সন্ধ্যা হলে নিশ্চিত খাবার মিলছে লিজাদের ত্রাণ শিবিরে

বিজ্ঞাপন

থিয়েটারকর্মী লিজা আসমা আক্তার। শ্বশুর ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার পর চিকিৎসার জন্য জমি বিক্রি করতে হয়েছিল। চিকিৎসা শেষে কিছু টাকা হাতে রয়ে গিয়েছিল তার। করোনা সংকটে সাহস করে সে টাকা নিয়েই অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন।

যেই সিদ্ধান্ত সেই কাজে নেমে পড়েন তিনি। প্রথমে লিজা শুরু করেছিলেন হ্যান্ড স্যানিটাইজার আর মাস্ক বিতরণ দিয়ে। এরপর বিলিয়েছেন শুকনো খাবার। এর মধ্যে তার সাথে যুক্ত হয়েছেন পাড়ার ছেলেরা থেকে শুরু করে অনেক সহযোদ্ধা। ১১ জন মিলে এখন রোজা শুরুর পর প্রতিদিন ইফতার বানিয়ে বিতরণ করছেন। তাদের পাড়া-প্রতিবেশীরা তাদের কাজে যুক্ত হয়েছেন।

লালমাটিয়ার ডি ব্লকের একটি বাড়ি রীতিমতো ত্রাণ শিবিরের পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন সেখানে শত শত মানুষের জন্য খাবার রান্নার আয়োজন চলতে থাকে। তারপর সেগুলো রাস্তায় সাড়িয়ে বিতরণ করা হয় মানুষের মাঝে।

জানা যায়- বাসাটি এক প্রবাসীর। লিজা ছাড়াও এখানে আরও একঘর ভাড়াটিয়া আছেন। তবে বাড়ির মালিক ওখানেই স্বেচ্ছাসেবীদের থাকার অনুমতি দিয়েছেন।

এই আয়োজনের উদ্যোক্তা লিজা আসমা আক্তার বলেন- “প্রথম দিনে আয়োজন ছিল একশ জনের। রোববার পর্যন্ত ‘অতিথি’র সংখ্যা ছয়শো ছড়িয়েছে।” এই সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করেন তিনি।

কারা আসছেন এই সহায়তা নিতে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন- “এ তালিকায় শুরুর দিকে নিরাপত্তাকর্মীদের সংখ্যা বেশি ছিল। এখন যুক্ত হয়েছেন একসময় যারা বাড়িতে বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করতেন তাঁরা।”

লিজার এই উদ্যোগে যুক্ত আছেন ‘এ লেটার টু গডের’ পরিচালক হেমন্ত সাদিক। যুক্ত আছেন স্বেচ্ছাসেবক সৈয়দ সাইফুল আলম, মুদির দোকানি মোতাহার, তারা, জেসমিন, আসমা, জেসমিনসহ অনেকে।

ত্রাণ

স্বেচ্ছাসেবী সৈয়দ সাইফুল আলম বলেন, আমাদের এই কাজে ধীরে ধীরে অনেকে যুক্ত হয়েছেন। একজন ডিম বিক্রেতা আছেন দিনভর ডিম বিক্রি শেষে তিনি এসে ইফতার বন্টনের কাজ করেন। এরকম এক এক জন কাজ ভাগ করে নিয়েছি।”

#সংবাদ২৪/ঢাকা/এমসি

বিজ্ঞাপন

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

আরও পড়ুন
Loading...
DMCA.com Protection Status