জাহাঙ্গীর জয়েস-এর দুটি অনু গল্প

বিজ্ঞাপন

 

  • তমিজ দাদা

চকচকে রোদে ঝিমধরা দুপুর। বাড়ির পাশের পরিত্যক্ত চায়ের দোকানের বেঞ্চিতে বসে আছি। এমন সময় সামনের বেঞ্চে এসে বসলেন তমিজ দাদা। আস্তে আস্তে দু’পায়ে আঁকিবুঁকি কাটতে থাকলেন মাটিতে যেনো আমাকে দেখতেই পাননি।

কিছুক্ষণ উনার দিকে তাকিয়ে যখন জিজ্ঞেস করলাম, ‘কী অবস্থা দাদা?’ যেনো ধ্যানভেঙ্গে ওঠলেন। ‘আর অবস্থা’ বলেই আগের মতো দু’পায়ে আঁকিবুঁকি কাটতে লাগলেন।

আমার পরিচিত তমিজ দাদা কেমন অপরিচিত, রহস্যময় আর বিষণ্ণ হয়ে ওঠলেন তৎক্ষনাৎ। ‘আর অবস্থা’ কথাটি ঘুরপাক খেতে থাকলো আমার মাথায়।
একটু আনমনা হয়েছি আর অমনি খুব হালকাস্বরে কানে এসে লাগলো তমিজ দাদার বিরবির শব্দ, ‘আমাদের যে কী হবে- আল্লা মালুম!’

  • মরা গাছ বা সাফল্যবীজ

আমীন সাহেব চাকুরীজীবি মানুষ। স্ত্রী- সন্তান নিয়ে ছোট পরিবার। কিন্তু তার একটাই চিন্তা মেয়েটাকে নিয়ে। সে পড়ালেখায় একেবারেই অমনোযোগী। এদিকে তার অবসরেরও বেশিদিন বাকি নেই।
একদিন মেয়েটিকে বাড়ির পাশের একটি গাছের কাছে নিয়ে গেলেন। একটা গাছ দাঁড়িয়ে আছে, মরা। মেয়েকে দেখিয়ে বল্লেন, ‘তুমি যদি পরীক্ষায় ভালো করো- ওই গাছে পাতা গজাবে, ফুল ধরবে’।

তারপর কেটে গেলো বছরখানেক…

একদিন কলেজ থেকে বাড়িতে ফিরেই মেয়েটি তার বাবাকে সেই গাছটির কাছে নিয়ে গেলো। গাছটিকে দেখিয়ে রেগেমেগে বল্ল,’দেখো, গাছটার পাতাও গজায়নি, ফুলও ধরেনি বরং গাছটিই পুরোপুরি মরে ভেঙে পরে আছে। আমি কিন্তু পরীক্ষায় ভালো করেছি।’ তার বাবা কিছু একটা বলার আগেই সে দ্রুতপায়ে চলে গেলো বাড়ির দিকে। তখন তিনি ভেঙেপরা গাছটির দিকে তাকিয়ে মিটিমিটি হাসতে লাগলেন।

#সংবাদ২৪/সিবিআর

বিজ্ঞাপন

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

আরও পড়ুন
Loading...
DMCA.com Protection Status