শ্রুতির ভালোবাসার প্রতিশ্রুতি

বিজ্ঞাপন

স্বাভাবিক সময়ে সারাক্ষণ ঘরের বাইরে টই টই করে বেড়ানো জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজবিজ্ঞানে পোস্টগ্রাজুয়েশন করা ছেলেটির এই করোনা অভিঘাতের সময় লকডাউন পরিস্থিতিতে অনেকদিনের পুরনো অভ্যাসে যেন ছেদ পড়লো। সৌখিন সাংবাদিকতা করে বেড়ানো আর টিউশনির উপর ভর করেই চলে একা একজনের যাপিত জীবন। পরিবারে আর কেউই নেই। মা – বাবা প্রয়াত হয়েছেন বেশ আগেই, সহোদর ভাই – বোনও নেই। ব্যাংকার বাবার মৃত্যুর পর মাতুলালয়েই বড় হয়েছিলো ছেলেটি আর দু’বছর আগে মায়ের মৃত্যুর পর নিজেই আপন মনে দিন কাটাচ্ছে। যোগ্যতানুসারে চাকরী-বাকরী পাওয়ার আশা ছেড়ে দিয়ে বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতি অথ্যাৎ হোমিওপ্যাথিক কোর্সে মনোনিবেশ করেছে। মায়ের দুরারোগ্য রোগের চিকিৎসাতেই একসময় শেষ হয়ে গিয়েছিলো পিতার রেখে যাওয়া সর্বস্ব।

সে যাই হোক, করোনার এই সময়ে ফেসবুক আর সিলেট টুডে পত্রিকার অনলাইন ভার্সন যেনো হয়ে উঠে কৃষ্ণদ্বৈপায়নের সময় কাটানোর এক বড় মাধ্যম। মাঝে সাঁঝে দু’একটা সংবাদ পাঠানো আর কালেভদ্রে কারো প্রয়োজনে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যটুকু বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া এতটুকু বলতে গেলে সারাদিনের কাজ। ব্যাস… এভাবেই চলছে করোনাকালের লকডাউনের নিত্যদিন।

৩২ বছর পেরিয়ে গেলেও সে হিসেবে কোন প্রণয়িনীর খোঁজ করা হতো না, কারণ বলতে গেলে যা বলা যায়, হয়তো নিজের ভিতরে থাকা সীমাবদ্ধতাজণিত হীনমন্যতা কাজ করতো অথবা কলেজ জীবনের একতরফা প্রথম প্রেমের ব্যর্থতার বেদনায় নীল হয়ে যাওয়ার প্রেক্ষিত সম্ভবত! হয়তো সামাজিক ভয়ও কাজ করতো মনে, ব্রাহ্মণ পরিবারের সন্তান হিসেবে তো আর সমাজের নিয়ম ভেঙে সব হিসেব নিকেশ চুকিয়ে পারা যায় না, যে কারো কে মনের আয়নায় দেখে ঘরনী করে নিতে। জানেন তো আমাদের সমাজ, না জানি এতে আবার সুখের বদলে কি সামাজিক শাস্তির খড়গ নেমে আসে ! তবুও চলছে জীবন জীবনের মতো করে, কারো প্রতি নেই কোন অভিমান, নেই কোন অভিযোগ।

