বেইজিংয়ের করোনার গোপন তথ্য ফাঁস করলেন ‘লি’

বিজ্ঞাপন

চীন করোনা ভাইরাস সম্পর্কে অনেক আগে থেকেই জানত বলে বিস্ফোরক তথ্য দিয়েছেন ভাইরাস বিশেষজ্ঞ ডা. লি মেং ইয়াং। তিনি হংকং স্কুল অফ পাবলিক হেলথের ভাইরাস এবং ইমিউনলজির একজন বিশেষজ্ঞ। তার দাবি, করোনা ভাইরাস নিয়ে গবেষণায় তিনিই বিশ্বের প্রথম বিজ্ঞানী।

তিনি অভিযোগ করেছেন, চীন গুরুত্বপূর্ণ গবেষণায় করোনা প্রতিরোধে ভূমিকা নিতে পারত। কিন্তু তাতে পাত্তা দেয়নি নামকরা বিশেষজ্ঞরা। তিনি চীনের একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বরত ছিলেন এবং গত এপ্রিল মাসে তিনি চীন থেকে পালিয়ে যান।

একটি গোপন স্থানে লি-এর ইন্টারভিউ নেয় আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ। সাক্ষাৎকারে ডা. লি দাবি করেছেন, অনেক আগেই তিনি এই ভাইরাসের বিষয়ে তার প্রতিষ্ঠানের শীর্ষকর্তাকে জানিয়েছিলেন। কিন্তু এর পরেই তার মতো ‘বিদেশিদের’ কাজ বন্ধ করে দেয় চীন। হংকংয়ের বাসিন্দা হয়েও কাজ চালিয়ে যাওয়ার অধিকার ছিল না তার।

ভাইরাস সম্পর্কে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে ডব্লিউএইচও এক বিবৃতিতে জানায়, চীনা কর্তৃপক্ষের মতে, ভাইরাসটি কিছু রোগীদের মধ্যে গুরুতর অসুস্থতার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং এটি মানুষের মধ্যে সহজেই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে না। সামগ্রিক ঝুঁকির বিষয়ে সেখানে সীমিত তথ্যও দেয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন লি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, হু-এর অনুমোদিত গবেষণাগারের প্রধান প্রফেসর মালিক পেইরিস করোনার সমস্ত বিষয়ই জানতেন কিন্তু এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি।
চীনের পরিস্থিতি সম্পর্কে লি জানায়, বহু রোগীই ঠিক মতো চিকিৎসা পরিষেবা পাচ্ছিল না। আমাদের চুপ করিয়ে রাখা হতো। মাস্ক পরে থাকতে হতো শুধু।

গত ২৮ এপ্রিল শুধু পাসপোর্ট আর টাকার ব্যাগ নিয়ে চীন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে যান হংকংয়ের বিজ্ঞানী ড. লি মেং ইয়াং। তার স্বামীকে সঙ্গে যেতে অনুরোধ করেছিলেন এবং বোঝাতে চেয়েছিলেন, তার স্ত্রী একজন স্বনামধন্য বিজ্ঞানী। যদিও প্রথমদিকে তার গবেষণার সমর্থক দিয়েছিলেন কিন্তু পরবর্তীতে তার সিদ্ধান্ত বদল করেন।

এখনো চীনেই রয়েছেন লি মেং-এর পরিবার। দুঃস্বপ্নের মতো এই সময়ে লি নিজেকে বিশ্বাস করাচ্ছে আর দেখা হবে না কারো সঙ্গে। কারণ তার দৃঢ় ধারণা, চীন সরকার তাকে কঠিন শাস্তি দিতে চায়।

লি দাবি করেছেন, চীন সরকার এখন তার খ্যাতি নষ্ট করার, তার উপর সাইবার-আক্রমণ চালানোর এবং চীনে তার পরিবারকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে।
করোনা মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ে সারা বিশে^র ১ কোটি ২৮ লাখের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন এবং মারা গেছেন ৫ লাখ ৬৭ হাজার ছাড়িয়েছে।

#সংবাদ২৪/অনলাইন/তুহিন 

বিজ্ঞাপন

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

আরও পড়ুন
Loading...
DMCA.com Protection Status