৪ আগস্ট পরবর্তী বৈঠকের পর খুলবে ধলই চা বাগান

বৃহস্পতিবার ধলই চা বাগানের শ্রমিকদের সাপ্তাহিক মজুরি প্রদানের সিদ্ধান্ত

বিজ্ঞাপন

অন্যায়ভাবে আকস্মিকভাবে বন্ধ রাখা মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের ধলই চা বাগান খুলে দেওয়া নিয়ে বুধবার (২৯ জুলাই) বিকাল সাড়ে ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত  কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদে টানা সাড়ে ৪ ঘন্টা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশেকুল হক। বৈঠকে ধলই চা বাগান শ্রমিক, চা শ্রমিক ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দদের একটি দাবি অভিযুক্ত বাগান ব্যবস্থাপক  আমিনুল ইসলাম যাতে চা বাগানে প্রবশে করতে না পারে ও অভিলম্বে ধলই চা বাগানের লে-অফ প্রত্যাহার করা।

উভয় পক্ষের নেতৃবৃন্দসহ উপস্থিত অতিথিদের পৃথক গোপন বৈঠকের পরও ব্যবস্থাপককে ধলই চা বাগানের শ্রমিকরা গ্রহন না করার সিদ্ধান্তে অটল থাকলে চা বাগান বন্ধ রেখেই পরবর্তী বৈঠকের তারিখ নির্ধারণ করা হয় ৪ আগষ্ট। তবে এর মাঝে বৃহস্পতিবার ধলই চা বাগানের শ্রমিকদের সাপ্তাহিক মজুরি প্রদানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. রফিকুর রহমান,  শ্রম অধিদপ্তরের শ্রীমঙ্গলস্থ কার্যালয়ের শ্রম কর্মকর্তা মোশাহিদ বক্স চৌধুুরী,উপজেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ও চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রাম ভজন কৈরী, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান বিলকিছ বেগম, কমলগঞ্জ থানার ওসি মো. আরিফুর রহমান, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. এ এস এম আজাদুর রহমান, ধলই চা বাগান কোম্পানীর এজিএম খালেদ খান, বাংলাদেশী চা সংসদ (চা বাগান মালিকদের সংগঠন) প্রতিনিধি শামছুল ইসলাম, কমলগঞ্জ উপজেলা বিআরডিবির সাবেক চেয়ারম্যান ইমতিয়াজ আহমেদ, মাধবপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পুস্প কুমার কানু,ধলই চা বাগানের অভিযুক্ত ব্যবস্থাপক আমিনুল ইসলামসহ সহকারি ব্যবস্থাপকবৃন্দ, চা শ্রমিক ইউনিয়নের মনু-ধলই ভ্যালির সভাপতি-সম্পাদক, ধলই চা বাগান পঞ্চাযেত কমিটির সভাপতি-সম্পাদকসহ চা শ্রমিকরা।

বৈঠকের শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য রাখেন কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশেকুল হক, কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. রফিকুর রহমান। উভয় পক্ষের বক্তব্যসহ উপস্থিত অতিথিদের বক্তব্য শুনে বলা হয় ধলই চা বাগানে লে-অফ ঘোষণার মত কোন পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি। তাই আগে লে-অফ ঘোষণার নোটিশটি প্রত্যাহার করে নিয়ে বৃহস্পতিবার ধলই চা বাগান খুলে দিতে। তবে ধলই চা বাগান কোম্পানীর এজিএম খালেদ খান বলেন,আগে চা শ্রমিকদের চাপের মুখে চা বাগান থেকে বের হয়ে যাওয়া ব্যবস্থাপক আমিনুল ইসলামকে আগে চা বাগানে প্রবেশ করলে চা বাগান খুলে দেওয়া হবে।

এনিয়ে উভয় পক্ষের মতামত শুনে এক পর্যায়ে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. রফিকুর রহমান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশেকুল হক, শ্রম কর্মকর্তা, উভয়পক্ষের নেতৃবৃন্দ সমন্বয়ে পৃথকভাবে গোপন বৈঠক করা হয়। সে বৈঠকেও কোন সমাধান না হলে ধলই চা বাগান বন্ধ রেখে আগামী ৪ আগষ্ট পরবর্তী বৈঠকের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। তবে বৃহস্পতিবার ধলই চা বাগান শ্রমিকদের সাপ্তাহিক মজুরি প্রদানে ধলই চা বাগান কোম্পানীর কর্মকর্তারা সম্মতি প্রকাশ করেন। বুধবার রাত ৮টায় কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশেকুল হক  এ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন।

তবে ধলই চা বাগান ব্যবস্থাপক আমিনুল ইসলাম বলেন, এ চা বাগানের ব্যবস্থাপক ও কর্মচারিরা কিছু সংখ্যক মারমুখি চা শ্রমিকের কাছে নানা ভাবে নাজেহাল হচ্ছেন। তাছাড়া  কিছু সংখ্যক চা শ্রমিকের উপর ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে। এ সব নিয়ে কথা বললেই এখন আর চা শ্রমিকদের একটি অংশ তাকে পছন্দ করছেন না। তারাই অহেতুক চা শ্রমিকদের খেপিয়ে এ অবস্থার সৃষ্টি করায় কোম্পানী চা বাগান আইনিভাবেই বন্ধ ঘোষণা করেছে।

বৈঠক শেষে ফেরার সময় ক্ষোভ প্রকাশ করে ধলই চা বাগানের নারী শ্রমিক ফাতেমা বেগম বলেন, একটিই কথা নানা অপকর্মের নায়ক ব্যবস্থাপক আমিনুল ইসলামকে কোন অবস্থায় এ চা বাগানে আর প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।  তিনি আরও বলেন ব্যবস্থাপক আমিনুল ইসলাম মুঠোফোনে তার কিছু সংখ্যক মানুষকে ফোন করে বলেছেন যাতে চা বাগানে অস্থিতিশীল অবস্থা তৈরী করা হয়। এর মুঠোফোনের অডিও রেকর্ড পৃথকভাবে গোপন বৈঠকে  সবাইকে শুনানো হয়েছে। প্রয়োজনে তারা না খেয়ে মরবে তাও এ ব্যবস্থাপককে ধলই চা বাগানে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশেকুল হক বলেন, শ্রম কর্মকর্তা, উপজেলা চেয়ারম্যান, বাংলাদেশী চা সংসদ (চা বাগান মালিকদের সংগঠন) প্রতিনিধিসহ সকল পক্ষের প্রতিনিধির উপস্থিতিতে এ বৈঠক করা হয়। সবার বক্তব্য শুনতে সাড়ে ৪ ঘন্টা সময় লাগলে ব্যবস্থাপকের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে সমস্যার সমাধান করা যায়নি। তাই আগামী ৪ আগষ্ট পরবর্তী বৈঠকের সিদ্ধান্ত নিয়ে ও  মানবিক কারনে চা শ্রমিকদের মজুরি প্রদানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। তাই আপাতত পরবর্তী সিদ্ধান্ত ছাড়া ধলই চা বাগান বন্ধ থাকছে।

উল্লেখ্য ধলই চা বাগানের বিতর্কিত ব্যবস্থাপক আমিনুল ইসলামকে অপসারণের ২৯ জুনের দাবিকে কেন্দ্র করে গত ২৭ জুলাই সোমবার সন্ধ্যায় একটি নোটিশ টাঙিয়ে ধলই চা বাগান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে ধলই চা বাগান কোম্পানী।


সংবাদ২৪/সাজু/এসডি

বিজ্ঞাপন

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

আরও পড়ুন
Loading...
DMCA.com Protection Status