জীবদ্দশায় কখনোই দেখা হয়নি দস্তয়েভ্‌স্কি আর তলস্তয়ের

বিজ্ঞাপন

ফিওদর দস্তয়েভ্‌স্কির জন্ম ১৮২১ সালের ১১ নভেম্বর। আর মৃত্যু ৯ ফেব্রুয়ারি, ১৮৮১। এদিকে লিয়েভ তলস্তয়ের জন্ম ৯ সেপ্টেম্বর ১৮২৮, মৃত্যু ২০ নভেম্বর ১৯১০। রুশ সাহিত্যের স্বর্ণযুগের উজ্জ্বল দুই প্রতিনিধি এই দুজন। অথচ জীবদ্দশায় দস্তয়েভ্‌স্কি আর তলস্তয়ের দেখা হয়নি পরস্পরের সাথে। একই সময়ে তাঁদের বসবাস, কিন্তু সামনাসামনি হননি তাঁরা কখনো। দুজনেরই ইচ্ছে ছিল দেখা করার, আলাপ করার, কিন্তু সেটা আর হয়ে ওঠেনি।

মজার ব্যাপার হলো, দুজনেরই খুব কাছের বন্ধু ছিলেন নিকোলাই স্ত্রাখোভ। আর যদি বলা হয় যে এই নিকোলাই স্ত্রাখোভর কারণেই আসলে এই দুই কিংবদন্তীর দেখা হয়নি, তাহলে বোধয় ভুল হবেনা।  একবার এক জায়গায় মানুষের কল্যাণবিষয়ক লেকচার দিয়েছিলেন ভ্লাদিমির সালাভিওভ। দস্তয়েভ্‌স্কি আর তলস্তয়, দুজনেই সেখানে উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু স্ত্রাখোভ দুই লেখককে পরিচয় করিয়ে দেননি। তিনি ভেবেছিলেন, লেখক দুজনকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া খুব গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার নয়। এটা ছিল ১৮৭৮ সালের কথা। এরপর ১৮৮০ সালে দস্তয়েভ্‌স্কি ইয়াসনায়া পালিয়ানায় যেতে চেয়েছিলেন। সেখানেই বাস করতেন লিয়েভ তলস্তয়। কিন্তু যাত্রার আগেই তুর্গিয়েনেভ আর গ্রিগরোভিচ থামিয়েছিলেন দস্তয়েভ্‌স্কিকে, বলেছিলেন, তলস্তয় একেবারে পাগল হয়ে গেছেন। তাই তলস্তয়ের কাছে যাওয়া বন্ধ হয়ে গেল ‘ক্রাইম অ্যান্ড পানিশমেন্ট’ লেখকের।

ব্যাপারটা একটু খুলে বলা দরকার। সালাভিওভের বক্তৃতা শুনতে তলস্তয় গিয়েছিলেন স্ত্রাখোভের সঙ্গে। হয়তো দস্তয়েভ্‌স্কি কাছাকাছি কোথাও বসে ছিলেন। কিন্তু তাঁদের দেখা হলো না। এর দুবছর পর দস্তয়েভ্‌স্কি মস্কোয় এসেছিলেন পুশকিন উৎসবে। এই উৎসব শুরু হওয়ার আগেই একবার ইয়াসনায়া পালিয়ানায় গিয়ে তলস্তয়ের সঙ্গে দেখা করে আসার কথা ভেবেছিলেন দস্তয়েভ্‌স্কি। কিন্তু তুর্গিয়েনেভদের কথায় থমকে গেলেন তিনি। স্ত্রীকে ২৭-২৮ মে লেখা চিঠিতে তিনি বলছেন, ‘কাতকোভ অন্যদের সঙ্গে কথা বলে জোরের সঙ্গেই বলল, তলস্তয় আসলেই পাগল হয়ে গেছে…আমি তাই ওখানে যাচ্ছি না…।’ জ্ঞানীগুণীদের মধ্যে কি উন্মাদ একেবারেই নেই?

