প্রিয়জনকে বাঁচাতে এবার ঈদের নামাজটা ঘরেই পড়ুন

বিজ্ঞাপন

সকল ধর্ম-বর্ণ,নারী-পুরুষ,ধনী-গরীব,শিশু-বৃদ্ধ মোদ্দাকথা সকল মানুষেরই মনের আনন্দ কেড়ে নিয়েছে করোনা নামক এক ভয়ঙ্কর ভাইরাস। বিশ্বব্যাপী প্রাণ হারাচ্ছে অজস্র মানব সন্তান। বাংলাদেশের সংখ্যাটা হাতে গুনার মতো হলেও সংখ্যাটা মোটেও তা নয়; অন্তত আমার তা মনে হয় না।

আজকাল সর্দি-জ্বর এ মৃত্যু অনেক বেড়ে গিয়েছে। কিসের জন্য বেড়ে গিয়েছে সেটা কিছুটা হলেও আঁচ করতে পারি। আমাদের দেশে কোভিড-১৯ এর লোকাল ট্রান্সমিশন হয়ে গিয়েছে অনেক আগেই। হলফ করে বলতে পারি,আপনার আমার চোখের সামনেই ঘুরছে অনেক করোনা রোগী। না ভাই, সবাইকে তো সুস্থ দেখি!

ভাই,শতকরা ৮০ ভাগ মানুষের করোনার কোন লক্ষণই প্রকাশ পায় না। বাকি যে ২০ ভাগ আছে তাদের মধ্যে ৫ ভাগ মানুষ থাকে খুব ক্রিটিক্যাল অবস্থায় এবং বেশিরভাগই মারা যায়। বাকি ১৫ ভাগ চিকিৎসার ফলে সুস্থ হবার সম্ভাবনা থাকে।

এখন মূল কথায় আসি,কাল তো ঈদ-উল-ফিতর; ঈদের নামাজ পড়তে নিশ্চয় মসজিদে যাবেন সবাই। সাধারণত ৫-১০ শতাংশ মুসলমান পুরুষ মসজিদে জামায়াতে ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে থাকেন;করোনা আসার পর সেটা ৩০-৪০ শতাংশ হতে পারে কিন্তু বছরে দুটি ঈদের জামায়াত কোন মুসলমান পুরুষ জামায়াতে আদায় করেনি এমনটি আমার এই ক্ষুদ্র জীবনে চোখে পড়েনি। সুস্থ-অসুস্থ সবাই নামাজে যাবে;সর্দি-কাশি,জ্বরে ভোগা মানুষও ঈদের জামায়াত বাদ দেয়ার পক্ষে না। জীবন যায়,যাক। খুব অসুস্থ হলে অন্য ব্যাপার।

সেই হিসেবে বলতে পারি আগামীকাল বাংলাদেশের প্রত্যেকটা মুসলমান পুরুষ ১ হাজার করোনা রোগীর পাশে দাঁড়িয়ে,কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ঈদের নামাজ আদায় করবে;কেউ কেউ নামাজ শেষে কোলাকুলিও করতে পারে (উন্নত মানের ব্ল্যাক ব্যাঙ্গল ছাগল হলে কোলাকুলি করবে)।

জিজ্ঞেস করতে পারেন, ১ হাজার রোগী আপনি জানলেন কী করে। ভাই, প্রতিদিনের করোনা শনাক্তের সংখ্যাটা টিভিতে চোখ বুলিয়ে দেখে নিবেন সংখ্যাটা কমই মনে হবে। কালকে ঐ ১ হাজার পুরুষ যে পরিমাণ ভাইরাস স্প্রেড করবে তার রেজাল্ট পাবেন আগামী ১৪-২০ দিনের মধ্যে।

একটি মহান ধর্মের ধর্মীয় উৎসবের কারণে কোন মহামারি ভাইরাস গণহারে ছড়ি পড়ুক সেটা আমি সুস্থ মস্তিষ্কে চাইতে পারি না। আপনি কি চাইবেন আপনার ধর্মীয় উৎসব-আনন্দের জন্য আপনার কোন স্বজন দুনিয়া থেকে বিদায় নিক? অন্তত আপনার পাশে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করা কোন মুসলমান ভাই? যে কিনা আপনার মতোই এক আল্লাহ্‌’র নিকট সিজদাহ দিতো। উত্তরের অপেক্ষায় থাকবো।

আমি ঈদের নামাজের বিপক্ষে না,পক্ষেই তবে নামাজটা সবাই ঘরে পড়ুন। যেমনটা পড়েছে ইসলামের উৎপত্তিস্থল সৌদি আরবে। সৌদি আরবে ঈদ উপলক্ষে ৫ দিনের জন্য কারফিউ জারি করা হয়েছে। কাতার,কুয়েত,আরব আমিরাতে সব জায়গায় ঘরে নামাজ পড়েছে।

ওসব দেশে মানুষের জীবন আগে; বেঁচে থাকলে অনেক ঈদের জামায়াত পড়া যাবে। আল্লাহ্‌’র ইবাদত করা যাবে। মরে গেলে ওখানেই চিরদিনের জন্য সমাপ্তি।

এই ঈদের নামাজটা ঘরে পড়ুন, মরার আগে আগামী ঈদের নামাজটা ঈদগাহে গিয়ে সকল মুসলিম ভাইয়ের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পড়ার জন্য। নামাজ শেষে প্রাণ ভরে বুকে টেনে নিবেন আপনার মুসলমান ভাইটিকে।

সংবাদ২৪-এ প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব।
প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত পত্রিকার সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে 
এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় 
কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়।

বিজ্ঞাপন

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

আরও পড়ুন
Loading...
DMCA.com Protection Status