পাটকল আন্দোলন ও রুহুল আমিন: তারুণ্যের নয়া মুখ

বিজ্ঞাপন

খুলনার পাটকল আন্দোলনের নেতা রুহুল আমিন এখন জেলে! এই বৃহত্তম জেলের মধ্যে চার দেয়ালের আরেক জেলখানায় তিনি বন্দী! ফ্যাসিজম নিপীড়ন জারি রাখার জন্য দুনিয়ার সরকার নানা নিপীড়নের ফাঁদ বানায়, সেই রকম এক ফাঁদের নাম ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন’। সেই শৈশবে শেখা গল্প- এক বাঘ খালের এপারে আর এক হরিণ খালের অন্য পারে জল খেতে এলে বাঘ হরিণকে বলে, আমি তোকে খাবো। হরিণ বলে, কেনো? আমি তো এখনো শিশু, আমাকে কেনো খাবেন? বাঘ বললো, তোর বাবা আমার সাথে বেয়াদবি করেছে। হরিণ শাবক অবাক হয়ে বলে, আমার পিতা অনেক আগেই গত হয়েছেন! বাঘ বলে, তোর দাদা বেয়াদবি করেছিলো, তাই তোকে আমি খাবো। বলেই বাঘ হরিণ শাবকের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। খাওয়াটাই আসল কথা, জায়েজ করে নিলেই হয়। অন্যায় জারি রাখার এই পুরনো তরিকা এখনো বিরাজমান। সে যাক ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন আমার আজকের আলোচনার বিষয় নয়।

আজ আমি বলতে চাই এ দেশের পাটকল এবং তার সাথে যুক্ত এক তরুণ- রুহুল আমিন সম্পর্কে। এই ক্ষণকালের সময়, উন্নাসিকতা-ইয়ানফসি সময়ে রুহুল আমিনরা আমাদের মধ্যবিত্ত মনে স্বপ্ন দেখায়, সাহস দেখায়। বুক টান টান করে চোখের দিকে তাকিয়ে কথা কলার হিম্মত আমাদের যখন হারিয়ে যাচ্ছে তখন রুহুল আমিনরা আমাদের সামনে এসে দাঁড়ায়। আমাদের বাঁচার মত বুক ভরে শ্বাস নেওয়ার ভরসা দেয়। রুহুল আমিন প্রতিনিধিত্ব করে সেই কমরেড তাজুল ইসলাম, সাফদার হাসমীদের।

রুহুল আমিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা বিভাগে স্নাতক শেষ করে রাজনৈতিক কারণে মাস্টার্স শেষ না করে খুলনা শহরে চলে যান। তিনি গণজাগরণ মঞ্চে ঢাকায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছিলেন। খুলনায় গিয়ে রুহুল আমিন একদল তরুণ কিশোরদের নিয়ে সুন্দরবন রক্ষা আন্দোলনে যুক্ত হন। ২০১৯ এর দিকে সরকারি পাটকলগুলোতে মজুরী কমিশনের আন্দোলনে জুড়ে গেলেন তিনি। শ্রমিকদের সাথে এক অন্তরঙ্গ সম্পর্ক তৈরি হলো, আর মজার ব্যাপার হলো এই আন্দোলনে শহরের বেশ কিছু তরুণ যুক্ত হয়ে গেলো রুহুল আমিনের দলে, যারা কিনা রাজনীতি দলাদলি পার্টি এইসবের থেকে দূরে থাকতে পছন্দ করে।

সময়টা মে মাস, রোজা চলছে, প্রচণ্ড গরম। খালিশপুরের শ্রমিকেরা রোজা রেখে আন্দোলন করছেন। ইফতারের সময় তারা সবাই একসাথে নতুন রাস্তায় ইফতার করছেন, ওখানেই নামাজ পড়ছেন। বলে রাখা ভালো, এসবই আন্দোলনের অংশ। রাজনীতি আর ধর্মকে মিলেমিশে এক করেন তারা। আমাদের বামদলের নেতা আর দু’একজন শ্রমিক নেতা দাবি করা মানব সন্তান ঐ আন্দোলনের আশেপাশে ঘুরে বেড়ান, অন্যদিকে সিবিএ নেতারা উপরের মহলের ক্রীড়ানক হিসেবে কাজ করেন। সেই সময় রুহুল আমিন আর তার সাথে জুটে যাওয়া ঐ তরুণ ছেলের দল একটা ভ্যানে এক ড্রাম শরবৎ আর কিছু খেজুর নিয়ে রোজাদার অভুক্ত শ্রমিকদের মধ্যে বিলিয়ে বেড়ান। সাধারণ শ্রমিকেরা ভিড়ে যান রুহুল আমিনদের সাথে, তাদের নিজেদের একজন ভাবতে শুরু করে। বেতন বোনাস না পাওয়া শ্রমিকেরা প্রতিদিন ঐ নতুন রাস্তায় এভাবেই তাদের আন্দোলন-কর্মসূচী চালায়। রুহুল আমিনরা এবার নানা জায়গায় মানুষের সাথে যোগাযোগ করেন এই শ্রমিকদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য।

