পুরুষ ও রাষ্ট্রের শৃঙ্খল থেকে বেরিয়ে আসুক মায়েরা

বিজ্ঞাপন

মায়ের কথা ভুলতেই বসেছি প্রায়। মা বলতে যে কথাগুলো এখন মাথায় আছে তাহল মায়েরা এক একটা বাবাদের চিন্তা চেতনার জেরক্স। বাবাদের বলতে পিতৃতান্ত্রিক নর্মসগুলোর চর্চা আমাদের মায়েরাই তাদের আদরের জাদুমনির মাথায় ঢুকিয়ে দেন সচেতন কি অবচেতবভাবে সে বিস্তর ভাববার বিষয়।

মায়েরাই আমাদের শেখান কি করে পিতার স্বৈরশাসন স্বামীর সংসারে স্বামীর উত্তরাধিকারীদের উপর কায়েম রাখতে হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্ত মায়েদের টানাপোড়েন দেখবার ওভাববার মতো। এইসব মায়েরাই সারাক্ষণ লোকে কি ভাববে এই অযুহাতে বাবার অনুশাসন ওরফে রাষ্ট্রের যান্ত্রিক অনুশাসন গুলি কায়েম রাখেন। আর নিম্ন আয়ের পরিবারে মায়েদের এসব নিয়ে ভাবার অবকাশ তেমন একটা থাকেনা কিন্তু তারাও যে বাবাদের প্রতিচ্ছায়া থেকে বেরিয়ে আসেন তেমনটা নয়।

রাষ্ট্র নামক যন্ত্রটাকে অস্বীকার করার প্রথম ধাপ মা ওরফে বাবার অনুশাসন ওরফে পরিবার তন্ত্রের অনুশাসন কে নাকচ করা। পরিবার নামক ইন্সটিটিউশনের মধ্য দিয়েই রাষ্ট্র নামক ইন্সটিটিউশন আরামসে নাকে তেল দিয়ে ঘুমায়। কেননা রাষ্ট খুব ভালো করেই জানে এক একটা পরিবারে বাবারাই হলেন সেই স্বৈরশাসক ,যাদের হুকুমের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্র প্রদত্ত নর্মসগুলোর হুবহু ও যথাযথ পালন হয়। আর সেই ভূমিকায় সবচ্যে যিনি অগ্রসর থাকেন তিনি মাতা।

মা যিনি পিতার চিন্তা দ্বারাই পরিচালিত হয়ে আসছেন পুরুষ যখন থেকে ব্যক্তিগত সমপ্ততির মালিকানা লাভ করলো। কেননা মা এক দীর্ঘ পিতৃতান্ত্রিক চিন্তার ফসল বহন করে নিয়ে এসেছেন বংশ পরম্পরায়।

প্রথম যেদিন আমি নিজে ডিভোর্সের কথা বলেছিলাম আমার মাকে। বলেছিলাম আমি চাকরি করবোনা, লেখক হবো ,ফিল্মমেকার হবো– তিনি রীতিমতো আঁতকে উঠে বলেছিলেন এসব ব্যাপার পাত্তা না দিতে, মাথাতেও না আনতে , মানিয়ে গুছিয়ে নিতে। এখানেও মায়েরা চিন্তিত যতখানি আমার ভবিষ্যত নিয়ে তার থেকেও বেশি রাষ্ট্র কর্তৃক যে স্বাভাবিক জীবনাচারন তার ব্যতয় ঘটিয়ে তার মেয়েটি অথবা তার ছেলেটি ভাগাবন্ড বনে না যায়। কারণ রাষ্ট্রে ভ্যাগাবন্ডদের কোন আশ্রয় নেই কেননা ভ্যাগাবন্ড সরাসরি কোন উৎপাদন এর সাথে যুক্ত নয়। এই যে মায়েদের ভূমিকা তা শিক্ষিত ,অর্ধশিক্ষিত, অশিক্ষিত বেশিরভাগ মায়েদের ক্ষত্রেই সত্য হওয়ার সমভাবনা রয়েছে। এই ‘বেশিরভাগ ” ঠিক কত পার্সেন্ট তা ভাবলেও আমি আতকে উঠছি।

তবে একথা সত্যি আমি মায়ের কাছে প্রথম শুনেছিলাম “নারীর অর্থনৈতিক মুক্তির কথা” যদিও তাকে সে মুক্তির স্বাদ নিতে কখনোই দেখিনি। মা বলতে আজ আর কিছু অবশিষ্ট নাই আমার চেতনায়। আমি নিজে কখনোই মা হওয়ার অনুভব দ্বারা ত্বাড়িত হয়নি। হয়তোবা স্নেহের নামে রাষ্ট্র প্রদত্ত নর্মসের খুটি হওয়ার ভয়টা মনে প্রবল হয়ে আছে।

পিতার ওরফে পুরুষের ওরফে রাষ্ট্রের শৃঙ্খল থেকে বেরিয়ে আসুক ভবিষ্যতের মায়েরা।

  • লাবনী আক্তার, লেখক ও শিক্ষানবিস নির্মাতা
সংবাদ২৪-এ প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব।
প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত পত্রিকার সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে 
এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় 
কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়।

বিজ্ঞাপন

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

আরও পড়ুন
Loading...
DMCA.com Protection Status