এই তো সেদিন লকডাউনের দিনকালের একটি দিন ১৯ এপ্রিল। প্রতিদিনকার মতো ফেসবুকের নিউজফিড আওড়িয়ে যাচ্ছে কৃষ্ণদ্বৈপায়ন। হঠাৎ চোখে পড়লো একটি ফেসবুক আইডি, মুহূর্তেই নাম ও ছবি যেন মনকে জানান দিলো একটা বন্ধুত্বের অনুরোধ পাঠানো গেলে কেমন হয়! যথারীতি তাই হলো, অপর পাশের আইডির মালিকও তা গ্রহণ করলেন। মনে কোন সুপ্ত ইচ্ছা ছিলো না তবুও একটু টাইমলাইনটুকু ঘুর ঘুর করলাম। একটি মানবিক আবেদনের স্ট্যাটাস চোখে পড়লো, তাই দেখে সেটার সত্যা-সত্য জানার জন্য উদগ্রীব হয়ে পড়লাম। কিছুক্ষণ নেড়েচেড়ে ঘেঁটে যা বুঝলাম, আইডিটি ফেক নয়। এবার নক করলাম মেসেঞ্জারে, উত্তর এলো…। কথার ফাঁকে বুঝতে চাইলাম নামে – মানুষের মধ্যে মিল আছে তো নাকি অন্যকিছু! বেশ লিখিত আলাপন হলো। সেদিনকার মতো ইতি দিয়ে ঘুমোতে গেলো ক্রমশ বুড়িয়ে যাওয়া তরুণটি, ঘুমটাও নাকি বেশ ভালো হয়েছিলো ! আপনাদের জানিয়ে রাখি, ওর রাশি হলো মিথুন, সুতরাং মেয়েদের প্রেমের ঘায়ের ভয়ে বিগত বছর তিনেক কোন সেলফোনই ব্যবহার করেনি। রোমান্স এড়িয়ে চলার জন্যই নাকি সে তা করেছিলো, তবে করোনা কালে প্রয়োজনে হটলাইনে ফোন দিতে হলেও তো একটা সেলফোন দরকার, তোর আর কি করা জুটলো একটা। মাসখানেক হয়নি কিন্তু ………….. ! সেই কিন্তু জানতে হলে সত্য ঘটনা অবলম্বনে ও ছদ্মনাম ব্যবহারকৃত এই গল্পের শেষ পর্যন্ত চোখ বুলাতেই হবে আপনাদের। এর পর কি হলো?…. এরপর…………..

বিগত ২০ এপ্রিল রাতে মেসেঞ্জার খুলতেই ক্ষুদেবার্তা ওই নারীর আইডি থেকে ‘কেমন আছেন? আমি কি আপনার সাথে কথা বলতে পারি? ছেলেটি পলকেই ভাবলো, এই করোনাকালে কিছুটা মানসিক চাপ সবার মধ্যেই বিরাজ করছে, কথা বলতে চাচ্ছে মন্দ কি আর। সেলফোন নম্বর চাইতেই পেয়ে গেলো, কল দিতেই ওপাশে ভেসে উঠলো নারীকন্ঠ। খুব সংক্ষেপেই পারস্পরিক পরিচয় পর্ব সারা হয়ে গেলো দুজনের, ধীরে ধীরে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক তথ্য লেনদেনও যেন সফলতার সাথেই শেষ হলো, চিহ্নিত হলো মোটামোটি কাছাকাছি আত্মীয় স্বজনের পরিচয়ের বেড়াজালের মধ্যেই দু’জনেরই পারিবারিক অবস্থান।

ওহ.. আচ্ছা, সফলতার সাথে এ কারণেই বললাম যে, ২১ এপ্রিল রাত দশটার কিছু পর আবারো ফোন! কৃষ্ণদ্বৈপায়ন হতচকিয়ে উঠলো ফোন পেয়ে, তবে ঐ নারীটির মানসিকতা আগেই কিছুটা আঁচ করতে পেরে সেও জানি কেমন আনমনা বোধ করছিলো। তবে ওর মনের মধ্যে কোন প্রেমের ইচ্ছা জাগেনি বৈকি, তবে তাও বলতে পারছেনা, সেই আনমনা বোধটুকুই কি ছিলো নারীকন্ঠের প্রতি দ্বৈপায়নের ভিতরে ভালোবাসা জন্মানোর উপসর্গ, কে জানে!