দলীয় রাজনীতিতে বিরক্ত মানুষ কিন্তু শুভশক্তির এই মানুষগুলো কিছু করতে চান, শ্রমিকদের পাশে থাকতে চান অথচ আমাদের তথাকথিত রাজনৈতিক শক্তির বিবর্তন তাদের দূরে ঠেলে দেয় বারবার। পার্টির আমিত্ব মতাদর্শিক সঠিকতার বিশ্লেষণ করতে করতে তারা যখন বিপর্যস্ত। এইসময় রুহুল আমিন সেইসব শুভ বুদ্ধির সাধারণ মানুষকে নিয়ে ‘শ্রমিক-ছাত্র-জনতা ঐক্য’ নামে এক প্লাটফর্ম তৈরি করে, যেখানে দলীয় রাজনীতির বাইরে একদল রাজনৈতিক সচেতন মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়। রুহুল আমিন একদিন সকল শ্রমিকদের ইফতারের ঘোষণা দেন। প্রতিদিন যে শ্রমিকেরা আলাদাভাবে অর্থাৎ তাদের সিবিএ অনুযায়ী ইফতার করতো তারা একসাথে সংঘবদ্ধভাবে ইফতার করবে, এখানে এক ঐক্যের দৃশ্য দেখা যায়। প্রচলিত বামধারার দলীয় কর্মীরা বিরক্ত হন, তারা ফিসফাস করেন- এত বড় আয়োজন কীভাবে করবে, এত লোককে একসাথে কীভাবে খাওয়াবে, সব ডোবাবে। ইঁচড়ে পাকা রুহুল আমিনকে ভৎসনা করা শুরু হলো।

ওদিকে রুহুল আমিনরা দৃঢ়, তারা গণচাঁদা সংগ্রহ করলো। আয়োজন হলো ইফতারের। ঐদিন প্রশাসনের মধ্যেও একধরনের চঞ্চলতা শুরু হলো। ‘শ্রমিক-ছাত্র-জনতা ঐক্য’ এরা আবার কারা? কারা আছে এদের পেছনে? কী হবে এখানে? অন্যদিকে রুহুল আমিনের দল কিন্তু সকাল থেকে ইফতারের আয়োজনে ব্যস্ত। ইফতারের পরে হবে সঙ্গীত, প্রতিবাদী নাটক। এটাই বাংলাদেশ, এই অসাম্প্রদায়িকতা শ্রমিক কৃষকের মধ্যেই পাওয়া যায়। সারাদিন রুহুল আমিনরা এই আয়োজনে এত ব্যস্ত ছিলো যে তাদের নিজেদের কারো খাওয়া হলো না। কেউ জানলো না এই ছেলেগুলো ঐ শ্রমিকদের জন্য যে রান্না করলো সেই খাবার কেউ চেখে দেখেনি কেমন হয়েছিলো খাবারগুলো কারণ ওদের ইচ্ছে ছিলো শ্রমিকদের নিয়ে একসাথে বসে খাবে ওদের বানানো ইফতারগুলো। এই আয়োজনে সাধারণ শ্রমিকেরাও যুক্ত হয়ে গেলো। বিকেল থেকেই বামপন্থী ভাইসকলদের দেখা গেলো মঞ্চের আশেপাশে। তারা আশ্বস্ত হলো যে রুহুল আমিনের দল আয়োজন সফলভাবেই করেছে। এবার তাদের চেহারা মঞ্চে দেখাতে হবে তাই মঞ্চ দখল করে রুহুল আমিনের দলকেই যেন বের করে দেয়া যায়। সেই চেষ্টাই আপ্রাণ শুরু করা হলো! রাজনীতির মারপ্যাঁচ না বোঝা রুহুল আমিনের দল মঞ্চ থেকে দূরে। কীভাবে তারা সঠিকভাবে শ্রমিকদের হাতে ইফতারগুলো পৌঁছে দেবে তাই নিয়ে তারা ব্যস্ত।

