স্বপ্ন ছিল এমপি-মন্ত্রী হওয়ার

বিজ্ঞাপন

রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. সাহেদ ওরফে সাহেদ করিমের বিচরণ ছিল প্রতারণার প্রতিটি স্তরেই। নিজেকে সামরিক কর্মকর্তা, প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠজন, কখনও প্রটোকল অফিসার ও মন্ত্রী-নেতাদের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচয় দিতেন।

তাদের পরিচয় দিয়ে দিব্যি কুকর্ম করে তার স্বপ্ন ছিল মন্ত্রী-এমপি হওয়ার। গ্রেপ্তারের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে থাকাকালে জিজ্ঞাসাবাদে এমন তথ্য বেরিয়ে এসেছে বলে তদন্ত-সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা জানান, গ্রেপ্তারের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে থাকাকালেও প্রতারক সাহেদের দাম্ভিকতা কমেনি। এত এত কুকর্ম করলেও সে জন্য তার বিন্দুমাত্র অনুতাপও নেই।

জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে সাহেদ বলেন বলেন, একজন সম্পাদক ও প্রকাশককে এভাবে নাজেহাল করা ঠিক হয়নি। নিজেকে একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব দাবি করে তিনি জানিয়েছেন, মন্ত্রী-এমপি হওয়ারও স্বপ্ন ছিল তার।

তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা জানান, বিএনপির একজন নেতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কথা সাহেদ স্বীকার করেছেন। পরে আওয়ামী লীগের অনেকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কথা জানান। রাজনীতিক নেতা হয়ে ওঠার বড় স্বপ্ন ছিল তার।

র‌্যাবের এক কর্মকর্তা জানান, সাতক্ষীরায় গ্রেপ্তারের পরপরই সাহেদ ভারী কণ্ঠে সাহেদ বলছিলেন, আমি একজন গণ্যমান্য ব্যক্তি। পত্রিকার মালিক। আমার রাজনৈতিক পরিচয়ও আছে।

পরে সাহেদ আরও বলেন, নিয়মিত টক শো করি। আমি সাভারের রানা প্লাজার রানা নই। আমাকে রানা বানানো ঠিক হবে না। আমার কাজের জন্য অনুতপ্তও নই।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, কর্মজীবনে তিনি অনেক ধরনের প্রতারক ও অপরাধীকে সামলেছেন। কিন্তু সাহেদের মতো এত ধূর্ত লোক দেখেননি। তার মাথায় ক্রিমিনাল বুদ্ধি গিজগিজ করে। সব বিষয় নিয়েই তার মতো করে যুক্তি দেন সাহেদ।

করোনাভাইরাসের পরীক্ষা না করে ভুয়া রিপোর্ট দেওয়া, সরকারের কাছে বিল দেওয়ার পর আবার রোগীর কাছ থেকেও অর্থ নেওয়াসহ সাহেদের রিজেন্ট হাসপাতালের নানা অনিয়মের খবর সম্প্রতি প্রকাশ্য হয়েছে র‌্যাবের অভিযানের মধ্য দিয়ে। গত সপ্তাহে ওই অভিযানের পর রিজেন্টের দুটি হাসপাতাল বন্ধ করে দেয় র‌্যাব। ওই হাসপাতালের অনুমোদনও বাতিল করা হয়। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গত বুধবার (১৫ জুলাই) সকালে সাতক্ষীরা দেবহাটা সীমান্ত এলাকা থেকে সাহেদকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

পরে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) তাকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। সাহেদকে জিজ্ঞাসাবাদে ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। গোয়েন্দা পুলিশ এখন তাকে দশ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, সাহেদের প্রতারণার ধরণ একটি অনন্য ধরণ। তাকে বলা যায় প্রতারক জগতের আইডল। প্রতারণার মাধ্যমে রিজেন্ট হাসপাতালের মালিক মো: সাহেদ বহু মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। প্রতারণাই ছিল তার প্রধান ব্যবসা। সর্বশেষ বোরকা পরে সাতক্ষীরা সীমান্ত এলাকা দিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল তিনি। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছ থেকে নিজের গ্রেপ্তার এড়াতে পারেনি ‘মহাপ্রতারক’ সাহেদ করিম।

বিজ্ঞাপন

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

আরও পড়ুন
Loading...
DMCA.com Protection Status