রহস্য রোমাঞ্চের দেবতাখুম

মোকাম্মেল হোসেন জয়, বান্দরবান থেকে ফিরে:

বিজ্ঞাপন

আপনি যদি একের পর এক খুমের সন্ধান করেন তাহলে চোখ বন্ধ করে আপনাকে যে কেউ বান্দনবান সাজেস্ট করবে। কারণ নৈসর্গিক বান্দরবানকে বলা হয় খুমের স্বর্গরাজ্য।

সেখানকার আকর্ষণীয় খুমগুলোর মধ্যে দেবতাখুম শ্রেষ্ঠত্বের দাবি করে। স্থানীয়দের মতে প্রায় ৫০-৭০ ফুট গভীর এই খুমের দৈর্ঘ্য ৬০০ ফুট অনেক বড় এবং অনেক বেশী বন্য।

অসম্ভব রকমের এডভেঞ্চার, একেবারে মনকে ভয়ার্ত করে দেয়ার জন্যে পারফেক্ট দেবতাখুম। ট্র্যাকিং, এডভেঞ্চার, রিস্ক সবমিলিয়ে খুবই রহস্যময়। একেবারে নেটওয়ার্ক এর বাইরে, ভিন্ন এক পরিবেশ। আশেপাশের সব সুনসান।

মোকাম্মেল হোসেন জয়, বান্দরবান থেকে ফিরে:

শব্দ হিসেবে থাকবে উপর থেকে পানির ফোটা পরার শব্দ, নিজেদের ভেলার আওয়াজ এবং আপনার কথারই প্রতিধ্বনি!

আশেপাশের পরিবেশটা এত ভুতুড়ে আর নীরবতার যে এটা আপনাকে রিয়েল এডভেঞ্চারের ফিল দিবে। বড় বড় দুই পাহাড়ের মাঝখানের এই খুম (গর্ত; যেখানে পানি জমে) ভিতরের দিকে একদমই অন্ধকার। সূর্যের আলো খুবই সংকীর্ণ হয়ে ভেতরে আসে।

দেবতাখুৃমের এই বর্ণনা দেয়ার জন্যই তো সেখানে যাওয়া। অনেক দিনের ইচ্ছা ছিলো দেবতাখুম যাবো। তাই পরীক্ষা শেষ করেই ২১শে ফেব্রুয়ারি রাতে #দ্যা_ট্রায়াল_সিকার্স_ট্যুর_গ্রুপের আট জনের সাথে বেরিয়ে পড়লাম দেবতাখুমের উদ্দেশ্যে।

রাত সাড়ে এগারোটায় সায়েদাদ থেকে শ্যামলী এন আর পরিবহনে রওনা দিলাম বান্দরবান এর উদ্দেশ্য!
ভোর সাড়ে ছয়টায় বান্দরবান পৌঁছে আমরা হিল ভিউ রেস্টুরেন্টে ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করলাম, তারপর আমাদের গাইড রনি চাকমা আমাদের রিসিভ করলো।

আমরা আটজন বান্দরবানের রোয়াংছড়ির উদ্দেশ্যে চাঁদের গাড়ীতে উঠলাম। পাহাড়ি উঁচু নিচু পথ দিয়ে যাওয়া খুব আনন্দের ছিলো আমরা সবাই পাহাড়ি দৃশ্য উপভোগ করতে করতে রোয়াংছড়ি থানায় যেয়ে পৌছালাম। সেখানে পুলিশের কাছ থেকে পারমিশন নিয়ে ফরম পূরণ করে কচ্ছপতলী রওনা দিলাম।

কচ্ছপতলী নেমে আর্মি ক্যাম্পে এন্ট্রি করে আমরা বেড়িয়ে পড়লাম দেবতাখুম জয় করতে!
কচ্ছপলী থেকে দুই তিন মিনিটের পথ হেঁটে একটা কয়েকটা উপজাতি বাড়ি পাড়ি দিয়েই আমাদের ট্র্যাকিং শুরু করলাম।
দুই পাহাড়ের মাঝখানে ঝিরির পানি, পাথর দিয়ে হেঁটে প্রায় দেড়ঘণ্টা পর দুর্গম পাহাড়ে একটি উপজাতি গ্রাম পেলাম সেই গ্রাম পেরিয়ে আমরা ছুটে চললাম।

দেবতাখুমে ঢুকার জন্য ভেলা এবং নৌকার ভাড়া দিয়ে যারা সাতার জানেনা তারা লাইফ জ্যাকেট নিয়ে নৌকায় বসে পড়লাম।
দুই পাহাড়ের মাঝখানে স্বচ্ছ সবুজ পানি দিয়ে চলছি। এমন ভাল লাগা আগে কখনোই ফিল করিনি।

১০মিনিটের মতো নৌকা পাড়ি দিয়ে একটু উঁচু জায়গা পেলাম যেখানে বড় বড় পাথর আর দুইটা উপজাতি চা’র টং (চায়ের দোকান), এটুকু হেঁটে আমরা পেলাম বাঁশের ভেলা আমরা আটজন আটটি বাঁশের ভেলা নিয়ে চলতে শুরু করলাম।

তবে আমার ভয় লাগছিল পানি এত গভীর তারপরও সাহস করে সবার সাথে চলতে শুরু করলাম। দুই ধারে উঁচু পাহাড় সূর্যের আলো নেই নিজের কথার প্রতিধ্বনি, নীরব সুনসান ভুতুড়ে পরিবেশ।

প্রায় পৌনে একঘণ্টা ভেলায় ভাসতে ভাসতে আমরা দেবতাখুমের মূল জায়গায় পৌঁছলাম। দেবতাখুম একার জন্য নয় কমপক্ষে ১০-১৫জন একসাথে যেতে হবে! ট্র্যাকিং এডভেঞ্চার সবমিলিয়ে দারুণ উপভোগ্য!

ওরে নীল দরিয়া আমায় দেরে দে ছাড়িয়া, বন্দী হইয়া মনোয়া পাখি হায়রে কান্দে রইয়া রইয়া 😌আহ এডভেঞ্চার পরিবেশে পাহাড়ীদের কন্ঠে কি সুন্দর গান ❤❤

Posted by Mokammel Hossen Joy on Sunday, March 1, 2020

বিজ্ঞাপন

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

আরও পড়ুন
Loading...
DMCA.com Protection Status