এরমধ্যে প্রশাসনের কর্তারা গন্ধ শুকতে মঞ্চে হাজির হলেন। শ্রমিকেরা খুব ভদ্র ভাষায় তাদের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করলো। তখনই বোঝা গিয়েছিলো এই ‘শ্রমিক-ছাত্র-জনতা ঐক্য’ই শ্রমিকদের তাৎক্ষণিক দাবী পূরণ করে দেবে, কারণ শাসক ভয় পায় জনগণের ঐক্যকে। সেইদিন নতুন রাস্তায় হওয়া উদীচীর রোমেল রহমান রচিত নাটক ‘পাওনা’ প্রতিটি সংলাপের সাথে শ্রমিকের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে শ্রমিকের পাশে ঠিকঠাক দাঁড়াতে পারলে তারাও সংগ্রামে সামিল হয়।

No description available.

এরপর রুহুল আমিনের দলকে দেখা যায় কৃষকের সাথে গ্রামে ধানের ন্যায্যতার সংগ্রামে। ‘সম্মিলিত কৃষক সমাজ’ নামে গ্রামে গ্রামে ঘুরে বেড়ায় রুহুল আমিনের দল। তারা ধানের ন্যায্যতা সরাসরি মধ্যসত্ত্বভোগিদের বদলে কৃষক আর জনতা যোগাযোগ ঘটাতে চাইলো। এই বৃহৎ কর্মকাণ্ডের লড়াইয়ে রুহুল আমিনরা বেশ কিছু সফলতা নিয়ে আসলো। এরপর আবার পাটকল চিত্র। এবারের দাবি- মজুরী কমিশনের শ্রমিকেরা বর্তমান মজুরি কমিশনে তাদের মজুরী চান, অনশনে চলে যান পাটকলের শ্রমিকেরা। সেখানে রুহুল আমিনের দল ঝাঁপিয়ে পড়েন তাদের সেইম ‘শ্রমিক-ছাত্র-জনতা ঐক্য’  নিয়ে। শ্রমিকদের এই আন্দোলনে এক নতুন মাত্রা যুক্ত করে শ্রমিকদের পরিবারের সদস্যদের অংশগ্রহণ, তারাও শ্রমিকদের সাথে অনশনে বসেন। রুহুল আমিনদের সাথে যুক্ত সদস্য নির্মাতা মিহিরের শ্রমিক আন্দোলন নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্র ‘নহি যন্ত্র আমি মানুষ’ প্রদর্শন শুরু করেন শ্রমিক এলাকাগুলোতে এইরকম উন্মুক্ত চলচ্চিত্র প্রদর্শনী করেছিলেন কমরেড আজিজুর রহমানরা ষাটের দশকে খুলনাতেই শ্রমিকদের মধ্যে।

 

রুহুল আমিনদের প্রদর্শনী আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলো প্রতিটা শ্রমিক সংঘের মাঝে। আর আমাদের বাম নেতাগণ সংহতি প্রকাশের খেলায় মেতে উঠলেন। তারা একটা কাজ খুঁজে পেলেন- বক্তৃতা আর বিবৃতি দেয়া। অথচ সুচতুর সিবিএ নেতারা শ্রমিকদের ঘরে ফেরানোর নানা ফন্দি ফিকির করছে। তখন শ্রমিকদের পাশে রুহুল আমিনরা অটল হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। অনেক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়ছিলেন। কোন কোন শ্রমিক অনশনরত অবস্থায় রিক্সা চালিয়েছেন পরিবারের অন্য সদস্যদের খাবার জোটানোর জন্য। কোন শ্রমিক মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। রুহুল আমিনরা দৌড়ে বেড়িয়েছেন শ্রমিকদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য।

No description available.