সে সময় আসলে তলস্তয়ের সঙ্গে কী ঘটেছিল? জীবন সম্পর্কে তলস্তয়ের দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টে গিয়েছিল।

আশির দশকে তলস্তয়ের মনের মধ্যে কী ঘটছে, তা নিয়ে তখনকার সাহিত্যিক মহলে বেশ হইচই হচ্ছিল। স্ত্রীকে যে চিঠিটি লিখেছিলেন দস্তয়েভ্‌স্কি, সেটার আরেকটু বড় রূপ পাওয়া যায় বাসিনস্কির লেখায়। তিনি বলছেন, ১৮৮০ সালের মে মাসে পুশকিন উৎসবের সময় মস্কোতে এসে তাঁর অসাধারণ ভাষণটি দিয়েছিলেন দস্তয়েভ্‌স্কি। সে সভায় সাহিত্যজগতের সবাই উপস্থিত থাকলেও ছিলেন না তলস্তয়। অনেকেই বলছিলেন তিনি প্রায় পাগল হয়ে গেছেন। কেউ কেউ বলছিলেন, প্রায় নয়, পুরোপুরি পাগলই হয়ে গেছেন। এর মানে হলো, তলস্তয়ের পাগল হয়ে যাওয়ার কথাটা ছড়িয়েছেন তুর্গিয়েনেভ। এই উৎসবের আগে তুর্গিনিয়েভ তলস্তয়ের ইয়াসনায়া পালিয়ানায় গিয়েছিলেন। সেখানে যাওয়ার পর তলস্তয় তুর্গিনিয়েভের কাছে তাঁর নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। এ কথাটাই সাহিত্যিকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। স্ত্রীকে দস্তয়েভ্‌স্কি লেখেন, ‘লিয়েভ তলস্তয়কে নিয়ে…কাতকোভ জানিয়েছে যে আসলে তলস্তয় উন্মাদ হয়ে গেছে। ইউরিয়েভ (সের্গেই আন্দ্রেয়েভিচ ইউরিয়েভ, লেখক ও অনুবাদক, এই উৎসবের সভাপতি, তলস্তয়ের পরিচিত) আমাকে তলস্তয়ের কাছে যেতে নিষেধ করেছেন। সেখানে যাওয়া-আসা করতে আমার অন্তত দুটো দিন দরকার। আমি যাচ্ছি না। কিন্তু আমার খুব যাওয়ার ইচ্ছে ছিল।’

এর অর্থ হলো, অন্যের কাছে তলস্তয়ের উন্মাদ হয়ে যাওয়ার কথা শুনে দস্তয়েভ্‌স্কি আর যাওয়ার ঝুঁকি নিতে চাননি।

৬ জুন মস্কোতে পুশকিনের ভাস্কর্য উন্মোচন করা হলো। ৮ জুন রুশ সাহিত্যসভায় পুশকিন নিয়ে তাঁর সেরা ভাষণটি দিলেন দস্তয়েভ্‌স্কি। দর্শক-শ্রোতারা উদ্বেলিত হয়ে শুনল সে ভাষণ। সে সভায় উল্লেখযোগ্য সাহিত্যিকদের সবাই উপস্থিত ছিলেন, শুধু ছিলেন না তলস্তয়। তুর্গিয়েনেভ কিন্তু এর আগে ইয়াসনায়া পালিয়ানায় গিয়েছিলেন তলস্তয়কে আনতে। কিন্তু নিজের নৈতিক অবস্থান পরিবর্তন করার পর তলস্তয় যে কোনো ভাস্কর্যকেই নিরর্থক সৃষ্টি বলে মনে করতেন।

তবে দুই লেখকের দেখা হয়েছিল দূর থেকে। দুজনই তৃষ্ণার্ত হৃদয়ে পরস্পরের লেখা পড়তেন। আর সে কথা ভেবেই আরেকবার বলতে হচ্ছে, একই দেশে থাকতেন দুজন, একই সময়ে লেখালেখি করেছেন, অথচ দেখা হয়নি তাঁদের। সে সময় রাশিয়ার নামী-দামি সব লেখকের সঙ্গেই পরিচয় ছিল দুজনের, ছিল না শুধু একের সঙ্গে অন্যের পরিচয়। দুজনেই অসংখ্য চিঠিপত্র লিখেছেন নানাজনকে, কিন্তু অবাক কাণ্ড, দস্তয়েভ্‌স্কি তলস্তয়কে কোনো চিঠি লেখেননি কখনো।
তবে দুই লেখকের দেখা হয়েছিল দূর থেকে। দুজনই তৃষ্ণার্ত হৃদয়ে পরস্পরের লেখা পড়তেন। আর সে কথা ভেবেই আরেকবার বলতে হচ্ছে, একই দেশে থাকতেন দুজন, একই সময়ে লেখালেখি করেছেন, অথচ দেখা হয়নি তাদের। সে সময় রাশিয়ার নামীদামি সব লেখকের সঙ্গেই পরিচয় ছিল দুজনের, ছিল না শুধু একের সঙ্গে অন্যের পরিচয়। দুজনেই অসংখ্য চিঠিপত্র লিখেছেন নানাজনকে, কিন্তু অবাক কাণ্ড, দস্তয়েভ্‌স্কি তলস্তয়কে কোনো চিঠি লেখেননি কখনো, তলস্তয়ও কখনো লেখেননি দস্তয়েভ্‌স্কিকে। দুজন মুগ্ধ হয়ে দুজনের লেখা পড়তেন, দেখা করার ইচ্ছেও জেগেছে কখনো কখনো, কিন্তু ওই যে বললাম, নিকোলাই স্ত্রাখোভের উদাসীনতায় এক জায়গায় বসে বক্তৃতা শোনো সত্ত্বেও তাঁদের মধ্যে দেখা হলো না।

