প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে আজ রাতে মাঠে নামছে বার্সা-চেলসি

বিজ্ঞাপন

চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বিগ ম্যাচে মুখোমুখি হবে বার্সেলোনা ও নাপোলি। ন্যু-ক্যাম্পে  ইতালিয়ান জায়ান্ট নাপোলিকে আতিথ্য দেবে বার্সেলোনা। অ্যাওয়ে গোলে এগিয়ে থাকায়, ম্যাচের আগে কিছুটা নির্ভার কাতালানরা। রাতের আরেক ম্যাচে অ্যালিয়েঞ্জ অ্যারেনায় বায়ার্ন মিউনিখের প্রতিপক্ষ চেলসি। প্রথম পর্বের বড় জয়, এখানেও আশা দেখাচ্ছে বাভারিয়ানদের। ম্যাচ দুটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত ১টায়।

বার্সেলোনার লা লিগাটা শেষ হয়েছে যাচ্ছেতাই ভাবে। তখনই পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা না থাকলে, ইউসিএলে টিকে থাকা কঠিন হবে বলে সাবধান বাণী দিয়েছিলেন লিওনেল মেসি। রিয়াল আর য়্যুভেন্তাসের বিদায়ে সে সতর্কতাটাই দেখা দিয়েছে আরো বড়ভাবে। আর যা আবার সেতিয়েনের কপালের চিন্তার ভাঁজগুলোকে স্পষ্ট করেছে কয়েক গুণ। করোনার প্রভাব কাটিয়ে জুনে ফুটবল ফেরার পর থেকেই ছন্দে নেই বার্সেলোনা। এক ম্যাচে জিতেছে তো, পরের ম্যাচেই হারিয়ে খুঁজেছে নিজেদের। তার ওপর কোচ বরখাস্তের একের পর এক গুঞ্জন দলের মানসিক অবস্থাকে করেছে আরো সঙ্গিন। মাঠে বার্সেলোনাকে দেখে মনে হতে পারে, খেলাটাই হয়তো ভুলে গেছে টিকিটাকা সম্রাটরা। অতিরিক্ত মেসি নির্ভরতা কতটা খারাপ হতে পারে, তা হারে হারে টের পাচ্ছে কাতালান ক্লাবটি।

স্কোয়াড, একাদশ নিয়েও খুব একটা স্বস্তিতে নেই কিকে সেতিয়েন। নিষেধাজ্ঞায় থাকবেন না সার্জিও বুস্কেটস। সংশয় আছে আর্তুরো ভিদালকে নিয়েও। তবে, খুশির খবর ইনজুরি কাটিয়ে ফিরেছেন লুইস সুয়ারেজ, ল্যাংলেট এবং ডি ইয়ং। কিন্তু, তাদের ম্যাচ ফিটনেস নিয়ে এখনো খুব একটা আশাবাদী নন কোচ। এ অবস্থায় আনসু ফাতি কিংবা রিকি পুজের দলে থাকাটা খুব একটা চমক হবে না সমর্থকদের জন্য।

যদিও, বড় ম্যাচে তাদের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েই গেছে। এতো খারাপের মাঝেও যদি কিছু ভালো খবর থেকে থাকে, তা হলো ম্যাচটির ভেন্যু নূ ক্যাম্প। নিজেদের মাঠে শেষ ৩৫ ম্যাচে হারেনি বার্সেলোনা। যদিও, ফাঁকা স্টেডিয়াম থেকে সে সুবিধা কতটা নিতে পারবে তা জানা নেই কারোই।

দল নিয়ে যতটা বাজে অবস্থায় আছে বার্সেলোনা, ঠিক ততটাই যেন ভালো অবস্থায় নাপোলি। জেনেরো গাত্তুসোর অধীনে ইতালিয়ান জায়ান্টরা এখন অনেক বেশি স্থিতিশীল। ইনজুরি নিয়েও খুব একটা ভাবনা নেই তাদের। যদিও, মানোলাসকে এ ম্যাচে পাওয়া যাবে কি না তা এখনো নিশ্চিত নয় ক্লাব কর্তৃপক্ষ। কিন্তু, ম্যাচের শুরু থেকেই থাকবেন ইনসিনিয়ে এবং কৌলিবালি।

একটা অ্যাওয়ে গোল অবশ্য এগিয়ে রাখবে বার্সেলোনাকেই। এ পর্বে গোল শূন্য ড্র হলেও, কোয়ার্টারে উঠে যাবে কাতালুনিয়ারা। সেদিক থেকে বিবেচনা করলে, চাপে থাকবে নাপোলিই। সঙ্গে ইতিহাসটাও পক্ষে নেই ইতালিয়ানদের। ইউসিএল মঞ্চে দ্বিতীয় রাউন্ডের পর যে কখনই খেলা হয়নি তাদের।

রাতের আরেক ম্যাচে অ্যালিয়েঞ্জ অ্যারেনায় চেলসিকে আতিথ্য দেবে বায়ার্ন মিউনিখ। প্রথম পর্বের ৩-০ গোলের জয়, কোয়ার্টারের পথে অনেকটাই এগিয়ে রেখেছে বাভারিয়ানদের। তার ওপর তাদের সাম্প্রতিক ফর্মটাও দুর্দান্ত। লিগ, কাপ সব জায়গাতেই বায়ার্নের জয় জয়কার। ফর্মের তুঙ্গে আছেন ফুটবলাররাও। ব্যালন ডি’অর বাতিল না হলে, লেওয়ান্ডোস্কির হাতেই না কি উঠতে পারতো এবারের ট্রফিটি।

অন্যদিকে, ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে কষ্টেসৃষ্টে ৪ নম্বর জায়গাটা ধরতে পেরেছে চেলসি। ল্যাম্পার্ডের অধীনে এখনো দল গোছানোতেই ব্যস্ত ব্লু’রা। তাই তো, নিজেদের মাঠের বড় হার থেকে শিক্ষা নিলেও, জার্মানদের মাঠে কতটা প্রয়োগ করা যাবে তা নিয়ে সন্দেহ আছে বিস্তর। অতীত ইতিহাস অবশ্য কিছুটা হেলে আছে চেলসির দিকেই। ২০১২ চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালটা তো কখনো ভোলা সম্ভব নয় বাভারিয়ানদের জন্য। তবে, শেষ লেগ আর ২০১৩ এর উয়েফা সুপার কাপ জয়ের স্মৃতি আশা দেখাচ্ছে বায়ার্ন মিউনিখকে।

বিজ্ঞাপন

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

আরও পড়ুন
Loading...
DMCA.com Protection Status