বিপন্ন উদালের ঔষধি গুণাগুণ

বিজ্ঞাপন

উদাল গ্রাম বাংলার মানুষের কাছে খুবই জনপ্রিয় একটি উদ্ভিদ। উদাল’ ছাড়াও কোনো কোনো অঞ্চলে ‘চালা’ নামে পরিচিত এ গাছটি। দক্ষিণ এশিয়ান একটি উদ্ভিদ প্রজাতি হলেও এটি এখন এই অঞ্চলেই বিপন্ন প্রায়।

বাংলাদেশের গ্রামগঞ্জের চিরচেনা এই গাছটি এখন তরুণ প্রজন্মের কাছে অচেনা। কিন্তু এই উদাল গাছে এক সময় প্রান্তিক মানুষ  নানাবিধ সমস্যার সমাধান খুঁজতেন।

কাঠ হিসেবে এই গাছের কদর নেই। কিন্তু এর কদর ছিলো তার ঔষুধিগুণে। আর ছিলো মানুষের দৈনন্দিন কাজের রশি তৈরির উপকরণ।

যৌনক্ষমতা বৃদ্ধিতে উদালগাছের ফুল ও ছাল উপকারী হিসেবে প্রচলিত রয়েছে। আমাশয়েও এটি বেশ কার্যকর ভূমিকা পালন করে বলে প্রবীনরা মত দিয়েছেন।মহিলাদের ঋতুস্রাব নিয়মিতকরণেও এর উপকার রয়েছে।

বাড়িতে তৈরি বেলের শরবত কেন খাবেন?তবে বৈজ্ঞানিকভাবে এর তিনটি গুণাগুণে সম্পর্কে বলা হয়েছে। প্রকৃতিবিদ দ্বীজেন শর্মার ‘ফুলগুলি যেন কথা’ গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে এই গাছের কথা। তিনি লিখেন- এর বাকলের শরবত খেলে শরীর ঠাণ্ডা থাকে। ফুলের বৃন্ত ছেঁচে জলের সঙ্গে চিনি দিয়ে শরবত করে খেলে প্রস্রাবের সমস্যা ও বাতের ব্যথা দূর হয়।

 

শুধু তাই নয়, এই গাছে এক ধরণের ফল হয়। যা ভাজি করে গ্রামের মানুষ খেতেন। শিশুদের কাছে এটি বেশ জনপ্রিয় ছিলো।৯০ দশকের আগেও যারা বাংলাদের পাহাড়ী জনপদে বেড়ে ওঠেছেন তারা উদালের বিচি-কে ভালো করে চিনে থাকেন।

এছাড়া কৃষকদের কাছে উদাল বিশেষভাবে পরিচিত। কারণ এর বাকল থেকে এক ধরনের আঁশ পাওয়া যায়, সে আঁশ দিয়ে মোটা রশি তৈরি করা হয়। গাছকে বাঁচিয়ে রেখে বছরে একবার তার ছাল তুলে নেয়া হতো। অনেক ক্ষেত্রে তা কেটে ফেলাও হতো। আবার তার বীজে চাষও করা হতো।

উদালের ইংরেজি নাম Hairy Sterculia বা Elephant rope tree বৈজ্ঞানিক নাম হচ্ছে Sterculia villosa. এটি Malvaceae পরিবারভুক্ত। উদাল বাংলাদেশসহ ক্রান্তীয় এশিয়ার একটি প্রজাতি।

উদাল ২০ মিটার বা ততোধিক উঁচু পত্রমোচী মাথা ছড়ান গাছ। এদের বাকল সাদাটে রঙের। এদের পাতার বোঁটা লম্বা, ফলক বড় ও পাতা খাঁজকাটা, পাতার প্রশাখার আগায় পাতা ঘনবদ্ধ। এদের নিষ্পত্র শাখার লম্বা, ও ঝুলন্ত ডাঁটায় অনেকগুলি ফুল হয়, ফুল পুংলিঙ্গ ও উভয়লিঙ্গ, ফুল ১.৫ সেমি চওড়া। ফুলগুলি হলুদ রঙের, ফুলের ভেতর বেগুনি। এদের ডাঁটায় একসঙ্গে কয়েকটি রোমশ বিদারী শুষ্ক ফল গুচ্ছবদ্ধ, পাকলে গাঢ় লাল।

এই বৃক্ষটি বাংলাদেশ থেকে প্রায় বিপন্ন। যার কারণে বাংলাদেশের ২০১২ সালের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনের তফসিল-৪ অনুযায়ী এ প্রজাতিটি সংরক্ষিত ঘোষণা করা হয়।

আমাদের আশপাশে একটি উদাল থাকলেও তাকে যেন বাঁচিয়ে রাখি। মনে রাখবেন এর বংশ বিস্তারের ক্ষমতা অনেক। আপনি গাছটির বীজ কুড়িয়ে অন্যত্র রেখে দিলে সেখানে চারা গজিয়ে যাবে। এভাবে তার বিস্তার করতেও সহায়তা করতে পারেন।

 

বিজ্ঞাপন

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

আরও পড়ুন
Loading...
DMCA.com Protection Status