 

১৫ ডিসেম্বর রুহুল আমিনরা সিদ্ধান্ত নিলেন ‘শ্রমিক-ছাত্র-জনতা ঐক্য’র ব্যানারে শ্রমিক পরিবারের বিশেষ করে তাদের সন্তানদের নিয়ে একটা মিছিল করবেন। কিন্তু ১৪ ডিসেম্বর রাতে সিবিএ নেতারা সাধারণ শ্রমিকদের সাথে ছলচাতুরী করে প্রায় শেষ রাতের দিকে আন্দোলন স্থগিত করতে বাধ্য করলেন। রুহুল আমিনের ভাষায় ঐ রাতে তিনি দান্তের ‘ইনফার্নো’র দৃশ্যায়ন দেখেছেন। জোর করে শ্রমিকদেরকে উঠিয়ে দেয়া হয়েছে। কেউ কেউ নদীর ওপারে থাকেন, তাদের জোর করে নৌকায় তুলে দেয়া হয় শেষ রাতে। সেই নৌকার মধ্যে ঐ পরাজিত সৈনিকের মুখ রুহুল আমিনের কাছে ইনফার্নোর মতো। অথচ ঐ দিন উপস্থিত বাম নেতারা সাধারণ শ্রমিকদের পাশে দাঁড়াননি। জানা যায় তাদের কেন্দ্রীয় নেতাদের অনেকে বিকেলে উপস্থিত থাকেন এবং কেবলমাত্র সংহতি প্রকাশ করেই তারা ফিরে যান এবং স্থানীয় নেতারা সাধারণ শ্রমিকদের পাশে দাঁড়িয়ে কোন প্রতিবাদ করেননি।

ঐ আন্দোলন ঐদিন ব্যর্থ হয়। পরদিন সকালে একদল শ্রমিক আক্রোশ নিয়ে চিৎকার করতে থাকে। রুহুল আমিনের দিকে তাকিয়ে এক সাধারণ শ্রমিক বলে ওঠেন- “এই, তুই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিবি, আয়, তোর মত নেতা দরকার”। রুহুল আমিন কিছু বলে না। মিছিল শুরু হয়, প্রতিবাদের মিছিল। গতকাল রাতের শত অপমানের মিছিল। দূরে বামপন্থী ভাইগণ ডাইলেক্টিকের ভাষায় হিসেব কষেন- এই মিছিল শুধু ক্ষোভ দমিয়ে দেয়ার মিছিল। রুহুল আমিনরা অসুস্থ শ্রমিকদের দেখতে হাসপাতালে যান। এরপর রুহুল আমিনের দল সংগঠিত করেন শ্রমিকদের, আবার আন্দোলন তীব্রতর হয় এবং শ্রমিকেরা অনশনে বসেন। ‘শ্রমিক-ছাত্র-জনতা ঐক্য’ শ্রমিক, সন্তান এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের নিয়ে মিছিল করে নতুন রাস্তায় কর্মসূচী পালন করেন। এর পরদিন মজুরী কমিশনের দাবী সরকার মেনে নেয়।

রুহুল আমিন কোভিড-১৯ এও শহরে নানা কাজ করেছেন। সে তার সহযাত্রীদের নিয়ে ত্রাণ বিতরণ করেন। তারা বানিশান্তা যৌনপল্লীতে ত্রাণ পৌঁছান, তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের কাছে ত্রাণ পৌঁছান, শ্রমিকদের মাঝে ত্রাণ দেন। আটকে পড়া বাসের কর্মীদের সাথে ঈদ উদযাপনসহ নানারকম কাজ করেছেন লকডাউনে। এরপর সরকার হঠাৎ করেই পাটকল বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়, সাধারণ শ্রমিকরা হতবাক হয়ে যায়। অন্যদিকে সিবিএ নেতা আর বিজেএমসি সরকার পুলিশ দিয়ে শ্রমিক আন্দোলনকে দমানোর নানা প্রক্রিয়া শুরু করলো। রুহুল আমিন ‘শ্রমিক-ছাত্র-জনতা ঐক্য’ নামের সাথে পাটকল রক্ষা যুক্ত করে আন্দোলনে যুক্ত হলেন।

