করোনায় যে ১০ মহাসঙ্কটের সম্মুখীন বাংলাদেশ!

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণের তিন মাস পূর্তি হলো আজ এবং করোনা সংক্রমণ যত দীর্ঘায়িত হচ্ছে ততই বাংলাদেশে নানারকম সঙ্কট ঘনীভূত হচ্ছে এবং একটি সর্বগ্রাসী সঙ্কট তৈরি হচ্ছে। আর এইজন্যেই বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে আমাদের জীবন-জীবিকা একসাথে সালানোর যে কৌশল, সেই কৌশল পরিবর্তন করতে হবে।

অন্তত কিছুদিনের জন্য হলেও জীবনের জন্য সবকিছু কঠোরভাবে বন্ধ করে দিয়ে আমাদের অর্থনীতির চাকাকে সচল করতে হবে। কারণ করোনার সঙ্গে বসবাস করে অর্থনীতিকে সচল করার যে কৌশল নেওয়া হয়েছিল, গত ১ সপ্তাহে সেই কৌশলের সফলতা নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছে। বরং কিছু কিছু সঙ্কট আরো ঘনীভূত হয়েছে। গত তিন মাসে বাংলাদেশ যে সঙ্কটগুলোর সম্মুখীন হচ্ছে সেগুলো একটু দেখে নেওয়া যাক-

  • ১. স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম

বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণের তিন মাসে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। হাসপাতালগুলোতে জায়গা নেই। করোনা রোগীদের চিকিৎসা করার মতো পর্যাপ্ত আইসিইউ নেই, অক্সিজেন সঙ্কট দেখা দিয়েছে। শুধু করোনা রোগী নয়, অন্যান্য রোগীদের চিকিৎসা সেবাও বন্ধ হয়ে গেছে। প্রসূতি সেবা প্রায় বন্ধ এবং যারা জটিল রোগে আক্রান্ত, যেমন হৃদরোগ, স্ট্রোক, ডায়াবেটিস, কিডনী বা ক্যান্সার- তাঁদের চিকিৎসাও একটি গভীর সঙ্কটের মুখে পড়েছে। এই বাস্তবতায় আমাদের চিকিৎসা ব্যবস্থাকে পুনোরুদ্ধার করা একটি বড় ধরণের চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

  • ২. বেকারত্ব বাড়ছে

গত তিন মাসে বাংলাদেশে কত বেকার হয়েছে তা নিয়ে কোন সুষ্ঠ হিসেব নেই। তবে বাংলাদেশে গত তিন মাসে কর্মজীবী মানুষের অন্তত ২৫ থেকে ৩০ ভাগ মানুষ চাকরি হারিয়েছেন বলে মনে করছেন উন্নয়ন সংস্থা ব্রাক। তাঁদের গবেষণায় বলা হয়েছে যে এই সংখ্যা আরো বাড়তে পারে এবং তাঁরা আশঙ্কা করছে যে, বাংলাদেশে প্রায় দেড় কোটি মানুষ বেকার হতে পারে। ইতিমধ্যেই বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে ছাঁটাই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং এই বেকারত্ব একটি নতুন সঙ্কটের সামনে দেশকে ঠেলে দিচ্ছে।

  • ৩. গার্মেন্টসের সঙ্কট

গার্মেন্টস শিল্পগুলো উভয় সঙ্কটে পড়েছে। একদিকে তাঁদের যেমন রপ্তানি আয় কমেছে অবিশ্বাস্যভাবে। আবার অন্যদিকে এই রপ্তানি আয় কমিয়ে তাঁরা শ্রমিক ছাঁটাইয়ের মতো নির্ম সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে। এর ফলে একদিকে শ্রমিক অসন্তোষ যেমন বাড়বে, অন্যদিকে অনেক গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়য়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

  • ৪. অভিবাসী শ্রমে ধ্বস

করোনা সঙ্কটের পর ইউরোপ-আমেরিকা থেকে প্রচুর মানুষ বাংলাদেশে ফিরেছে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে অনেক অভিবাসী দেশে ফিরেছে। এরা ভবিষ্যতে কবে যাবে, কিভাবে যাবে সেটা নিয়ে একটি নিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে এবং করোনা সংক্রমণ দীর্ঘমেয়াদী হলে বাংলাদেশের অভিবাসন খাতে একটি বড় ধরণের ধ্বস নামবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

  • ৫. দারিদ্রতা বাড়ছে

বাংলাদেশে গত ৩ মাসে দারিদ্রতা বেড়েছে এবং সিপিডি প্রাক্কালন করেছে যে, করোনার কারণে দারিদ্রসীমা বেড়ে শতকরা ৩৫ শতাংশ হতে পারে। এই হিসেবকে অতিরঞ্জিত বলে মনে করছেন অনেকে। কিন্তু বাস্তবে যাই হোক না কেন, বাংলাদেশে দারিদ্রতার হার যে ভবিষ্যতে বাড়বে এবং এটা যে নতুন সঙ্কট তৈরি করবে তা বলাই বাহুল্য।

  • ৬. মধ্যবিত্তের নাভিশ্বাস

করোনা সঙ্কটে সবথেকে নাজুক অবস্থায় পড়েছে মধ্যবিত্ত। মধ্যবিত্তদের আয় না বাড়লেও ব্যয় বেড়েছে এবং উপাজর্নের পথগুলো বন্ধ হয়েছে। তাঁরা রাস্তায় দাঁড়িয়ে ত্রাণ নিতে পারছে না, অনেকে ধারকর্য করে চলছেন, ফলে কঠিন এক পরিস্থিতির মধ্য পড়েছে মধ্যবিত্তরা।

  • ৭. শিক্ষায় সঙ্কট

দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ। এইসএসসি পরীক্ষা হয়নি, উচ্চশিক্ষায় স্থবিরতা চলছে, এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল দেওয়া হলেও কলেজে ভর্তি হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। স্বাভাবিকভাবে শিক্ষায় একটি সেশনজট এবং বড় ধরণের সঙ্কট তৈরি হয়েছে।

  • ৮. রপ্তানি আয়ে ধ্বস

গত ৩ মাসে দেশের রপ্তানি আয়েও বড় ধরণের ধ্বস নেমেছে। শুধু গার্মেন্টস খাতে নয়, অন্যান্য রপ্তানিমূখী পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রেও একটি ভাটার টান লক্ষ্য করা যাচ্ছে এবং এটা আমাদের অর্থনীতির উপর একটি ভয়ঙ্কর নেতিবাচক প্রভাব তৈরি করবে।

  • ৯. শিল্প উদ্যোক্তরা ভালো নেই

যারা শিল্প উদ্যোক্তা, গত ১১ বছরে যারা বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন, তাঁরাও এখন ভালো নেই। কারণ সামনের দিনগুলোতে কিভাবে কাজ হবে, দেশের বাজার সঙ্কুচিত হচ্ছে- এই সকল বিষয় নিয়ে তাঁরা উদ্বিগ্ন এবং নতুন বিনিয়োগে অনুৎসাহী।

  • ১০. অনিশ্চয়তায় দেশের মানুষ

সার্বিকভাবে দেশের মানুষ এখন অনিশ্চয়তায় রয়েছে। তাঁরা জানেনা সামনের দিনগুলোতে কি হবে, আরো কত খারাপ পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে। আর এই সমস্ত সঙ্কটগুলো থেকে চটজলদি বাংলাদেশ বেরিয়ে আসবে এমন কোন আশাবাদও দেখা যাচ্ছেনা।

#সংবাদ২৪/মাহমুদ

বিজ্ঞাপন

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

আরও পড়ুন
Loading...
DMCA.com Protection Status