ভ্যাকসিন আবিষ্কারে কতটুক সফল ও ব্যর্থ হলেন বিজ্ঞানীরা ?

বিজ্ঞাপন

করোনাভাইরাস চীনে ব্যাপকভাবে সংক্রমণ শুরুর পর থেকেই বিজ্ঞানীরা তার প্রতিষেধক (ভ্যাকসিন) তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। কিন্তু চার মাস পেরিয়ে কী সফলতা পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা?

অন্যদিকে যথাযথ টিকা বা প্রতিষেধক আবিষ্কার না হলে এই ভাইরাস ফিরে ফিরে আসবে বলেও আশঙ্কা বিজ্ঞানীদের। ফলে সবার মুখেই এখন এক প্রশ্ন, কবে আসবে টিকা? যার কারণে টিকা উদ্ভাবনে সবার নজর।

সম্প্রতি বানরের শরীরে একটি নতুন উদ্ভাবিত ভ্যাকসিন (প্রতিষেধক) প্রয়োগ করে শতভাগ সাফল্য পেয়েছে বলে জানিয়েছে চীন। ভ্যাকসিনটির নাম – পিকোভ্যাক। বেইজিংভিত্তিক প্রতিষ্ঠান সিনোভ্যাক বায়োটেক এ ভ্যাকসিন তৈরি করেছে। একই ধরনের আরেকটি ভ্যাকসিন তৈরি করেছে চীনা সেনাবাহিনী। ইতোমধ্যেই হিউম্যান ট্রায়ালের দ্বিতীয় ধাপে প্রবেশ করেছে এটি।সারাহ গিলবার্ট

আরেক সফলতার আশ্বাস দিয়েছেন ব্রিটেনে আবিষ্কৃত করোনাভাইরাসের একটি ভ্যাকসিন। এই ভ্যাকসিন এর আগে অন্যান্য প্রাণীর শরীরে প্রয়োগ করে করোনাভাইরাস নির্মূলে ৮০ ভাগ সফলতা পাওয়া গিয়েছিল। বিশেষ করে বানরের দেহে তা কার্যকর হয়েছে। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ভ্যাকসিনোলজির প্রফেসর সারাহ গিলবার্ট তার এই গবেষণা নিয়ে খুবই আশাবাদী।

অন্যদিকে ভ্যাকসিন নিয়ে সফলতার গল্প বলছে ইতালি। রোমের স্পালানজানি হাসপাতালে সংক্রমণ বিশেষজ্ঞরা এই ভ্যাকসিন পরীক্ষা করেছেন। তাঁদের দাবি, ইঁদুরের দেহে করোনাভাইরাসের অ্যান্টিবডি তৈরি করার পর তা মানবদেহেও কাজ করেছে। গবেষকরা জানিয়েছেন, ইঁদুরের শরীরে তৈরি ওই অ্যান্টিবডি মানবকোষে করোনাভাইরাসকে নিষ্ক্রিয় করতে পারছে।

তবে ২০২১ ‍সালের আগে করোনা ভাইরাসের টিকা বাজারে আসার সম্ভাবনা নেই বলেই মত অনেক বিশেষজ্ঞর। তবে যুক্তরাজ্য জানিয়েছে সেপ্টেম্বরের মধ্যে তারা ভ্যাকসিন বাজারে নিয়ে আসবে। কিন্তু ইতিমধ্যে নতুন খবর দিয়েছে তারা। ভ্যাকসিন রাখার কাচের বোতলের সংকট রয়েছে তাদের দেশে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র চলতি বছরের কয়েক মিলিয়ন ডোজ ভ্যাকসিন তৈরির ঘোষণা দিয়েছে। তবে তাদের তৈরি ভ্যাকসিন প্রথম প্রয়োগ ব্যর্থ হয়েছে। যার কারণে আরো উঠেপড়ে লেগেছেন দেশটির বিজ্ঞানীরা।

২০০৩ সালে সার্স (সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটরি সিন্ড্রোম) ভাইরাসের ভ্যাকসিন তৈরি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল ভ্যাকসিন প্রয়োগের স্বেচ্ছাসেবকের অভাবে। তবে করোনাকালে সেই শঙ্কা নেই। যুক্তরাজ্যের সারাহর তৈরি ভ্যাকসিন ট্রায়াল দিতে শতাধিক ৭০ ঊর্ধ্ব ব্যক্তি স্বেচ্ছাসেবক হওয়ার আবেদন করেছিলেন।

এসব দেশ ছাড়া আরও কয়েকটি দেশে ভ্যাকসিন মানব শরীরে ট্রায়ালও হয়েছে। বাবার কয়েকটি পরীক্ষার জন্য অপেক্ষমাণ। আবার কয়েকটি প্রাণীর শরীরে খুব ভালো কাজ করছে। তৈরি করছে করোনাপ্রতিরোধী অ্যান্টিবডি।

চলতি মাসে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে বিশ্বব্যাপী ১১২ ভ্যাকসিনের নমুনা পেয়েছে তারা। যার মধ্যে ৭টি দেশকে পরীক্ষা চালানোর অনুমতি দেয়া হয়েছিল। এছাড়া ক্রমান্বয়ে অন্যান্য দেশও ভ্যাকসিন নিয়ে কাজ করার অনুমতি পাচ্ছে।

#সংবাদ২৪/ঢাকা/মাহমুদ

বিজ্ঞাপন

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

আরও পড়ুন
Loading...
DMCA.com Protection Status