এদিকে বামপন্থীরা রুহুল আমিনের সেই প্লাটফর্মে যুক্ত না হয়ে তারা অন্য আরেকটি প্লাটফর্ম বানিয়ে আন্দোলনে একধরনের দ্বৈততা শুরু করলো। রুহুল আমিনরা সবকিছু মেনে নিয়ে তাদের সাথে আন্দোলনে যুক্ত হলে পুরনো দায়সারা আন্দোলন আর শ্রমিক আন্দোলনকে নিজেদের পরিচয়ের হাতিয়ার বানিয়ে এই আন্দোলনকে গতিহীন করে দিলো। রুহুল আমিনরা তরুণ, তারা আন্দোলনের ফল দেখতে চায়। এর আগে ‘শ্রমিক-ছাত্র-জনতা ঐক্য’ ব্যানারে লড়াই সংগ্রাম করে তারা দাবী আদায় করেছে তাই তাদের মনে হয়েছে এইরকম আন্দোলন দিয়ে কিছু হবে না। তাই রুহুল আমিনদের সাথে বামদের যৌথতা থেমে যায়। এতে লাভ হয় বিজেএমসি আর সিবিএ নেতাদের। মিল বাঁচানোর আন্দোলন যেখানে গতিশীল হবে, শ্রমিকরা যখন বিকল্প নেতৃত্ব খুঁজছে তখন কেমন যেনো এই আন্দোলন খেই হারিয়ে ফেললো। এরপর আরও নানা ঘটনার পর রুহুল আমিন গ্রেফতার হলেন। আমার এতসব কথা বলার কারণ হলো- এইসব রুহুল আমিনদের কি রাজনৈতিক বুদ্ধিবৃত্তিক মানুষেরা বুঝতে পারেন? রুহুলদের চোখের ভাষা কি তারা পড়তে পারেন? রুহুল আমিনরা যখন প্রশ্ন করেন তখন অনেকেরই ঔদ্ধত্য মনে হয়।

রুহুল আমিনরা কিন্তু একজন সাম্য, একজন মিহির, একজন দোলন, একজন শ্রমিক আলমগীর তৈরি করেন। তাদের নিয়ে একসাথে হাঁটেন, লড়াই করেন। রুহুল আমিনের গ্রেফতারের পর এই ছেলেগুলোই লড়াই করছে রুহুল আমিনকে ছাড়ানোর জন্য। কতইবা বয়স তাদের? শ্রমিক আলমগীর ছাড়া কারো বয়স বোধয় ত্রিশ পেরোয়নি। রুহুল আমিনেরই বা কতটুকু বয়স! এই বয়সেই তো ভুল করবে। এই বয়সেই তো চোখে চোখ রেখে কথা বলবে। কিন্তু ভুল না করা সেই বিজ্ঞ বাম নেতারা রুহুল আমিনের মুক্তির জন্য কী করছে? তাদের দায়সারা নির্লিপ্ততা দৃশ্যমান।

খালিশপুরের হাওয়ায় কান পাতলেই শোনা যায় দু’একজন নাকি খুশি হয়েছেন রুহুল আমিনের এই পরিণতিতে! ইঁচড়ে পাকাদের ভালো শায়েস্তা হয়েছে। শ্রমিকদের অধিকার আদায় নয় বরং দলে ভেড়ানোই যেনো এই মূহুর্তের জরুরী কাজ। তাদের কিসের ভয় এই রুহুল আমিনদের? রুহুল আমিনকে গ্রেফতারের কারণ হিসেবে নাকি দেখানো হয়েছে- তিনি নতুন কিছু করতে চেয়েছেন, নতুনভাবে কোন আন্দোলন। তাই প্রশাসন সরকার চিন্তিত। তেমনি রুহুল আমিন যখন শ্রমিক আন্দোলনে নতুন সংযোজন করছেন শ্রমিকদের দাবী আদায়ের জন্য সেই সময় আমাদের বাম বিজ্ঞগণ রুহুল আমিনের ভুল বিশ্লেষণে ব্যস্ত। যারা কিনা এই সরকারকে ফ্যাসিস্ট বলে গলা ফুলিয়ে বেড়াচ্ছেন তারাই আবার রুহুল আমিনদের অস্তিত্বে অস্বস্তি বোধ করেন! এমনকি ২০ মার্চে খুলনায় ‘পাটকল সংগ্রাম পরিষদ’ ব্যানারে আয়োজিত সেমিনারে উপস্থিত কেউ রুহুল আমিনের মুক্তির ব্যাপারে টু-শব্দটি করেনি।

রুহুল আমিন এখন তারুণ্যের মুখ। রুহুল আমিনের দেখানো পথে অনেক তরুণ যুক্ত হচ্ছেন। তারা “শ্রমিক-ছাত্রজনতা ঐক্য” গড়ে তুলছেন। রুহুল আমিনদের জয় সুনিশ্চিত।

লেখক: নির্মাতা ও এক্টিভিস্ট

বিজ্ঞাপন

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

আরও পড়ুন
Loading...
DMCA.com Protection Status