২৭ ঘণ্টা আগুনে পুড়ল সুন্দরবন

বিজ্ঞাপন

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের দাসের ভারানি এলাকার আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ২৭ ঘণ্টা পর বৃষ্টি আসায় এই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। তবে টানা ২৭ ঘণ্টাই আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস, বন বিভাগ, সিপিজি সদস্যরা ও স্থানীয়রা।

মঙ্গলবার (৪ মে) দুপুর ২টার দিকে এই আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে পুরোপুরি আগুন নেভাতে আরও কয়েক ঘণ্টা লাগবে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

এর আগে সোমবার (০৩ মে) বেলা ১১টার দিকে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বাগেরহাটের শরণখোলা রেঞ্জের দাসের ভারানি এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

অগ্নিকাণ্ডের কারণ ওই দিনই সন্ধ্যায় তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বন বিভাগ। তদন্ত কমিটিকে আগামী ৭ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

সুন্দরবনে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে: ঘটনা তদন্তে ৩ সদস্যের কমিটি গঠন

বাগেরহাট ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের উপসহকারী পরিচালক মো. গোলাম সরোয়ার বলেন, আমরা সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পানি দিয়ে আগুন নেভানো শুরু করি। আগুন এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। যতক্ষণ পর্যন্ত আগুন সম্পূর্ণ নিভে না যাবে ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা পানি দিতে থাকব।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মোহাম্মাদ বেলায়েত হোসেন বলেন, আগুন এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

২০ বছরে ২৫ বার পুড়েছে সুন্দরবন

এই ঘটনার পূর্বে সর্বশেষ গত ০৮ ফেব্রুয়ারি আগুন লেগে সুন্দরবনের অন্তত ৩ শতাংশ বনভূমি পুড়ে গিয়েছিল। এই নিয়ে গেল ২০ বছরে ২৫ বার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে সুন্দরবনে। এসব অগ্নিকাণ্ডে সুন্দরবনের প্রায় ৭৫ একর শতাংশ বনভূমির গাছ, বিভিন্ন ধরনের ঘাস, লতাপাতা পুড়ে যায়।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সুন্দরবনে ২০০২ সালে শরণখোলা রেঞ্জের কটকা অভয়ারণ্য এলাকায়, ২০০৪ সালে চাঁদপাই রেঞ্জের ধানসাগর স্টেশনের নাংলী ক্যাম্প এলাকায় ও আড়ুয়াবের খালে এবং ২০০৫ সালে চাঁদপাই রেঞ্জের আড়ুয়াবের খালের পশ্চিমে তুলাতলা ও খুটাবাড়ি এলাকায় আগুন লাগে। এরপরের বছর ২০০৬ সালে তেরাবেকা খালের পাড়ে, আমুরবুনিয়া, কলমতেজিয়া, পচাকুড়ালিয়া বিল ও ধানসাগর স্টেশন এলাকায় মোট পাঁচটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

সুন্দরবনে ভয়াবহ আগুনের ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি | 1030026 | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

২০০৭ সালে বলেশ্বর নদীর তীরবর্তী নলবন, পচাকুড়ালিয়া বিলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটে। ২০১০ সালে ধানসাগর স্টেশনের গুলিশাখালী, ২০১১ সালে ধানসাগর স্টেশনের নাংলী, ২০১৪ সালে আবারও ধানসাগর স্টেশন সংলগ্ন বনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ২০১৬ সালেও ধানসাগর স্টেশনের নাংলী, পচাকুড়ালিয়া, তুলাতলী এবং ২০১৭ সালে একই স্টেশনের মাদরাসার ছিলা নামক স্থানে আগুন লাগে। ২০২১ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি ধানসাগার স্টেশন এলাকায় এবং সর্বশেষ ৩ মে শরণখোলা রেঞ্জের দাসের ভারানি এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজসে আগুন

বারবার সুন্দরবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা বলেন, সুন্দরবনে বার বার আগুন লাগার ঘটনায় আমরা উদ্বিগ্ন। কখনও আগুন লাগার কারণ আমরা জানতে পারি না। আগুন লাগলেই শুনি তদন্ত কমিটি গঠন হয়েছে। পরে আর কিছু শুনি না। সুন্দরবন আমাদের মায়ের মত রক্ষা করে। সুন্দরবনের ক্ষয়ক্ষতির কারণ আমাদের জানানো উচিত। আমাদের ধারণা বন বিভাগের অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজসে সুন্দরবনের অভ্যন্তরে আগুন লাগানো হয়।

সুন্দরবন সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির সাবেক সভাপতি ও রায়েন্দা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আছাদুজ্জামান মিলন বলেন, সুন্দরবনে বার বার আগুন লাগার ঘটনাগুলো স্পষ্টভাবে জানা যায় না। যখনই আগুন লাগে তখনই দায়সারা তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। আগুন লাগার মূল রহস্য উদ্ঘাটন হওয়া জরুরি। ভবিষ্যতে যাতে আগুন না লাগে সে ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

আরও পড়ুন
Loading...
DMCA.com Protection Status