গ্রিসের মানচিত্র বদলে দেয়ার হুমকি তুরস্কের

বিজ্ঞাপন

সমুদ্রে তেল গ্যাস অনুসন্ধান নিয়ে তুরস্ক ও ইউরোপের দেশ গ্রিসের মধ্যকার উত্তেজনা যেকোনো মুহূর্তে যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই সমস্যার সমাধানে আলোচনায় বসতে রাজি নয় গ্রিস। এরপরই তুরস্কের পক্ষ থেকে গ্রিসের মানচিত্র বদলে দেয়ার হুমকি দেয়া হলে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে জানাচ্ছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।

শনিবার তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেফ তায়েফ এরদোগান গ্রিসকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তারা হয় রাজনীতি ও কূটনীতির ভাষা বুঝবে, নয় যন্ত্রণাদায়ক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হবে।

এরদোগান আরও বলেন, ‘তাদের বুঝা উচিত যে অবৈধ মানচিত্র ও কাগজপত্র ছিড়ে ফেলার জন্য তুরস্কের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও মিলিটারি সক্ষমতা আছে। তিনি বলেছেন, সব ধরনের ফলাফলের জন্য তুরস্ক তৈরি আছে।

এদিকে সমুদ্রসীমা নিয়ে বিরোধে থাকা অপর দেশ সাইপ্রাসের দাবি তুরস্ক গ্রিসের সার্বভৌমত্ব ভেঙে তাদের সীমানায় ঢুকে পড়েছে। উভয় পক্ষই তাদের দাবিকৃত এলাকায় নৌ ও বিমান বাহিনী মোতায়েন করেছে।

এদিকে ৪০টি ট্যাংক সিরিয়ার বর্ডার হতে তুরস্কের উত্তরপশ্চিমাঞ্চের ইর্দিরনির দিকে যাত্রা শুরু করেছে। এমন একটি ভিডিও ইতোমধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে গণমাধ্যমে। তবে তুরস্কের সেনাবাহিনী বলছে, এটি তাদের সাধারণ মহড়ার অংশ। এর সাথে গ্রিস-তুরস্ক উত্তেজনার কোন সম্পর্ক নেই।

তুরস্কে নিযুক্ত আল জাজিরার এক সাংবাদিক বলেছেন, ‘আমরা এইমাত্র তুরস্কের প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে জানতে পারলাম যে, এরদোগান তাদের বৈধ অধিকার পুনরুদ্ধার করতে যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে পিছপা হবেন না’।

শুক্রবার মধ্যপ্রাচ্যের সংবাদমাধ্যম নিউজ খালিজের বরাত দিয়ে মিডলইস্ট মনিটরের এক প্রতিবেদন বলছে, ‘গ্রিসের সঙ্গে তুরস্কের যুদ্ধ সময়ের ব্যাপার মাত্র’।

তুরস্কের ন্যাশনাল মুভমেন্ট পার্টির প্রধান দেভলেত বাহচেলি গণমাধ্যমটিকে বলেছেন, ‘ভূমধ্যসাগর ও আজিয়ান সাগরে আমাদের ঐতিহাসিক স্বার্থ থেকে সরে দাঁড়ানো মেনে নেওয়া যায় না। পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে গ্রিসের ক্ষুধা বেড়েছে এবং সমুদ্রে নিমজ্জিত হওয়ার ইচ্ছে আবার জেগে উঠেছে তাদের। তাই ভূমধ্যসাগর ও আজিয়ান সাগরে গ্রিসের সঙ্গে যুদ্ধ সময়ের ব্যাপার মাত্র’।

ভূমধ্যসাগরে সীমানা নির্ধারণ নিয়ে তুরস্ক এবং গ্রিসের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছে বহুদিন ধরে। গেল বৃহস্পতিবার ন্যাটোর প্রধান জিনস স্টোলেনবার্গ দাবি করেছিলেন উত্তেজনা কমাতে গ্রিস তুরস্কের সাথে আলোচনায় আগ্রহী। কিন্তু বিষয়টি অস্বীকার করেছে গ্রিস।

তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মেবলুট চাভুসুগলু গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘প্রথমে তারা আলোচনার জন্য রাজি হয়েছিল পরে আবার এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে। এর মানে তারা মিথ্যা বলেছে। এই মিথ্যাই প্রমাণ করে যে তারা আলোচনায় আগ্রহী না’।


সংবাদ২৪/এসডি

বিজ্ঞাপন

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

আরও পড়ুন
Loading...
DMCA.com Protection Status