মেয়ের ‘সেকুলার‘ সার্টিফিকেট করলেন অটোচালক

বিজ্ঞাপন

অটোচালক রাজবীর উপাধ্যায় ২০১৭ সালে নিজের এমন কোনো নাম এবং পরিচয় চেয়েছিলেন যেখানে ধর্ম পরিচয় ফুটবে না, কিন্তু তিনি পারেননি। তাই বলে হাল ছেড়ে দেননি তিনি।

নিজের কন্যার জন্য এ বার এক বিরল জিনিস করিয়ে নিয়েছেন ভারতের অহমদাবাদের এই মানব সন্তান। স্কুল লিভিং সার্টিফিকেটে তাঁর মেয়ের জন্য় বের করে নিলেন ‘সেকুলার’ অর্থাত্‍‌ ধর্মনিরপেক্ষ সার্টিফিকেট।

অটোচালক রাজবীর উপাধ্যায়ের মেয়ে আকাঙ্ক্ষার সার্টিফিকেটে কোনও ধর্ম-জাত-পাতের উল্লেখ নেই। এটাই সম্ভবত প্রথম কোনও স্কুল লিভিং সার্টিফিকেট, যেখানে ছাত্রের ধর্ম বা জাত-পাতের উল্লেখ নেই।

৩৬ বছরের রাজীবের তিন-চার মাসের অক্লান্ত প্রচেষ্টার কারণেই এই নথি জোগার করা সম্ভব হয়েছে। ১৩ বছরের ছোট্ট আকাঙ্ক্ষার সার্টিফিকেটে ধর্ম ও জাতের কলামটি খালি রাখা হয়েছে।

রাজবীরের কথায়, ‘আমরা যদি জাত-পাতহীন একটি সমাজ গড়ে তোলার চেষ্টা করি, তাহলে আমাদের নথি থেকে তাজ ও ধর্মের কলামটা তুলে দেওয়া থেকে শুরু করতে হবে। অহমদাবাদের ডিস্ট্রিক্ট কালেক্টর ও গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রূপাণির কাছে বারবার দরবার করে এই সার্টিফিকেট করাতে পেরেছি। অবশেষে স্কুল কর্তৃপক্ষও আমার এই দাবি মেনে নিয়েছে।’

২০১৭ সালে নিজের নাম বদলে এটা করার দাবিতে অহমদাবাদের ডিস্ট্রিক্ট কালেক্টরের কাছে আবেদন করেন রাজবীর। তাঁর নাম রাজবীর ও স্কুল লিভিং সার্টিফিকেটের এনরোলমেন্ট নম্বরকে জুড়ে নাম ঠিক করেছিলেন তিনি। সেই সময়ে তিনটি জাতপাতের বিপ্লব নিয়ে অস্বস্তিতে ছিল সরকার। একইসঙ্গে চলছিল সংরক্ষণের দাবিতে পতিদার বিক্ষোভ, সংরক্ষণ নিয়ে লড়াই চলছিল OBC-দের, আর জমির অধিকারের দাবিতে বিক্ষোভরত ছিলেন দলিতরা। সরকারের কাছে দাবি জানাতে বলা হয় রাজবীরকে। তবে তাঁর আবেদন খারিজ হয়ে যায়। এরপর গেজেট অফিসারের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ২০১৯ সালের এপ্রিলে গুজরাট হাইকোর্টে মামলা করেন রাজবীর।

বিজ্ঞাপন

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

আরও পড়ুন
Loading...
DMCA.com Protection Status