আরেকটু আগের কথা বলি। ১৮৫৫ সালে যুবক তলস্তয় তাঁর ‘ছেলেবেলা’ উপন্যাসটি লিখে ফেলেছেন। সে সময় তিনি এলেন পিতেরবুর্গে। এই শহরেই ছিল দস্তয়েভ্‌স্কির বাস। তলস্তয়ের সঙ্গে দেখা হলো তুর্গিয়েনেভের, নেক্রাসভের। কিন্তু দস্তয়েভ্‌স্কির সঙ্গে দেখা হলো না। কারণ কয়েক বছরের অতিরিক্ত পরিশ্রমের পর তিনি তাঁর দিন কাটাচ্ছিলেন নির্বাসনে। নির্বাসন শেষে যখন দস্তয়েভ্‌স্কি ফিরে এলেন পিতেরবুর্গে, তখন তলস্তয় আর সেখানে ছিলেন না। এরপর তলস্তয় বারবার ইয়াসনায়া পালিয়ানা আর মস্কোয় যাতায়াত করেছেন, কিন্তু পিতেরবুর্গে যাননি। দেখা না হলেও একে অন্যের প্রতি আকর্ষণ বোধ করেছেন দুই লেখক। তলস্তয়ের ‘যুদ্ধ ও শান্তি’ পড়ে উদ্বেলিত হয়েছিলেন দস্তয়েভ্‌স্কি। এই উপন্যাস পড়ার পর থেকেই দস্তয়েভ্‌স্কির মনে তলস্তয় জায়গা করে নেন। দস্তয়েভ্‌স্কির ইচ্ছে হলো তলস্তয়ের সঙ্গে দেখা করার। কিন্তু আগেই তো বলেছি, দেখা হলো না কোনো দিন।

তলস্তয় তাঁর দিনলিপিতে লিখেছেন, ‘“বঞ্চিত লাঞ্ছিত” আমার হৃদয় স্পর্শ করেছে।’

১৮৭৭ সালে নিকোলাই স্ত্রাখোভ যখন ‘আন্না কারেনিনা’র সাফল্যের খবর জানিয়ে তলস্তয়কে চিঠি লিখলেন, তখন সেখানে তিনি লিখেছিলেন, ‘দস্তয়েভ্‌স্কি আপনাকে বাহবা দিয়ে বলেছেন, আপনি শিল্পের ঈশ্বর।’ দস্তয়েভ্‌স্কি তাঁর ‘সাহিত্যিকের দিনলিপি’তে যে শব্দগুলো লিখেছেন, তা হলো, ‘অসাধারণ উচ্চ অবস্থান এই লেখকের’, ‘জ্ঞানী মানুষ’, ‘অসাধারণ’। নিজের লেখাটি দস্তয়েভ্‌স্কি শেষ করেছেন এভাবে, ‘আন্না কারেনিনার লেখকের মতো মানুষেরা আসলে সমাজের শিক্ষক, আমরা তাঁর ছাত্র।’

তবে এটাও বলা দরকার, তাঁরা যে পরস্পরের লেখার শুধু প্রশংসাই করেছেন, তা নয়। যথেষ্ট সমালোচনাও করেছেন। দস্তয়েভ্‌স্কি তলস্তয়কে শিল্পী হিসেবে যতটা মূল্য দিয়েছেন, চিন্তানায়ক বা ভাবুক-দার্শনিক হিসেবে ততটা দেননি। তলস্তয় আবার ঠিক বিপরীত দিক থেকে দস্তয়েভ্‌স্কিকে দেখেছেন। তিনি একেবারেই দস্তয়েভ্‌স্কির ভাষা পছন্দ করতেন না, কিন্তু লেখার সারবস্তু নিয়ে ছিলেন প্রশংসায় পঞ্চমুখ। তলস্তয়কে নিয়ে গোর্কির লেখার এক জায়গায় আছে, ‘দস্তয়েভ্‌স্কিকে নিয়ে তলস্তয় খুব উৎসাহী হয়ে কথা বলতেন না, মনে হতো কিছু একটা বাঁধো বাঁধো হয়ে আটকে আছে কণ্ঠে।’

