করোনা নাকি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, কোনটা বেশি ক্ষতিকর?

বিজ্ঞাপন

মন্ত্রণালয়ের অব্যবস্থার কারণে করোনা ছাড়াও অন্যান্য রোগের চিকিৎসা পেতে হন্যে হয়ে ঘুরতে ঘুরতে মানুষ মরছে। করোনা যখন ছিল না তখন কি আমাদের হাসপাতালগুলো খালি ছিল? কত হাজার হাজার রোগী চিকিৎসার জন্য ভারত যেত? কত শত রোগী চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর থাইল্যান্ডে যেত? তাদের অবস্থা এখন কি? বিশেষ করে ক্যান্সারসহ অনেক দুরারোগ্য রোগে ভোগা রোগীদের এখন কি অবস্থা? এই চোরেরা তো দেশে এইসব রোগের ন্যূনতম চিকিৎসার ব্যবস্থাও রাখেনি।

এমনিতেই আমাদের স্বাস্থ্য খাতে পুরো এশিয়ার মধ্যে সর্বনিম্ন বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়। আর সেই স্বল্প বাজেটের বৃহদাংশ আমাদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের চোর কর্মকর্তাগুলো লোপাট করে গেছে বছরের পর বছর। গতকাল কালেরকণ্ঠে যেই রিপোর্ট এসেছে সেটাতো টিপ অফ দি আইসবার্গ কেবল। এর আগেও তাদের দুর্নীতির কিচ্ছা সম্বলিত আরো অনেক রিপোর্ট দেখেছি। পত্রিকায় পড়েছি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সামান্য এক কেরানির কত হাজার কোটি টাকার সম্পদ। ভেবে দেখুন তাহলে তার উপরের কর্মকর্তা বা মন্ত্রীরা কি পরিমাণ কামিয়েছে? অথচ করোনা আসার পর সামান্য দামের মাস্ক ও পিপিই পর্যন্ত পায়নি।

গতকাল আমেরিকার বিভিন্ন শহরে দেখছি সেনা নামাতে। প্রত্যেক সেনা মাস্ক ও নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নিয়ে রাস্তায় নেমেছে। তাদের ডাক্তাররা পর্যাপ্ত মাস্ক এবং পিপিইসহ অন্যান্য সুবিধা পেয়েছে। আর আমাদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা supplierদের সহযোগিতায় দুই নম্বর মাস্ক ও পিপিই বেশি দামে কিনে ডাক্তারদের দিয়েছে। কিন্তু এই দেশে চোর লুটেরাদের বিচার হয় না। ফলে তারা স্বাস্থ্য সরঞ্জাম কেনার নামে এই করোনা দুর্যোগের মধ্যেই এডিবি ও অন্যান্য সংস্থার ঋণের টাকায় একটি প্রজেক্ট বাগিয়ে নিয়েছে। সেখানে ২০০ কোটি টাকার স্বাস্থ্য সরঞ্জাম যেমন মাস্ক, বুট, পিপিই কেনার জন্য ৩৫০ কোটি টাকার মিটিং মানির আয়োজন করেছে। ইনোভেশনের নামে ৩৬ কোটি টাকা মেরে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে। ওয়েবসাইট উন্নয়নের নামে ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়েছে। সব মিলিয়ে ২০০ কোটি টাকার স্বাস্থ্য সরঞ্জামের জন্য ৭৭০ কোটি টাকার আনুষঙ্গিক ব্যয় বরাদ্দ চেয়েছে। এদের লজ্জা সরম দেশপ্রেমবোধ কোন পর্যায়ে ভাবতে পারেন?

এই মন্ত্রণালয় একদিকে ডাক্তারদের নকল মাস্ক ও পিপিই দিয়েছে আর এর ফলে ডাক্তাররা এইগুলো ব্যবহারে অপারগতা জানালে তাদের বদলি বা বরখাস্ত করেছে। চোরের চুরি আবার সিনাজুরি। এত কিছুর পরও এই চোরদের কোন শাস্তি এই মরার দেশে দেখি না।

লেখক: অধ্যাপক- পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

বিজ্ঞাপন

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

আরও পড়ুন
Loading...
DMCA.com Protection Status