আরেকটি ব্যাপার হলো ছদ্মবেশী বেকার জীবনের একপর্যায়ে এসে ভালোবাসা বা বিয়ের ভাবনাটাও মানসিক সুস্থতার খুব একটা ভালো লক্ষণ বলে কারো কাছেই হয়তো মনে হবেনা, চাল নেই, চুলো নেই – মানুষের জন্য কোন মানুষ অপেক্ষায় থাকবে, কেউ ভালোবাসার বরণ ডালা নিয়ে পাশে থেকে এগিয়ে নেওয়ার স্বপ্ন দেখাবে, নিজগুণে টেনে তুলবে এমন মানুষ পাওয়া মেলা ভার আমাদের এই বর্তমান সমাজে। সেজন্যই অনেকটা নিয়তি বা ভাগ্যের উপর জীবন ছেড়ে দেওয়ার বিকল্প আর কিছুই ছিলো না কৃষ্ণদ্বৈপায়নের। তবে, ২১ এপ্রিল রাতে সেলফোনের অপর পাশে আবির্ভূত হলো কোন এক আফ্রোদিতি বা ভেনাস যাই বলি না কেন রূপক অর্থে তেমনই কেউ। হাঁ, সে শ্রুতি, ওদের একই ধর্মের ও বর্ণের মেয়ে, বাংলা বিষয়ে অনার্স শেষ করে মাস্টার্স পরীক্ষা দেবে সামনে। প্রথম কথোপকথনেই বেশ পরিশীলিত ও পরিণত মনে হয়েছে তাকে কৃষ্ণদ্বৈপায়নের কাছে। বিবেককে ব্যবহার করে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা রয়েছে ব্যাপক এবং একসময় ওর কথা শুনে বিশ্বাস করতে বাধ্য হলো দ্বৈপায়ন, শ্রুতি নিজেকে প্রতিশ্রুতিশীল ও সামাজিক প্রথা ভেঙে নিজের ইচ্ছাকে প্রাধান্য দিয়ে নিজ লক্ষে পৌঁছে যাওয়ার সামর্থ্য রাখে এ ব্যাপারটি কৃষ্ণদ্বৈপায়নকে শ্রুতি বার বার বলছিলো। ছেলেটি ভাবলো মেয়েটি তার নিজের মনের ইচ্ছাকে প্রাধান্য দিয়ে পরিবার – পরিজনকে নিজের ইচ্ছার সাথে মিতালি ঘটাতে পারবে কারণ শ্রুতি নিজের পায়ে দাঁড়ানো একটি বাস্তবতার সাথে খাপ খেয়ে বেড়ে উঠা মেয়ে। সাবেক সরকারী চাকুরীজীবী বাবার সরকারী চাকুরীজীবী মেয়ে!

এবার কৃষ্ণদ্বৈপায়ন অনেকটা আস্বস্ত হলো, কারণ ওর কোনও অভিপ্রায়ই ছিলো না বামন হয়ে আকাশের চাঁদের সাথে বসতি গড়ার, আর কিছু তরুণ লেখকের লেখনীর সূত্র ধরে বলা যায়, ছেলেরা ভালোবাসার ব্যাপারে অনেকটাই স্টেরিওটিপিক্যাল হলেও, মেয়েরা ভিন্ন জগতের। ভালোবাসার চিরাচরিত চুলচেরা কথামালা নিয়ে জগৎবিখ্যাত একটি বই ‘ম্যান আর ফর্ম মার্স, উইমেন আর ফর্ম ভেনাস’ পড়ে এটুকু মনে জন্মেছিলো দ্বৈপায়নের, মেয়েদের মনেই ভালোবাসা, প্রায় সকল প্রণয়িনীই চায় প্রাণসখা যেন মনের যতন নেয়, আর শ্রুতির অভিব্যক্তিতে তাই ফুটে উঠলো, অস্ফুট স্বরে বলেই দিলো প্রথাগত দেহকেন্দ্রীক গার্হস্থ্য ভালোবাসার বিয়ে তার কাছে অনেকটাই অচিন্তনীয়, সে যা চিন্তা করতে পারে তা হলো পৃথিবীর সবচাইতে ঠিক ব্যাপারটি হচ্ছে, যেটিকে সে ঠিক ভেবে বসে আছে, সেটি। ওর ভাবনা হলো- আমার অতিচেনা প্রিয় মানুষটিই হউক আমার বিয়ের বর, হঠাৎ আসা কোন অভিজাত হাতছানির সাথে সম্বন্ধ গড়ে অচেনা হাত ধরে কেঁদে কেটে বাপের বাড়ি ছাড়তে সে একেবারেই রাজি নয়।

