১০ বছর ধরে বিদেশে, তবুও সরকারি চাকরিতে বহাল এমপির মেয়ে

বিজ্ঞাপন

২০০৯ সাল থেকে তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত। মাঝখানে আড়াই মাসের ছুটির দরখাস্ত দিয়ে দীর্ঘ ১০ বছর ধরে বিদেশে অবস্থান করছেন। তবু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে বহাল রয়েছেন জামালপুরের এক সংসদ সদস্যের (এমপি) মেয়ে।

সরকার-দলীয় এমপির প্রভাবের কারণে তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেননি উপজেলা ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তারা। উল্টো বিষয়টি গোপন করে তাকে এক স্কুল থেকে অন্য স্কুলে বদলি দেখানো হয়েছে।

ওই সহকারী শিক্ষিকার অনুপস্থিতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জামালপুরের নবাগত জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক। তবে কী কারণে আগের শিক্ষা কর্মকর্তারা বিষয়টি গোপন রেখেছেন তা তার জানা নেই। তিনি বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে ওই অনুপস্থিত শিক্ষিকার বিরুদ্ধ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জামালপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, জামালপুর-২ (ইসলামপুর) আসনের সংসদ সদস্য ফরিদুল হক খান দুলালের মেয়ে ফারজানা হক ২০০৫ সালে ৭ ফেব্রুয়ারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান। একই উপজেলার শ্যামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করেন তিনি। সেখান থেকে ২০০৯ সালের ৫ ডিসেম্বর উপজেলা সদরের জেজেকেএম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি হয়ে আসেন।

২০১০ সালের ৯ ডিসেম্বর থেকে ২০১১ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অসুস্থতা দেখিয়ে ছুটি নেন এই শিক্ষিকা। এর পর থেকে প্রায় ১০ বছর ধরে তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফারজানা হক সোমা ২০০৯ সালে জেজেকেএম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত থাকা অবস্থায় অস্ট্রেলিয়াতে পাড়ি জমান। পরে তিনি ২০১০ সালের ১০ ডিসেম্বর থেকে ২০১১ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আড়াই মাসের চিকিৎসাজনিত ছুটির আবেদন করেন। এখন পর্যন্ত তিনি অস্ট্রেলিয়াতেই অবস্থান করছেন।

এমপির মেয়ের দীর্ঘ অনুপস্থিতিতে চাকরি বহাল থাকা নিয়ে এলাকায় নানা গুঞ্জন শুরু হলেও টনক নেড়েনি উপজেলা ও শিক্ষা কর্মকর্তাদের। বিষয়টি সংবাদ কর্মীদের নজরে আসায় নড়েচড়ে বসেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলা শিক্ষা অফিসের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী বলেন, এমপির প্রভাবের কারণে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেননি। এ জন্য অনুপস্থিতির বিষয়টি গোপন রেখে এমপিকে সন্তুষ্ট রাখতে হয়েছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ইসলামপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ফেরদৌস জানান, সহকারী শিক্ষিকা ফারজানা হক ২০০৯ সালে অসুস্থতাজনিত কারণে এক মাসের ছুটি নেন। এরপর থেকে তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন।

মো. ফেরদৌস বলেন, ‘আমি কয়েক দিন আগে এখানে যোগদান করেছি। কী কারণে ওই শিক্ষিকার বিষয়ে জেলা শিক্ষা অফিসারকে অবহিত করা হয়নি তা তার বোধগম্য নয়।’ তবে এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা অফিসে একটি প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।


সংবাদ/এসডি

বিজ্ঞাপন

Source ঢাকা টাইমস

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

আরও পড়ুন
Loading...
DMCA.com Protection Status