কাদের উপর প্রয়োগ হয়েছে সারাহ’র তৈরি করোনার ভ্যাকসিন?

বিজ্ঞাপন

ব্রিটেনে আবিষ্কৃত করোনাভাইরাসের একটি ভ্যাকসিন বৃহস্পতিবার (২৪ এপ্রিল) মানবদেহে প্রয়োগ করা হয়েছে। এই ভ্যাকসিন এর আগে অন্যান্য প্রাণীর শরীরে প্রয়োগ করে করোনাভাইরাস নির্মুলে ৮০ ভাগ সফলতা পাওয়া গিয়েছিল।

বিশ্বব্যাপী আবিষ্কৃত ডজনখানেক ভ্যাকসিনের মধ্যে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবের এই ভ্যাকসিন নিয়ে সবচেয়ে বেশি আশাবাদী বিজ্ঞানীরা। তার একটি কারণ হচ্ছে এই ভ্যাকসিন যিনি আবিষ্কার করছেন সারাহ গিলবার্ট এর আগে ইবোলা ও ম্যালেরিয়ার ভ্যাকসিন আবিষ্কার করে সফলতা পেয়েছিলেন।

অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির সেই ভ্যাকসিনের হিউম্যান ট্রায়াল হয়েছে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় দিবাগত মধ্যরাতে। কভিড-১৯ প্রতিরোধ করতে মাত্র চার মাসে তৈরি হওয়া এই চাডক্স১ এনকভ-১৯ (ChAdOx1 nCoV-19) ভ্যাকসিনের ট্রায়ালে প্রথমদিন দুই জন বিজ্ঞানী (একজন পুরুষ, একজন নারী) অংশ নেন।

প্রাথমিকভাবে ৮০০’র বেশি মানুষকে ভ্যাকসিন দেয়া হবে। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথমদিন দেয়া হল দুজনকে।

অণুজীব বিজ্ঞানী এলিসা গ্রানাটো এবং ক্যানসার গবেষক এডওয়ার্ড ও’নিল ভ্যাকসিন নেয়ার পর জানান, তারা পৃথিবীকে করোনামুক্ত করতে এগিয়ে এসেছেন।

এলিসা বিবিসিকে বলেন, ‘আমি একজন বিজ্ঞানী। তাই যেভাবে পারি বিজ্ঞানকে সাহায্য করতে চেয়েছি।’

অক্সফোর্ডের করোনা ভ্যাকসিন নিলেন যারা
অণুজীব বিজ্ঞানী এলিসা গ্রানাটো

৩২তম জন্মদিনে ভ্যাকসিনের ট্রায়ালে অংশ নিতে পেরে এলিসা উচ্ছ্বাসও প্রকাশ করেন, ‘এভাবে মানুষের জন্য নিজেকে এগিয়ে নিতে পেরে আমি দারুণ রোমাঞ্চিত।’

পুরুষদের ভেতর প্রথম ভ্যাকসিনে নেয়া ও’নিল নিজেকে গর্বিত মনে করছেন, ‘আমার মনে হয়েছে রোগের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার এটাই সঠিক পথ।’

চাডক্স১ এনকভ-১৯ (ChAdOx1 nCoV-19) তৈরি হয়েছে চাডক্স১ (ChAdOx1) থেকে। এটি সাধারণ কোল্ড ভাইরাসের (adenovirus) দুর্বলতম ভার্সন। এই ভাইরাস শিম্পাঞ্জির ইনফেকশনের কারণ। এটি জেনেটিকালি পরিবর্তন করা হয়েছে যাতে এর পক্ষে মানবদেহে বেড়ে ওঠা অসম্ভব হয়।

চাডক্স১ তৈরি করতে যে জিনগত উপাদান যোগ করা হয়েছে, সেটি কভিড-১৯ (সার্স-কভ-২) থেকে প্রোটিন তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। একে বলা হয় স্পাইক গ্লাইকোপ্রোটিন। এই প্রোটিন সার্স-কভ-২’তে দেখা গেছে। সংক্রমণের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সার্স-কভ-২ করোনাভাইরাসের স্পাইক প্রোটিন ব্যবহার করে মানব কোষের এসিই২ রিসেপ্টরকে আটকে ফেলে। এরপর শরীরে সংক্রমণ ঘটায়।

গবেষকদের আশা চাডক্স১ এনকভ-১৯ ব্যবহার করে ওই স্পাইক প্রোটিনের বিরুদ্ধে কাজে লাগানো যাবে।

এই দুজনের মারাত্মক কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা না দিলে, রোগ প্রতিরোধক ব্যবস্থা ভালো কাজ করলে এটি নির্বাচন করা হবে। ইংল্যান্ডের বিভিন্ন জায়গায় মোট ১১০২ জন অংশগ্রহণকারীকে নির্বাচন করা হয়েছে। তাদের চাডক্স১ এনকভ-১৯ ভ্যাকসিন অথবা নিবন্ধিত মেনএসিডব্লিউওয়াই ((MenACWY))  ভ্যাকসিন দেয়া হবে। কাকে কোনটা দেয়া হচ্ছে ট্রায়াল শেষের আগে কেউ জানতে পারবেন না।

এর মধ্যে থেকে ১০ জনকে বেছে নেয়া হবে, যারা চার সপ্তাহ পর চাডক্স১ এনকভ-১৯ ভ্যাকসিনের ২ ডোজ গ্রহণ করবেন।

প্রথম দিন দুইজন অংশগ্রহণকারীর একজনকে চাডক্স১ এনকভ-১৯ ভ্যাকসিন দেয়া হয়েছে, আরেকজনকে দেয়া হয়েছে নিবন্ধিত ভ্যাকসিন। নিবন্ধিত ভ্যাকসিনটি যুক্তরাজ্যের অল্প বয়সীদের অনেক আগে থেকেই দেয়া হয়। এটি চাডক্স১ এনকভ-১৯’র পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থেকেও রক্ষা করে। পরীক্ষায় যারা অংশ নিচ্ছেন তাদের নতুন ভ্যাকসিনটি দেয়া হচ্ছে নাকি ওই নিবন্ধিত ভ্যাকসিন দেয়া হচ্ছে, সেটি উদ্দেশ্যমূলকভাবেই জানানো হবে না। এটি তারা জেনে গেলে তাদের স্বাস্থ্য সচেতনতায় পরিবর্তন আসতে পারে। প্রভাবিত হতে পারে ফলাফল।

প্রথম দুজনকে ৪৮ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। তৃতীয়দিন একইভাবে আরও ৬ জনকে ভ্যাকসিন দেয়া হবে। পঞ্চমদিন আরেক গ্রুপকে দেয়া হবে।

ভ্যাকসিন দেয়ার পর সবাইকে একটি করে ই-ডায়েরি দেয়া হবে। পরবর্তী সাতদিনে কারো কোনো সমস্যা হচ্ছে কি না, সেটি সেখানে নোট করে রাখতে হবে।

সব ডেটা বিশ্লেষণ করতে আনুমানিক ৬ মাস লাগবে। নতুন ভ্যাকসিন অধিকাংশ সময় প্রত্যাশা অনুযায়ী ফল দেয় না। এক্ষেত্রে সেটি হলে পুরো প্রক্রিয়া নতুন করে সাজানো হতে পারে। ডোজের মাত্রা পাল্টানো হতে পারে। অথবা প্রোগ্রামটি বন্ধ করা হতে পারে।


সংবাদ২৪/ডিএস

বিজ্ঞাপন

Source বিবিসি

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

আরও পড়ুন
Loading...
DMCA.com Protection Status