১৮৮০ সালেই তলস্তয় নিকোলাই স্ত্রাখোভকে লিখেছিলেন, ‘আমি “মৃত মানুষের চিরকুট” পড়ছি, এর মধ্যে কত পড়েছি, ভুলেছি, আবার পড়েছি, কিন্তু পুশকিনের কথা মাথায় রেখেও বলছি, এ বইটাই সেরা…কাল সারা দিন এই বইটাই আমাকে আচ্ছন্ন করে রেখেছিল। বহুদিন পর কোনো বইয়ের প্রতি এতটা নিমগ্ন হয়েছি। যদি দস্তয়েভ্‌স্কির সঙ্গে দেখা হয়, তাহলে বলবেন, আমি তাঁকে ভালোবাসি।’

স্ত্রাখোভ চিঠিটা দেখিয়েছিলেন দস্তয়েভ্‌স্কিকে। তিনি খুব খুশি হয়েছিলেন, স্ত্রাখোভকে অনুরোধ করেছিলেন চিঠিটা তাঁকে দিয়ে দেওয়ার জন্য। তবে সত্যিই একটু কষ্ট পেয়েছিলেন। কারণ, তলস্তয় দস্তয়েভ্‌স্কিকে পুশকিনের চেয়েও উচ্চাসনে বসিয়েছেন, সেটা তাঁর পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভব ছিল না, কারণ পুশকিন ছিলেন দস্তয়েভ্‌স্কির আইডল।

মৃত্যুর কিছুদিন আগে দস্তয়েভ্‌স্কি লিয়েভ তলস্তয়ের ফুফু কাউন্টেস আলেকসান্দ্রা তলস্তয়কে জিজ্ঞেস করেছিলেন, তলস্তয়ের মতবাদটা কী? আলেক্সান্দ্রা তা ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেছেন, দস্তয়েভ্‌স্কি খুব পছন্দ করতেন তলস্তয়কে। তিনি দস্তয়েভ্‌স্কিকে তলস্তয়ের একটি চিঠি পড়ে শুনিয়েছিলেন, তখন দুহাত দিয়ে মাথা চেপে ধরে ‘কী বলেন, কী বলেন’ বলতে থাকেন দস্তয়েভ্‌স্কি।

দস্তয়েভ্‌স্কির মৃত্যুর পর স্ত্রাখোভকে লেখা চিঠিতে তলস্তয় বলেন, ‘দস্তয়েভ্‌স্কিকে নিয়ে আমি কী ভাবি, সেটা তাঁকে বলব বলে কতবার ভেবেছি।…আমি কখনোই এই লোকটাকে দেখিনি, সরাসরি কখনোই তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ হয়নি, আর যখন অকস্মাৎ তিনি মারা গেলেন, আমি বুঝতে পারলাম, তিনি ছিলেন আমার সবচেয়ে কাছের, সবচেয়ে দামি, সবচেয়ে প্রয়োজনীয় মানুষ। আমি সাহিত্যিক। সাহিত্যিকেরা ঈর্ষাপরায়ণ হয়, অন্তত আমি সে রকম। কিন্তু কোনো দিন তাঁর সঙ্গে তুলনার কথা আমার মাথাতেই আসেনি। তিনি যা যা করেছেন, (যা ভালো, যা চিরজীবী) তা যত বেশি হয়েছে, ততই আমি আনন্দিত হয়েছি।। তাঁর সৃষ্টি আমাকে ঈর্ষান্বিত করেছে, এটা মস্তিষ্কের কাজ, আর আমার হৃদয়ে তা শুধু আনন্দ এনেছে। আমি তাঁকে আমার বন্ধু ছাড়া আর কিছুই ভাবিনি। ভেবেছি, কখনো তাঁর সঙ্গে দেখা হয়ে যাবে আমার। কিন্তু সাঙ্গ হলো খেলা। আর একদিন দুপুরে খাবার সময়—আমি একাই খাচ্ছিলাম, দেরি করে এসেছিলাম, তাই—দেখি, মরে গেছে। আমি যেন নির্ভরতা হারালাম। আমি কষ্ট পেলাম, পরে বুঝতে পারলাম, আমার জন্য কতটা দামি ছিলেন তিনি। আমি কাঁদলাম, এখনো কাঁদছি।’