একপর্যায়ে ওর কাছে বলা কৃষ্ণদ্বৈপায়নের সীমাবদ্ধতাগুলো জেনে ও অম্লান বদনে স্থির বিশ্বাসে মেনে নিয়ে একসাথে এগিয়ে চলার অঙ্গীকার করেই বসলো। কৃষ্ণদ্বৈপায়ন তৎক্ষণাৎ শ্রুতিকে জিজ্ঞেস করলো, সে কেন অনুরক্তবোধ করছে, পারিপার্শ্বিক সকল যোগ্যতায় আরো ঢের ভালো বা যোগ্যতাসম্পন্ন জীবনসাথী পাওয়া তো ওর জন্য কঠিন কিছু হতো না। কিন্তু, শ্রুতি উত্তরে বললো – কৃষ্ণদ্বৈপায়নের মেধা-মন- মানসিকতা ও ফেসবুক আইডি ঘেঁটে যা কিছু সে দেখতে পেয়েছে এবং বিভিন্ন মাপকাঠি মিলে যাওয়ায় আর মনের গহীনে থাকা সুপ্ত ইচ্ছা কাজে লাগাতে. যা দিয়ে সে মানুষের জীবন বদলে দিতে চায়, যা এই মুহূর্তে সে প্রকাশ করতে চাইছে না – ঠিক এই কারণেই তার মনে ঘিরে ধরেছে কৃষ্ণদ্বৈপায়নের প্রোফাইল ছবিটি অর্থাং হ-য-ব-র-ল মানুষটিকে এবং পারিবারিক ভাবে অন্য সবকিছু মোটামোটি ঠিকঠাক থাকায় সে খুব অল্প সময়েই দ্বৈপায়নকে নিজের ভালোবাসা প্রকাশের সঠিক ও একমাত্র পছন্দনীয় জায়গা হিসেবে ভাবতে শুরু করেছে। জোর গলায় বললো, একটি প্রত্যাশিত মন – মানসিকতার মানুষ অথচ অর্ধবেকার ছেলে, তবুও সে ঘানি টানাও ওর জন্য কষ্টের কিছু নয়। সাথে কথা বলার মাঝে মনে করিয়ে দিলো, আমাদের সমাজের অনেক ছেলেদের কর্মসংস্থানের বাস্তব ও করুণ চিত্রপট অথচ সমাজের মানুষ তা ব্যক্তির ব্যর্থতা ধরে নিয়ে অবলীলায় তরুণ প্রাণগুলোকে উল্টো পরোক্ষভাবে হলেও গালমন্দ করে।

শ্রুতি বলে উঠলো, দৃষ্টিভঙ্গি না বদলালে ইতিবাচক পরিবর্তন হবে না এ সমাজে। শুধুমাত্র ছেলেকেই যে নিজের সর্বোচ্চ সকল প্রকার যোগ্যতা প্রমাণ করে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে হবে তা কিন্তু নয়, আমাদের মেয়েদের মাঝেও থাকতে হবে নিজেদের প্রবল আত্মশক্তি, নিজের বোধশক্তি দিয়ে আড়মোড়া করে দিতে হবে দুটি প্রাণের নিখাদ ভালোবাসার দাবী উপেক্ষাসুলভ সমাজের চাপ ও অন্যায্য আচরণকে আর অটুট রাখতে হবে মনে অপরকে টেনে তোলার অদম্য মানসিকতা যা দিয়ে অন্যকে ক্ষমতায়িত করার পাশাপাশি নিজেদের স্বাধীন সত্তাকে বিকশিত করা যায়।

