদ রায় বলেন- আদালত বন্ধ থাকায় মামলা করার সুযোগ কমেছে। সেক্ষেত্রে পুলিশের কাছে আসার সুযোগ রয়েছে। ঢাকায় নারী নির্যাতনের ঘটনায় মামলার হার কমেছে। তবে অভিযোগ তাদের কাছে আসতেছে বলে জানান তিনি।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক শিপা হাফিজা বলছেন এসব ঘটনায় পুলিশের সহায়তা নেয়ার সুযোগ কম। তিনি বলেন- মহামারির মধ্যে নারীকে বের হয়ে আসা সম্ভব হচ্ছে না। এই নির্যাতনের ব্যাপারে নারী প্রকাশ্যে অভিযোগ করতে পারে না। হেল্প লাইনগুলো বেশিরভাগ ব্যস্ত। পুলিশও তাদের ব্যস্ততা দেখিয়ে অভিযোগ নিচ্ছে না।

এদিকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, কিছু কিছু দেশে নারীদের সহায়তা চাওয়ার হার দ্বিগুণ হয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রে ঘরোয়া নির্যাতনের শিকার হয়ে সাহায্যের জন্য ফোনকল আসা বেড়ে গেছে, লকডাউনের প্রথম সপ্তাহেই ভারতে নারী নির্যাতন প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে, তুরস্কে সবাইকে ঘরে থাকার নির্দেশনা দেয়ার পর থেকে নারী-হত্যার হার বেড়েছে, দক্ষিণ আফ্রিকায় লকডাউনের প্রথম সপ্তাহে অন্তত ৯০ হাজার লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার অভিযোগ এসেছে।

অস্ট্রেলীয় সরকারের কাছে অনলাইনে সাহায্য প্রার্থনার হার বেড়েছে ৭৫ শতাংশ, এক সপ্তাহে ফ্রান্সে ঘরোয়া নির্যাতন বেড়েছে প্রায় ৩২ শতাংশ। সে হিসেবে বাংলাদেশে নারীর প্রতি সহিংসতার আরও বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে।


সংবাদ২৪/এমসি

বিজ্ঞাপন

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

আরও পড়ুন
Loading...
DMCA.com Protection Status