দায়মুক্তির সংস্কৃতিতে বিচারের আশা!

বিজ্ঞাপন

পত্রিকার রিপোর্ট অনুসারে কক্সবাজারের টেকনাফ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) প্রদীপ কুমার দাস এই ২২ মাসে তিনি ১৪৪টি ক্রসফায়ার দিয়েছেন। তাতে মারা গেছে ২০৪ জন। এর অর্ধেক ক্রসফায়ারই হয়েছে মেরিন ড্রাইভে।

যে ২০৪ জনকে তার নির্দেশে ক্রসফায়ারে হত্যা করা হয়েছে তাদের মধ্যে একই বাড়ির চার জন, এমনকি দুই ভাইও আছেন। চাহিদামতো টাকা না পেলে নির্বিঘ্নে দিতেন ক্রসফায়ার। ইয়াবা ব্যবসায়ী হিসেবে প্রচার করে দায়মুক্তিও পেয়ে যেতেন। এইসব দায়মুক্তির সংস্কৃতি হলো প্রিমিটিভ আচরণ। আমরা আসলেই আদিম আর বর্বর যুগেই পরে আছি।

দায়মুক্তি! জী, এই দায়মুক্তিই হলো বাংলাদেশের সকল নোটোরিয়াস সমস্যার মুলে। এই দায়মুক্তি সংস্কৃতি শুরু হয়ে আইন প্রণেতাদের হাত ধরে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দায়মুক্তির জন্য “ইনডেমনিটি বিল” পাশের মাধ্যমে। এরপর সেটির কেবল ডালপালা গজিয়ে বিরাট মহীরুহ হয়ে উঠেছে। কুইক রেন্টালের জন্যও আইন করে দায়মুক্তি দিয়েছে। লিখিত আইন ছাড়াও দায়মুক্তি এখন একটি সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে।আওয়ামীলীগ বা ছাত্রলীগ কিংবা যুবলীগ বা অন্য কোন অঙ্গসংগঠন করলে যেকোন অন্যায় কাজ করেও প্রচ্ছন্ন দায়মুক্তি সুবিধা পায়। রাজনৈতিক দল কেন এই দায়মুক্তি দেয়? দায়মুক্তি দিলে দল ভারী হয়।

এতদিন ক্রসফায়ারে হত্যা করা ব্যক্তিদের মধ্যে প্রভাবশালী কেউ না থাকায় (ওসি) প্রদীপ কুমার দাস ও এসআই লিয়াকত পার পেয়ে গেছেন। বরং এইসব ক্রস ফায়ার করে পুরস্কৃত করতে করতে প্রদীপ কুমার দাসকে কল্পনাতীত আস্কারা দেওয়া হয়ে গেছে। আবার এসএই লিয়াকতের ক্ষমতার উৎস হলো সে নিজে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা (সুত্র: দৈনিক কালের কন্ঠ), বাবা আওয়ামীলীগ নেতা  (সুত্র: দৈনিক কালের কন্ঠ)! তবে এবার মেজর (অব.) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানকে হত্যার পর ফেঁসে গেছেন। একে একে বেরিয়ে আসছে তার ক্রসফায়ার বাণিজ্যের আদ্যোপান্ত। এলাকাবাসীও মুখ খুলতে শুরু করেছেন। মেজর (অব.) রাশেদকে হত্যার ঘটনায় প্রত্যক্ষদর্শীরাও সামনে এসে কথা বলছেন।

একই ক্রোনোলজি লক্ষ করা যায় ক্যাসিনো কেলেঙ্কারিতেও। সেখানেও জি কে শামীম ও সম্রাটরা দায়মুক্তি ও আস্কারা পেতে পেতে হুকসের ল-এর যে ইলাস্টিক লিমিট আছে তা অতিক্রম করে ফেলেছিল। সাহেদ, আরিফ ও সাবিনারাও ইলাস্টিক লিমিট আছে তা অতিক্রম করে ফেলেছিল। আর এইবার প্রদীপ কুমার দাস ও লিয়াকতরাও লিমিট অতিক্রম করে ফেলেছিল। রাষ্ট্রের অন্যান্য ক্ষেত্রেও আরো অনেক জিকে শামীম, সম্রাট, পাপিয়া, সাহেদ, আরিফ, সাবরিনা, প্রদীপ এবং লিয়াকত আছে।

বর্তমানে যারা রাজনীতি করে তাদের মধ্যে কে আছে যে আদর্শ বিস্তার করে দেশের মঙ্গলের জন্য রাজনীতি করছে? উদ্দেশ্য কেবল একটাই। ক্ষমতা পাওয়া এবং সেই ক্ষমতাকে মূলধন হিসাবে ব্যবহার করে বৈধ কিংবা অবৈধ যেকোন উপায়েই হউক সম্পদ বাড়ানো। আমি আমার কর্মক্ষেত্রেও দেখেছি যে কোন শিক্ষক যৌন হয়রানি বা প্রশ্ন ফাঁস কিংবা প্লাগিয়ারিজম করেও দায়মুক্তি পেয়ে যায় কেবল ক্ষমতার কৃপায়।

বিজ্ঞাপন

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

আরও পড়ুন
Loading...
DMCA.com Protection Status