পুরুষদের অবাক করে মিলের কঠিন কাজটা করেন রজুফা

বিজ্ঞাপন

রাজশাহী: নারীকে লড়াই করে পুরুষের কাতারে এসে তার সক্ষমতা প্রমান করতে হচ্ছে সর্বত্র। নারীর সফলতার যেসব গল্প আমরা জানছি তা এরোপ্লেন, ট্রেন, ট্যাক্সি ও মোটরসাইকেল চালানো কিংবা উচ্চ পদস্থ কোনো কাজ।কিন্তু শ্রমজীবী নারীদের অনেক গল্প আমাদের অজানা। এদেশে শ্রমিক শ্রেনীতে নারীদের অংশগ্রহণমূলক কাজের দৃষ্টান্ত বহুপূরনো। তবে যে কাজ নারী পারবেনা বলে জানা হয় সেটি করতে যখন কোনো নারী সক্ষতা প্রমাণ করেন তখন কাজটি  যা-ই হোকনা কেন সেটিকে সফলতা বলতে হয়।

এমন একটি চ্যালেঞ্জিং কাজ ডাল মিলের হেড মিস্ত্রি। ডাল মিলের হেডমিস্ত্রী কাজে করতে পুরুষ ছাড়া নারীকে সক্ষম হিসেবে ভাবেননা মালিকরা।  কিন্তু সেই কাজে পুরুষের সমান শ্রম ও মেধার সাক্ষ্য রেখেছেন এক সংগ্রামী নারী রজুফা বেগম (৫৫)। রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বরে বাসিন্দা রজুফাকে বাংলাদেশের প্রথম ডাল মিলের নারী হেডমিস্ত্রী বলা যায়।

ডাল মিলের মালিকদের সংগঠন সূত্রে জানা যায়, পুঠিয়া উপজেলায় মোট ২৫০টি ডাল মিল আছে। এসব মিলের মধ্যে একমাত্র নারী হেডমিস্ত্রী রজুফা বেগম। তিনি পুরুষের তুলনায় মিল মেরামতের কাজ অনেক ভালো করতে পারেন।

জানা যায়, গত ২৫ বছর ধরে শ্রমিক হিসেবে বিভিন্ন ডাউল মিলে কাজ করে চলেছেন তিনি। ৮ বছর ধরে হেডমিস্ত্রী হিসেবে বানেশ্বরে অবস্থিত সুফিয়া ডালমিলের চারটি ইউনিটের প্রধান হিসেবে তিনি একাই কাজ করে আসছেন।

ডালমিল মেরামতের কাজ করে তিনি ছেলে-মেয়ে বড় করেছেন, বিয়ে দিয়েছেন। পাঁচকাঠা জায়গা কিনে ছাদ ঢালাই পাকা বাড়ি করেছেন। বর্তমানে চারটি ডালমিলের মেরামতের সব দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া ডালমিল মালিকের মিল সংলগ্ন গরুর খামার দেখাশোনা করেন।

মাত্র ১২ বছর বয়সে রজুফার বিয়ে হয়। বিয়ের মাত্র ৫ বছরের মাথায় মদ্যপ স্বামীর অত্যাচার-নির্যাতন সইতে না পারে ৫ বছরের ছেলে লাভলু এবং তিন বছরের মেয়ে সন্তান রোজিনা নিয়ে চলে আসে বাবার বাড়িতে। এসময় বানেশ্বরের ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান প্রয়াত আব্দুস সোবাহান সরকার তাকে ডাল মিলে শ্রমিকের কাজ দেন। সেই থেকে শুরু তার জীবন সংগ্রাম।

রজুফা বেগমের মতে সকল ক্ষেত্রে মেয়েদের অংশগ্রহণ আস্তে আস্তে বাড়ছে। তিনি বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ কাজ হলেও আমি অভ্যাস্ত। একজন নারী চাইলেও সব কাজ করতে পারে। যেমন আমি করি। আমার কাজ দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে প্রায় ৩০ জন নারী দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে এখানে কাজ করছে। এ কাজ করে প্রতিমাসে ১৬ হাজার টাকা আয় করি।

তিনি আরো বলেন- ‌‌‌ ‌‌ডাল মিলের মিস্ত্রীর কাজে নারী সহজে কেউ মেনে নিতে পারে না। এটা পুরুষের জন্য বরাদ্ধকৃত। একজন নারী কীভাবে করবে? এমন প্রশ্ন তোলেন অনেকেই। কিন্তু আমি কাজ করে প্রমাণ দিই।

মিলের ব্যবস্থাপক শরিফুল ইসলাম তাপস জানান, পুরুষ মিস্ত্রির চেয়ে রজুফা ভালো কাজ করেন। ডাল মিলের ইঞ্জিনের যান্ত্রিক ক্রটি রক্ষণাবেক্ষণ সহ ছোটখাটো মেরামতের কাজও করেন। এটাতে আমি আর অবাক হইনা।

বিজ্ঞাপন

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

আরও পড়ুন
Loading...
DMCA.com Protection Status