নোয়াখালীর উদ্দেশ্যে ধর্ষণবিরোধী লং মার্চ শুরু

বিজ্ঞাপন

ধর্ষণ ও `বিচারহীনতার বিরুদ্ধে’ নয় দফা দাবিতে ঢাকা থেকে নোয়াখালীর উদ্দেশে লংমার্চ শুরু হয়েছে।শাহবাগ থেকে শুরু হওয়া বামপন্থীদের এই লং মার্চ নারায়ণগঞ্জে, কুমিল্লা, ফেনী হয়ে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে যাবে।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকাল ১১ টায় রাজধানীর শাহবাগ থেকে লংমার্চ যাত্রা শুরু করে। শনিবার সন্ধ্যায় নোয়াখালীর মাইজদীতে সমাবেশ করে উল্টো যাত্রা করবেন আন্দোলনকারীরা।

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে নারী নির্যাতনের ভিডিও ফাঁসের পর গড়ে উঠা এই আন্দোলন টানা ১৪ দিন ধরে পালিত হচ্ছে নানা কর্মসূচি। এর অংশ হিসেবে এই লংমার্চের ডাক দেয়া হয় গত ৯ অক্টোবর।

দুই দিনব্যাপী এই লংমার্চে ঢাকার গুলিস্তান, নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া, সোনারগাঁও, কুমিল্লা সদর, চান্দিনা ও চৌমুহনী, ফেনী সদর ও দাগনভুঁঞা, নোয়াখালীর মাইজদী এবং বেগমগঞ্জের একলাসপুরের সমাবেশ ও পথসভার কর্মসূচি রয়েছে।

প্রথম দিন লংমার্চ যাবে কুমিল্লা পর্যন্ত। সেখানে রাত যাপনের পর শনিবার সকালে রওয়ানা হবে বেগমগঞ্জ অভিমুখে।

লং মার্চ যাত্রা শুরুর আগে শাহবাগে হং সংক্ষিপ্ত সমাবেশ। সেখানে ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মেহেদী হাসান নোবেল বলেন, ‘সারাদেশে ধর্ষণ ও বিচারহীনতার বিরুদ্ধে আমাদের এই লংমার্চ। আমরা যে দাবি জানিয়েছি, সেগুলো পূরণ না হলে আমরা লং মার্চ শেষে সারাদেশে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করব।’

ধর্ষণবিরোধী সাম্প্রতিক আন্দোলনের মধ্যে সরকার ধর্ষণের সর্বোচ্চ সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ডের বিধান করেছে। তবে আন্দোলনকারীরা বলছেন, কেবল সাজা বাড়ানো যথেষ্ট নয়, সব ঘটনার বিচার জরুরি। এ ছাড়া নারীকে হেয় করে নানা আইন ও বিধি বিধান আর সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গীর পরিবর্তন করতে হবে।

সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি মাসুদ রানা, যুব ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক খাঁন আসাদুজ্জান মাসুমও এ সময় বক্তব্য রাখেন।

আন্দোলনকারীদের ৯ দাবি

১. ধর্ষণ ও নারীর প্রতি সহিংসতায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। ‘ধর্ষণ, নিপীড়ন বন্ধ ও বিচারে ব্যর্থ’ স্বরষ্ট্রমন্ত্রীকে অবিলম্বে অপসারণ করতে হবে।

২.পাহাড়ে সমতলে আদিবাসী নারীদের উপর যৌন ও সামাজিক নিপীড়ন বন্ধ করতে হবে।

৩. সব প্রতিষ্ঠানে নারী নির্যাতনবিরোধী সেল কার্যকর করতে হবে। সিডো সনদে বাংলাদেশকে স্বাক্ষর ও তার পূর্ণ বাস্তবায়ন করতে হবে। নারীর প্রতি বৈষম্যমূলক সব আইন ও প্রথা বিলোপ করতে হবে।

৪. ধর্মীয়সহ সকল ধরনের সভা-সমাবেশে নারীবিরোধী বক্তব্য শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করতে হবে। সাহিত্য, নাটক, সিনেমা, বিজ্ঞানে নারীকে পণ্য হিসেবে উপস্থাপন বন্ধ করতে হবে। পর্নোগ্রাফি নিযন্ত্রণে বিটিসিএল এর কার্যকরী ভূমিকা নিতে হবে।

৫. তদন্ত চলাকালে ভুক্তভোগীকে মানসিক নিপীড়ন-হয়রানি বন্ধ করতে হবে। তার আইনি ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

৬. অপরাধ বিজ্ঞান ও জেন্ডার বিশেষজ্ঞদের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়িয়ে ঝুলে থাকা মামলা দ্রুত শেষ করতে হবে।

৭. ধর্ষণ মামলার ক্ষেত্রে সাক্ষ্য আইন ১৮৭৯-১৫৫ (৪) ধারাকে বিলোপ করতে হবে এবং মামলার ডিএনএ আইনে সাক্ষ্য প্রমাণের ক্ষেত্রে কার্যকর করতে হবে।

৮. পাঠ্যবইয়ে নারীর প্রতি অবমাননা ও বৈষম্যমূলক প্রবন্ধ, নিবন্ধ, পরিচ্ছেদ, ছবি, নির্দেশনা ও শব্দচয়ন বাদ দিতে হবে।

৯. গ্রামীণ সালিশে ধর্ষণের অভিযোগ ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে হবে।

বিজ্ঞাপন

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

আরও পড়ুন
Loading...
DMCA.com Protection Status