বললো কথাগুলো বিশ্বাস হচ্ছে না সম্ভবত, লিখে দিচ্ছি…. প্রমাণ রেখে দিও! চটপট করে মনের গহীনে থাকা অব্যক্ত কথামালাগুলো অবলীলায় লিখে দিলো ইনবক্সে, যেখানে ছিলো শ্রুতির প্রতিশ্রুতির পঙক্তিমালা। পরক্ষণেই বললো – তাহলে এবার বলো, ভালোবাসো আমাকে! আমি তোমাকে শুধু পছন্দ নয়, ভালোবেসেই ফেলেছি! ওর কথার তোড়ে করোনা কালের যত উদ্বেগ তখন জানালা দিয়ে পালিয়েছে কৃষ্ণদ্বৈপায়নের, যেন নতুন করে চোখে -মুখে ঝিলিক ফুটতে শুরু করেছিলো ছেলেটির। দ্বৈপায়নের ভিতরটা যেন একটু শ্রুতির ফেসবুকে থাকা মায়াবী চোখের ছবিতে চোখ ফেলার ইঙ্গিত করছিলো।

মনের সব অনাহুত আশংকা ও নেতিবাচকটাকে দুরে ঠেলে, হাতে লক্ষ্মী পায়ে না ঠেলার’ সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলো কৃষ্ণদ্বৈপায়ন। মনে ভাবনার আকাশে হঠাৎ এসেছিলো কিছুদিন আগে দেওয়া সৌখিন সাংবাদিক হৃদয় শুভ’র স্ট্যাটাসটি। সে লিখেছিলো ‘‘অস্তগামী চন্দ্রকে তো কেউ প্রণাম করে না’’ সে হিসেবে, শ্রুতি যেহেতু হৃদয়ের’র সেই বদ্ধমূল ধারণাতীত স্ট্যাটাসটিকে আপাতদৃষ্টিতে কিছুটা চ্যালেঞ্জে ফেলেছে সেহেতু কৃষ্ণদ্বৈপায়ন সত্যিই মনে করেছে অনেকের মধ্যে আলাদাই হবে মেয়েটি তবুও, একটু সময় নিয়ে কৃষ্ণদ্বৈপায়ন নিজের দুটো সীমাবদ্ধতা শ্রুতির নিকট তুলে ধরলো। প্রথমত হলো- একতরফা প্রথম প্রেমের মিথ্যে হাতছানি আজো তাকে নষ্টালজিয়ায় আক্রান্ত করে আর দ্বিতীয়তটি শ্রুতি আর দ্বৈপায়নকে বলতে দেয়নি, মুখের উপর বলে উঠে – বেকারত্বের চিন্তা! আপৎকালীন সময়টুকু না হয় আমিই দেখবো, এবার আপনাকে ‘তুমি’ করেই বলি, আর তুমি কয়েক বছর পর ডিএইচএমএ পাস করে ডাক্তার হয়ে আমাকে একটু সাপোর্ট দিলেই হলো, না দিতে পারলে বলবো না। আর রাত পোহালে আমি নিজেই জিজ্ঞেস করে নেব, তোমার এককালের ভালোবাসা নয় স্রেফ ভালোলাগা বা পছন্দের মানুষটিকে ওর মধ্যে তোমার জন্য কোন পরিকল্পনা আছে কি?

