৭৪ বছরে বিয়ের পীড়িতে বৈদ্যনাথ ও পঞ্চবালা

বিজ্ঞাপন

৭৪ বছর আগে বৈদ্যনাথের বয়স যখন ১৮ ছিল তখন ১৩ টাকা পন (যৌতুক) দিয়ে ছয় বছর বয়সী পঞ্চবালাকে বিয়ে করে ঘর বাঁধেন। এর পর পঞ্চম প্রজন্ম ঘরে আসার পর ভেঙে যায় স্বামী-স্ত্রীর পুরোনো দাম্পত্য সম্পর্ক।

সংসার ভেঙে গেলেও পুরনো টান তাদের আলাদা রাখেনি। আবার ঘর বাঁধার সিদ্ধান্ত নেন তারা। এরপর একসঙ্গে থাকতে হলে নবায়ন করতে হয় বিয়ে। গোষ্ঠীগত এই বিধান মেনে ফের বিয়ের মালা বদল করলেন ৯২ বছরের বৈদ্যনাথ দেবশর্মা ও ৮০ বছরের পঞ্চবালা দেবশর্মা।

বৈদ্যনাথ দেবশর্মা পেশায় একজন কৃষক। ১৯৭২ সাল থেকে টানা ১৪ বছর স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্যও ছিলেন।

ছয় যুগেরও আগে প্রথমবারের সাদামাটা বিয়ে নিয়ে এখনও আক্ষেপ আছে বৈদ্যনাথের। তবে এবার আগের স্ত্রীকেই নতুন করে ঘরে তুললেও ধুমধাম আয়োজনে তিনি উচ্ছ্বসিত।

পঞ্জিকা মেনে রোববার রাতে শুভলগ্নে মালাবদল করেন বৈদ্যনাথ ও পঞ্চবালা। সত্যনারায়ণ পূজা, অধিবাস, বরানুগমনসহ হিন্দু রীতির বিয়ের সব আনুষ্ঠানিকতাই ছিল সেখানে। তবে দশকের পর দশক এক ঘরে থাকার কারণে বাদ দেয়া হয় শুভদৃষ্টির বিষয়টি।

বয়োজেষ্ঠ এই দম্পতির পুন:রায় বিয়ে দেখতে পেল দিনাজপুরের বিরল উপজেলার সীমান্তবর্তী কয়েকটি গ্রামের হাজারো মানুষ।

উপজেলার সীমান্তবর্তী গ্রাম দক্ষিণ মোড়গাঁওয়ে লৌকিক রীতি মেনে ২১ ফেব্রুয়ারি ফের বিয়ে করেন বৈদ্যনাথ ও পঞ্চবালা।

এই বিয়েতে অতিথি আমন্ত্রণে ছাপানো হয়েছিল ৫০০ কার্ড, তবে শেষ পর্যন্ত দর্শনার্থী ছিলেন হাজার মানুষ।

বর্তমানে বৈদ্যনাথ ও পঞ্চবালার পিঁড়ির (প্রজন্ম) সদস্য মোট ৫৪ জন, যাদের বেশিরভাগই কৃষিকাজে জড়িত। তাদের একমাত্র মেয়ে ঝিলকো বালার তিন ছেলে ও পাঁচ মেয়ে। এই পরিবারে পঞ্চম প্রজন্মের শিশুটি জন্ম নিয়েছে প্রায় সাত মাস আগে।

বিজ্ঞাপন

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

আরও পড়ুন
Loading...
DMCA.com Protection Status