তবু কেনো রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র?

বিজ্ঞাপন

সুপার সাইক্লোন আম্পানের পর আবারও সুন্দরবন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। যে সুন্দরবন আইলা, সিডর, নার্গিস, বুলবুল, মহাসেন- এরকম কতো ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলা করে আমাদের রক্ষা করছে। কিন্তু আমরা কি সুন্দরবনকে রক্ষা করতে পারবো?

দুর্যোগ ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে সুন্দরবন না থাকলে ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরের অবস্থা পশ্চিমবঙ্গের মতো হতো।
যেখানে ভয়াবহ তাণ্ডবে অসংখ্য ঘর বাড়ি, গাছপালা ভেঙে পরেছে। প্রায় ৮০ জন নিহত হয়েছেন।

এমনিতেই জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ সামনের সারিতে আছে। কিন্তু ক্ষতিপূরণ পাওয়া এবং দিবসভেদে সভা সেমিনার ছাড়া এগুলো নিয়ে সরকারের তরফে খুব একটা মাথাব্যথা আছে বলে মনে হয় না।
যদিও আমাদের সংবিধানের ১৮ ক অনুচ্ছেদে রাষ্ট্র বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নাগরিকদের জন্যে পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়ন করবেন এবং প্রাকৃতিক সম্পদ, জীব-বৈচিত্র্য, জলাভূমি, বন ও বন্যপ্রাণীর সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা বিধান করার কথা বলা আছে।

একটা দেশের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষার জন্যে ২৫ ভাগ বনভূমি থাকা প্রয়োজন সেই স্কুল জীবন থেকে পড়ে আসছি। কিন্তু সরকারের দলিলেই আছে আমাদের বনভূমির পরিমাণ ১৬ ভাগ। ধারণা করা যায় বাস্তবে তার পরিমাণ আরো কম হবে। কাজীর গরু কিতাবে আছে গোয়ালে নেইয়ের মতো এখানেও সেই আশংকা অমূলক নয়। কারণ আমরা প্রতিনিয়তই গণমাধ্যমের কল্যাণে দেখছি পাহাড় জঙ্গল ধ্বংসের চিত্র। এছাড়া মায়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বসতি স্থাপন করতে কক্সবাজারের উখিয়া, টেকনাফের বিরাট এলাকায় কীভাবে বনজঙ্গল উজাড় হয়েছে , পাহাড় ন্যাড়া করতে হয়েছে সবাই জানেন। সব মিলিয়ে বনভূমি যে আরো কম হবে তা সহজেই বোধগম্য।
অন্যদিকে সাধারণ মানুষ যেসব গাছপালা লাগাচ্ছেন তার অনেকগুলোই আমাদের পরিবেশের সাথে মানানসই নয়। এমন কিছু গাছপালা লাগানো হচ্ছে যে গাছে পাখি বসে না, গাছের গোড়ায় ঘাস জন্মে না। অনেক গাছ প্রচুর পানি শোষণ করে। তাৎক্ষণিক লাভের জন্যে এগুলো মানুষ লাগাচ্ছে কিন্তু এগুলো যে পরিবেশের জন্যে ক্ষতিকর সেটাও হয়তো তারা জানেন না। আবার দেশীয় ফলজ উদ্ভিদ লাগাতে এখন আর তেমন দেখা যায় না। সেটা হলে আবার পুষ্টি ও পরিবেশ উভয় দিকই রক্ষা পেতো।

এদিকে পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল সুন্দরবনের ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছে শঙ্কা। রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করতে সরকার মরিয়া হলেও অনেক পরিবেশবিদ, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ সচেতন ব্যক্তিবর্গ এবং জনসাধারণের অবস্থান এর বিপক্ষে। সরকার যদিও বলছে এতে সুন্দরবনের কোনো ক্ষতি হবে না। যদি শেষ পর্যন্ত এখানে বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন হয়েই যায় এবং তা কোনোভাবে এই বনের ক্ষতি করে তাহলে বনভূমির পরিমাণ কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে তা সহজেই বোধগম্য।

এদিকে গত ১৮ মে ২০২০ দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকা একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনোমিকস ফাইনান্সিয়াল অ্যানালাইসিস (আইইইএফএ) তাদের গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে আমাদের ৫৭ ভাগ বিদ্যুৎকেন্দ্র অলস পরে আছে যার কেন্দ্র ভাড়া দিয়ে যাচ্ছে সরকার বছরের পর বছর ধরে। গত অর্থ বছরে এ বাবদ ৯ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেয়া হয়েছে। এছাড়া গত বছরের ২৩ আগস্ট দৈনিক প্রথম আলো ‘চাহিদা নেই, তবু নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র’ শিরোনামে প্রতিবেদনে ৫০ ভাগ কেন্দ্র অলস পরে আছে উল্লেখ করে বলেছিলো, কেন্দ্র ভাড়া বাবদ খরচ দেয়ায় বিদ্যুতের মূল্য বেশি দিতে হচ্ছে।

একদিকে বিশ্ব-ঐতিহ্য সুন্দরবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি অন্যদিকে দেশের ৫৭ ভাগ বিদ্যুৎকেন্দ্র অলস পরে আছে, মাসে মাসে মোটা অংকের ভাড়া গুনতে হচ্ছে। এ অবস্থায় রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন কতোটা যৌক্তিক? আর সেটা রামপালেই করতে হবে কেনো? প্রশ্নগুলো রয়েই যায়।

লেখক: শিক্ষক ও কবি 

সংবাদ২৪-এ প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব।
প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত পত্রিকার সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে 
এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় 
কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়।

বিজ্ঞাপন

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

আরও পড়ুন
Loading...
DMCA.com Protection Status