২২ এপ্রিল, যেই কথা সেই কাজ, সেল নম্বর জোগাড় করে দিতেই সোজা ফোন, নিজের পরিচয় দিয়েই এক নিঃশ্বাসে শ্রুতি জানতে চাইলো প্রশ্নের উত্তর, উত্তর শুনে আমাকে জানিয়ে দিলো সেখান থেকে কোন বাধা নেই, আমাকে জানিয়ে দিয়ে পুনরায় অশ্বস্ত করে বললো, এবার না হয় হৃদয়ের বাঁধন খুলে দাও। কৃষ্ণদ্বৈপায়ন তখনও কিছুটা ইতস্তত বোধ করছিলো, চিন্তা করছিলো, রূপে – গুণে অনন্য এ মেয়ে কেন তাকেই পেতে চায়? কি লাভ ওর, লাভের তো ছিটেফোঁটাও নেই। খানিক ইতিবাচকভাবে ভেবে নিয়ে মগজে যা ধারণ করলো, তা হয়তো এমন ‘কিছু মানুষ এমনই হয়, যাদের অন্যদের সাথে গুলিয়ে ফেলা অবিবেচনাপ্রসূত আহাম্মকের কাজ।’ অবশেষে, কৃষ্ণদ্বৈপায়ন, জানিয়ে দিলো শ্রুতিকে ভালোবাসা নামক ওর নিরাপত্তার চাদরে নিজেকে জড়িয়ে ফেলার কথা !

একটু আবেগতাড়িত হয়ে গিয়েছিলো শ্রুতি তখন, কিছুক্ষণ পর বললো, দেখ, আমি মা’কে জানিয়ে তাঁর সম্মতি নিয়েই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সুতরাং, এখানে কপটতা নয় রয়েছে বিশুদ্ধতা। সত্যি বলতে কি, অল্প কদিনেই বেশ জমে উঠেছিলো ওদের বোঝাপড়াটা, আর হবেই না কেন উভয়দিকেই এতো ট্রুথ ও কমিটেড স্পিরিট ছিলো যে, কারো দ্বারাই ভালোবাসার সম্পর্ক স্থাপনে অনীহা আসার সুযোগ ছিলো না। এখন ওদের মনে শুধু একটাই উৎকণ্ঠা করোনা জয় করে একসারিতে বসে খোশগল্প করার সুযোগটুকু পাবে তো কৃষ্ণদ্বৈপায়ন আর শ্রুতি।

এরই মাঝে হরিষে বিষাদ! তবে করোনাজণিত নয়। ২৪ এপ্রিল, দুপুরে বার্ধক্যজনিত রোগে ভোগে প্রাণ ত্যাগ করলেন শ্রুতির পিতা। দায়িত্ব ভুলেনি, কৃষ্ণদ্বৈপায়নকে জানালো সেলফোনে দেওয়া ক্ষুদেবার্তায়। দুঃখের এই দিনগুলোতেও ওর আক্ষেপ মাখা স্বরে বলা – ‘বাবাকে জানাতে পারলাম না, ভালোবাসার মানুষটির কথা।’ এরই মাঝে, প্রতিদিন সেলফোনে করোনা থেকে নিজেকে রক্ষায় দ্বৈপায়নকে সচেতন থাকার কথা বারবার বলে দেওয়াই যেনো শ্রুতির প্রতিশ্রুতিশীল ভালোবাসার মানুষটিকে যে করেই হোক ধরণীতলে টিকিয়ে রাখার একমাত্র প্রচেষ্টা। সুতরাং, বাংলাদেশের মানুষের প্রতি শ্রুতি–মধুর নয়! শ্রুতি আর ঐ রোমান্সপ্রিয় মিথুন রাশির জাতক কৃষ্ণদ্বৈপায়নের অনুরোধ, এই মুহূর্তে আমাদের মতো আপনারাও ‘ঘরে থাকুন’, দুরে থেকেও, পাশে থাকুন আত্মজনের। বাড়িয়ে দিন সমাজে সহমর্মিতার হাত, সবাই মিলে একসাথে মোরা জয় করব করোনা অভিঘাত।

  • সব্যসাচী পুরকায়স্থ
    লেখক ও সাংবাদিক


    সংবাদ২৪-এর ‘সাহিত্য’ বিভাগে আপনিও লেখা পাঠাতে পারেন। লেখারগুণগত মান ও আমাদের সম্পাদকীয় নীতির আলোকে পর্যালোচনা করে আমরা তা প্রকাশ করবো। লেখা পাঠান [email protected] এই ঠিকানায়।

বিজ্ঞাপন

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

আরও পড়ুন
Loading...
DMCA.com Protection Status