দস্তয়েভ্‌স্কির স্ত্রী আন্না গ্রিগোরিয়েভ্‌না দস্তয়েভ্‌স্কায়া তাঁর স্মৃতিচারণামূলক বইতে তলস্তয় সম্পর্কে লিখেছেন এভাবে।

‘আমার খুব দুঃখ হয়, আপনার স্বামীর সঙ্গে আমার দেখা হলো না কোনো দিন।’

‘আমার স্বামীও তা নিয়ে দুঃখ করতেন। আপনাদের মধ্যে তো দেখা হতেই পারত। ওই যে ভ্লাদিমির সালাভিয়োভের লেকচার হলো সালিয়ানি গোরাদকে? মনে আছে, নিকোলাই স্ত্রাখোভকে ফেওদর মিখাইলোভিচ রীতিমতো বকাবকি করেছেন এই বলে যে তিনি কেন বলেননি, ওইখানে আপনিও উপস্থিত ছিলেন। “যদি কথা বলার সুযোগ না থাকত, তাহলে অন্তত আমি তাকে চোখের দেখাটা দেখতাম!” এই কথা বলেছিল আমার স্বামী।’

‘বলেন কি! আপনার স্বামী সেই লেকচার হলে ছিলেন? আহা! কেন যে নিকোলাই নিকোলায়েভিচ স্ত্রাখোভ আমাকে সে কথা বললেন না! খুব খারাপ লাগছে! দস্তয়েভ্‌স্কি আমার জন্য একজন দামি মানুষ ছিলেন এবং সম্ভবত একমাত্র মানুষ ছিলেন, যাঁর কাছে আমি অসংখ্য প্রশ্ন রাখতে পারতাম এবং তিনি আমার অসংখ্য প্রশ্নের উত্তর দিতে পারতেন। …আপনি কি আমাকে বলবেন, মানুষ হিসেবে কেমন ছিলেন আপনার স্বামী? আপনার হৃদয়ে, আপনার স্মৃতিচারণায় কীভাবে তিনি আসেন?’

যেভাবে তলস্তয়ের হৃদয় থেকে কথাগুলো বেরিয়ে আসছিল, তাতে আমি খুবই আপ্লুত হয়েছিলাম।

‘আমার স্বামী ছিল একজন আদর্শ মানুষ।’ এভাবে বলা শুরু করলাম আমি। তাঁর নৈতিক ও হার্দিক গুণ ছিল আকাশস্পর্শী।’

‘তাঁর কথা মনে হলে তাঁকে এভাবেই ভেবেছি আমি।’ ভাবনার অতল থেকে এভাবেই বললেন কাউন্ট লেভ নিকোলায়েভিচ।

আপনারা কেউ কি জানেন, মৃত্যুর আগে যখন ইয়াসনায়া পালিয়ানা থেকে যখন নিরুদ্দেশের পথে বের হয়ে যান তলস্তয়, তখন তাঁর হাতে কোন বইটা ছিল?

ঠিক ধরেছেন, রেলস্টেশনের ওই বাড়িটায় যখন মৃত্যুর সঙ্গে বোঝাপড়া করে নিচ্ছেন তলস্তয়, তখন তাঁর হাতে ছিল দস্তয়েভ্‌স্কির লেখা ‘কারামাজোভ ভ্রাতৃবর্গ’ বইটি। (চারটি লেখাই রুশ ভাষায় রচিত। নামগুলো বাংলা করে দেওয়া হলো বোঝার স্বার্থে)

সূত্র: ভ্লাদিমির নোল্লেতোভ: দস্তয়েভ্‌স্কি ও তলস্তয়: যে সাক্ষাৎ আর হয়ে উঠল না, আন্না গ্রিগোরিয়েভ্‌না দস্তয়েভ্স্কায়া: স্মৃতিচারণা, রেজিজোভ বি. ভে. : দস্তয়েভ্‌স্কি, বাসিনস্কি পি ভে: কেন দুজনের দেখা হলো না

বিজ্ঞাপন

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

আরও পড়ুন
Loading...
DMCA.com Protection Status